রাজধানীতে পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা খুন

fazlul karimরাজধানীর রামপুরায় নিজ বাসায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হয়েছেন সিআইডি (ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এএসপি ফজলুল করিম খান (৬৮)। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পশ্চিম রামপুরাস্থ ওয়াপদা রোডের ৭৫/২ নম্বরের নিজ বাড়ির ৩ তলায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। পরে সিআইডি, পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

পুলিশ জানায়, ৫ম তলা বিশিষ্ট ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় ফজলুল করিম পরিবারসহ বসবাস করতেন। ৩ সন্ত্রাসী ওই বাড়ির তৃতীয় রিডিং রুমে ঢুকে ফজলুল করিমের মাথায় গুলি করেন। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সোয়া ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী আফরোজা খান স্বপ্না কান্না জড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, সকাল সাড়ে ৯ টায় গুলশানে তার মেয়ে ফারজানা করিম খান ওরফে বাঁধনের বাসায় যাবার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন তিনি। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আনুমানিক ২৬ বছর বয়সী কালো শার্ট পরিহিত এক যুবককে তিনি ওপড়ে উঠতে দেখেন। যুবকের পরিচয় জানতে চাওয়া মাত্রই যুবকটি পকেট থেকে অস্ত্র বের করে তাকে তার বাসার বেডরুমে নিয়ে আটকে রাখে। পরে ভয়ে তিনি রুমের দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় দক্ষিণ পাশের রিডিং রুমে সংবাদপত্র পড়ছিলেন ফজলুল করিম। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শোনেন তিনি।

তিনি জানান, যুবকটি পালিয়ে যাওয়ার সময় তার গলার স্বর্ণের চেইনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

নিহতের বাসার গৃহকর্মী আজাদ (১২) জানায়, সকালে ৩ যুবক জোরপূর্বক বাসায় প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে তার শার্ট ধরে বাসার বারান্দায় আটকে রাখে এবং চিৎকার করলে গুলি করবে বলে। পরে সে বারান্দার জানাল দিয়ে তার মালিকের কপালে গুলি করতে দেখে। সন্ত্রাসীরা চলে গেলে বাসার গাড়ির চালক এসে দরজা খুলে মালিকের স্ত্রীকে বের করে। পরে মালিককে নিয়ে হাসপাতালে যায়।

এদিকে এদিকে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে নিহতের একমাত্র মেয়ে ফারজানা করিম বাঁধনের ধারণা।

হাসপাতালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তার চাচাতো ভাইদের সঙ্গে ফজলুল হকের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে সমঝোতার চেষ্টাও করা হয়েছে। বুধবার ফজলুল করিম মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের রামকৃষ্ণদি গ্রাম থেকে ঢাকায় আসনে।

হাসপাতালে নিহত ফজলুল করিমের গাড়িচালক লিটন সাংবাদিকদের জানান, সকালে স্যার যখন পেপার পড়ছিলেন সে সময় ৩/৪ জন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত বাসায় ঢুকে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। এর আগে স্যারের নাস্তা খাওয়া অবস্থায় আমি গাড়ির কাছে যাই। সেখানে থাকা অবস্থায় ২/৩ রাউন্ড গুলির শব্দ হলে সেদিকে তাকিয়ে দেখি অস্ত্রধারীরা পালিয়ে যাচ্ছে। অচেতন অবস্থায় স্যারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রামপুরা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন খান ঢাকা রিপোর্টকে জানান, যতটুকু জেনেছি তাতে অবসর প্রাপ্ত এই কর্মকর্তা বাসায় ড্রইং রুমে বসে থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসীরা দরজা দিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তারপর ওয়াপদা রোড দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় বাসার দরজা খোলাই ছিলো। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ছাড়াও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টির তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, রামপুরা ওয়াপদা রোডের মাথায়

একটি জামে মসজিদে তিনি নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। তার বাসার পাশের গলির পাশের গলিটি নীরব থাকায় সেখানে মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের আস্তানা ছিল। তিনি প্রায়ই ওইসব মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের ধমকাতেন। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি।

তাছাড়া নির্মাণাধীন ওই জামে মসজিদের একজন প্রকৌশলী মসজিদ নির্মাণ করছিলেন। স্থানীয় একাধিক সন্ত্রাসী তার কাছে চাঁদা চেয়েছিল। না দেয়ায় তাকে রাতের আধারে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তিনি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এসব কারণে স্থানীয় সন্ত্রাসীরাও তাকে হত্যা করতে পারে বলে সূত্রটির ধারণা।

নিহতের বন্ধু সাবেক খেলোয়াড় সৈয়দ বজলুর রহমান কিসলু ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরমান আলী জানান, ১৯৬৬ সালে ইস্ট পাকিস্তান ফায়ার সার্ভিসে সহকারী স্টেশন অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ফজলুল করিম। তিনি ভাল ফুটবলারও ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত অবস্থায় ফায়ার সার্ভিস ফুটবল টুর্নামেন্টেও খেলেছেন। এরপর ফায়ার সার্ভিস ছেড়ে ১৯৬৯ সালে পুলিশের এএসআই পদে যোগদান করেন।

রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য স্থানের বিভিন্ন থানায় ওসি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার কর্মদক্ষতায় বিপিএম ও পিপিএম পদকে ভূষিত হন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে সিআইডিতে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে।

পরবর্তীতে ২০০৭ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকেই অবসরে যান তিনি।

ফজলুল করিমের চৌকস ও অসম সাহসী কর্মতৎপরতার কারণে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ধরা পড়ে অসংখ্য দুর্ধর্ষ ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী-অপরাধী। কমে যায় অপরাধমূলক, সন্ত্রাসী ও সমাজবিরোধী কার্যক্রম। ফজলুল করিমের কারণে তটস্থ হয়ে থাকতো অপরাধীরাও। অপরাধের সুযোগ না পাওয়া বা আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী কাজ করে পার না পাওয়া সেসব সন্ত্রাসীদের ক্ষোভ-প্রতিহিংসার বলি তাকে হতে হলো কিনা সে প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

ফজলুল করিমের শ্যালক তৌহিদ তৌহিদ কাশেম খান প্রিন্সও একই আশঙ্কা ব্যক্ত করে জানান, বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত করেছেন তিনি। আর এ কারণেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে সন্ত্রাসীরা।

আশির দশকের একাধিক অপরাধ প্রতিবেদক জানান, আশির দশকে ফজলুল করিম ছিলেন একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী পুলিশ কর্মকর্তা। ওই সময়ে রাজধানীতে ব্যাংক ডাকাতিসহ ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও ছিলেন পারদর্শী। চৌকস এই কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার ওসি থাকাকালীন এএসপি হিসেবে পদোন্নতি পান। তৎকালীন সময়ে তাকে গাজীপুরে এএসপি হিসেবে বদলী করা হয়।

সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তার কাজের স্বাক্ষর রাখেন তিনি। বেশ কয়েক বছর আগে গাজীপুর বন বিভাগের একাধিক বন কর্মীকে হত্যার পর আগ্নেয়াস্ত্র লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা। ফজলুল করিম সেখানে যোগদানের পর পুরনো নথি ঘাটতে গিয়ে তার অনুসন্ধানী চোখে ধরা পড়ে এ ঘটনাটি।

তিনি আগ্রহের সাথে সরকারের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারে মাঠে নামেন। বেশ কিছুদিন চেষ্টার পর গোপন সংবাদের মাধ্যমে এ চাঞ্চল্যকর বনরক্ষী হত্যা ও আগ্নেয়াস্ত্র লুটের ঘটনায় জড়িত একাধিক দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। এ ঘটনার পর সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর তার একের পর এক চাঞ্চল্যকর মামলায় জড়িতদের গ্রেফতার করেন। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সোনালী ব্যাংক ডাকাতি, ঢামেক হাসপাতালের ফজলে রাব্বি হল এলাকায় জোড়া খুন, দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার মোকিম গাজী, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাং ডাকাতি, ব্যাংক জালিয়াত চক্রসহ অসংখ্য চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে সক্ষম একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন ফজলুল করিম।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর
==============

ঘরে ঢুকে খুন সাবেক সিআইডি কর্মকর্তাকে

রাজধানীর রামপুরায় ঘরে ঢুকে স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সিআইডির সাবেক এক কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডে নিজের পাঁচতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত ফজলুল করিম (৬০) ছয় বছর আগে অবসর নিয়ে নিজের ওই বাড়িতে সপরিবারে থাকতেন। কর্মজীবনে তিনি এক দক্ষ কর্মকর্তা ছিলেন বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছে।

কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে- তা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ঘাটন করতে না পারলেও নিহতের মেয়ের সন্দেহ, সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধই এর কারণ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানান, কয়েকজন সন্ত্রাসী বাসায় ঢুকে ফজলুল করিমকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
18_CID+Police+Murder_290813
গাড়িচালক ও ভাড়াটিয়ারা ফজলুল করিমকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান।

ফজলুল করিমের মৃত্যুর খবরে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে যান।

সিআইডির বিশেষ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঊনিশশ আশির দশকে কয়েকটি আলোচিত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ফজলুল করিম।

ঘটনার বর্ণনা

নিজের পাঁচতলা ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন ফজলুল করিম।

নিহতের শ্যালক তৌহিদ কাশেম খান প্রিন্স হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, ফজলুল করিমের স্ত্রী স্বপ্না করিম সকালে গুলশানে মেয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়েই তৃতীয় তলার সিঁড়িতে অস্ত্র হাতে এক যুবককে দেখতে পান।

আতঙ্কিত স্বপ্না ওই যুবকের কাছে জানতে চান, সে কাকে খুঁজছে। তখন সে অস্ত্রের মুখে স্বপ্নাকে আবার বাসায় ঢুকতে বাধ্য করে এবং তার ডাকে নিচ থেকে আরো দুই যুবক তৃতীয় তলায় উঠে আসে।

তারা স্বপ্নাকে একটি ঘরে আটকে রেখে ফজলুল করিমকে গুলি করে পালিয়ে যায় বলে প্রিন্স জানান।

“ওই সময় বাসায় অল্প বয়সী এক কাজের ছেলে ছিল। সে তিনটি গুলির আওয়াজ পাওয়ার কথা বলেছে,” বলেন প্রিন্স।
Rampura-police-murder-ed
তবে ফজলুল করিমের মাথায় একটি গুলির চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ।

ফজলুল ও স্বপ্না করিম ছাড়া দুই শিশু গৃহকর্মী তখন ওই বাসায় ছিল বলে প্রিন্স জানান।

ফজলুল করিম বাড়ির তিন তলার পুরোটাজুড়ে পরিবার নিয়ে থাকতেন। আর বাকি চারটি তলায় থাকে মোট আটটি পরিবার।

বাড়ির সামনে তিন কাঠার মতো খালি জায়গায় একটি গ্যারেজ ও ড্রাইভারের থাকার ঘর। ড্রাইভার লিটন ওই ঘরেই থাকেন।

কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি ফজলুল করিমের প্রতিবেশীরা।

১০ বছর ধরে নিচ তলার ভাড়াটিয়া সাইদুর রহমান সন্দেহ করার মতো কারো নাম বলতে পারেননি। এমনকি গুলির শব্দও তিনি শোনেননি বলে দাবি করেছেন।

সাইদুর বলেন, “ড্রাইভার লিটন সকালে এসে দরজা ধাক্কাতে শুরু করে। সে জানায়, কারা যেন বাড়িওয়ালাকে গুলি করেছে। পরে তার সঙ্গে ওপরে গিয়ে দেখি এই অবস্থা।”

প্রতিবেশীদের সহযোগিতা নিয়ে লিটনই পরে ফজলুল করিমকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ওই বাড়ির ঠিক বাইরেই মায়ের দোয়া জেনারেল স্টোরের মালিক মো. শাকিল হোসেন বলেন, যে সময় ঘটনা ঘটেছে বলা হচ্ছে, তখন তিনি দোকানেই ছিলেন। কিন্তু সন্দেহজনক কাউকে ওই বাড়িতে ঢুকতে বা বের হতে দেখেননি।

পারিবারিক বিরোধ?

ফজলুল করিম হত্যার ঘটনায় পুলিশ কাউকে চিহ্নিত করতে না পারলেও তার মেয়ে ফারজানা করিম বাঁধনের সন্দেহ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে নিকট আত্মীয়রাই তার বাবাকে হত্যা করেছে।

ফজলুল করিমের ভাইয়ের ছেলেদের সঙ্গে তার পরিবারের সম্পর্ক যে ভাল ছিল না, আরেক আত্মীয়র কথা থেকেও তা উঠে এসেছে।

ফারজানা ঢাকা মেডিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের রামকৃষ্ণদি গ্রামে তাদের বাড়ি। সেখানে একটি বাড়ি নিয়ে চাচার পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল।

20_CID+Police+Murder_290813

তার বাবাকে কেন হত্যা করা হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওদের ধরুন। তাহলেই কারণ জানা যাবে।”

সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার দূর সম্পর্কের ভাতিজা সাজিদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ফজলুল করিমের ভাই বজলুল করিম বেশ কিছুদিন আগে মারা গেছেন। তার দুই ছেলে শান্ত ও রুবেলের সঙ্গে ফারজানাদের পরিবারের সম্পর্ক ভাল ছিল না।

এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ছেলেগুলো বখাটে, পড়ালেখা করেনি। এই কারণে চাচাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল না।”

গ্রামের বাড়িতে ফজলুল করিম রামকৃষ্ণদি কওমি মাদ্রাসা নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালাতেন বলেও সাজিদ জানান।

তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে একটি টেলিভিশনে টক শো করেন চাচা। তারপর থেকে তাকে কয়েকবার হুমকি দেয়া হয় বলে শুনেছি।”

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

ফজলুল করিমের বাসা ঘুরে দেখে মতিঝিল পুলিশের উপ কমিশনার মো. আশরাফুজ্জআমান সাংবাদিকদের বলেন, “সিআইডি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। এখনই মোটিভ বলা সম্ভব হচ্ছে না।”

সহকর্মীদের চোখে ‘দক্ষ’

নিহত ফজলুল করিম কর্মজীবনে চাঞ্চল্যকর অনেক ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে বলে সহকর্মীরা জানান।

১৯৭৫ সালের এক রাতে রাজবাড়ীর পাংশা থানায় সর্বহারা পার্টি অস্ত্রাগার লুটের জন্য আক্রমণ করে, ফজলুল করিম তখন ছিলেন ওই থানার ওসি।

“ভয়ে অন্য অফিসাররা থানা থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু তিনি (ফজলুল) এক কনস্টেবলকে নিয়ে থানায় ছিলেন। সারারাত থানার ভেতরে থেকে লড়াই চালিয়ে যান। ভোর ৫টার দিকে দলের তিনজনের লাশ রেখে অন্য সর্বহারারা পালিয়ে যায়।”

কর্মজীবনে ফজলুল করিমের দক্ষতার কথা তুলে ধরে এই স্মৃতিচারণ তার এক সময়ের সহকর্মী সহকারী পুলিশ সুপার খালেকুজ্জামানের।

খালেকুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওই ঘটনায় সরকার ফজলুল করিমকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) দিয়েছিল।

সিআইডির সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ছয় বছর আগে অবসর নিয়ে রামপুরায় নিজের বাড়িতে থাকতেন। ওয়াপদা রোডের ওই বাড়িতে ঢুকেই সকালে একদল দুর্বৃত্ত তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

fazlul karim
’৮০ দশকে মগবাজার এলাকার একটি বাড়িতে ডাকাতির তদন্তের কথা তুলে ধরেন ফজলুল করিমের সহকর্মী পুলিশ পরিদর্শক ইন্তেজার রহমান।

‘রায়পুর হাউজ’ নামে এক বাড়িতে এক মহিলা ঢুকে গৃহিনীর শিশুসন্তানকে জিম্মি করে সোনা-গহনা ও টাকা পয়সা নিয়ে গিয়েছিল, যার তদন্ত করেন ফজলুল করিম।

“তিনি (ফজলুল করিম) ভিকটিম মহিলাকে মাত্র দুটি প্রশ্ন করেছিলেন, তারপর দু্’দিনের মধ্যে পারভীন ববি নামে অপরাধী মহিলাকে গ্রেপ্তার করেন,” বলেন ইন্তেজার।

নিহতের আরেক সহকর্মী সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন ১৯৮৯ সালে মতিঝিলের এএনজেড গ্রীনলেজ ব্যাংকে ৫০ লাখ টাকা ডাকাতির কথা।

“স্যার (ফজলুল করিম) যাত্রাবাড়ী পরিবহন শ্রমিক নেতা হিরুসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন, যা ওই সময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।”

ওই বছর রাজধানীতে চালক ও তার দুই সহযোগী হত্যাকাণ্ডের তদন্তের কথাও বলেন সাইফুল।

কেরানীগঞ্জের এক প্রভাবশালীর গুদাম থেকে ওই ট্রাকের লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করেছিলেনন ফজলুল করিম।

বর্তমান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর কাজ করেছিলেন ফজলুল করিমের সঙ্গে। জুরাইনের ব্যাবসায়ী আলম হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদে ফজলুল করিমের দক্ষতার পরিচয় পেয়েছিলেন তিনি।

“বর্তমানে অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ আছে। কিন্তু সে সময়ে অনেক ‘ক্লু লেস’ ঘটনার কারণ তিনি তদন্ত করে বের করে ফেলতেন।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর