অবসরে সমাজসেবাই ছিল তার নেশা

fazlul karimরাজধানীর রামপুরা থানাধীন ওয়াপদা রোডের নিজ বাড়ির ফ্ল্যাটে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুল করিম খান (৬৯) নিহতের ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এলাকার সাধুজন হিসেবে পরিচিত এ ব্যক্তির খুন হওয়ার সংবাদ শুনে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে চলে গেছেন তার ঢাকার বাসায়।

সিরাজদিখানের মুরব্বি, স্কুল, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নির্মাতা, অত্যন্ত চৌকস এই পুলিশ কর্তকর্তার হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এলাকাবাসীর রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন অভিমত। অবসরের পর সমাজসেবা নিয়ে ব্যস্ত থাকা এই পুলিশ কর্মকর্তা সম্পর্কে কেউ বলছেন পুলিশে কর্মরত থাকা অবস্থায় ফজলুল করিম অনেক দুর্ধর্ষ ও মারাত্মক অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করায় তাদেরই কেউ এ কাজ ঘটিয়ে থাকতে পারে। আবার কেউ বলছেন সম্প্রতি ফজলুল করিম একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধীদের সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের সম্পর্কে অনেক স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় কথা বলেছিলেন- এ কারণেই যুদ্ধাপরাধীদের লোকজন তাকে হত্যা করতে পারে।


নিহত ফজলুল করিম মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতুব্দি ইউনিয়নের ইসলামবাগ (রামকৃষ্ণাদি) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় মিয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের বর্তমান সভাপতি। মিয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শেখ ফজলুল করিম জানান, নিহত ফজলুল করিম একজন ভাল লোক ছিলেন। এলাকায় তার কোন শক্র ছিল না। তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবক।

সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোরকে জানান, নিহত ফজলুল করিম এলাকায় একজন ভাল লোক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ নানান সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন এ এলাকার একজন মুরব্বি। অবসরের পর সমাজসেবাই হয়ে উঠেছিল তার নেশা। তার এ রকম মৃত্যুতে সিরাজদিখানবাসী স্তম্ভিত।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে জেলার সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দি ইউনিয়নের ইসলামবাগ (রামকৃষ্ণাদি) গ্রামে জানাযা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে মায়ের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর