ফলোআপ : আহত যুবদল নেতাকে যুবলীগ ক্যাডারের হুমকি

মুন্সীগঞ্জে পৌর কাউন্সিলর, যুবলীগ ক্যাডারের হুঙ্কারে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবদল নেতা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ছুরিকাহত চিকিৎসাধীন শহর যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীরকে (৩৫) রোববার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে হত্যার হুমকি দেয় পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে আরো কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ক্যাডার ছিল বলে যুবদল নেতা হুমায়ুন কবীর জানান। তিনি জানান, তাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রথমে হুমকি দেয়। পরে বলে হাত-পা ভেঙে এক ঘন্টার মধ্যে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হবে। যাবার সময় বলে তোকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়া হবে। এ সময় হাসপাতালের রোগিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি তাৎক্ষনিক মুন্সীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের উবর্ধতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়।


এদিকে, মাদক বেচাকেনায় বাঁধা দেয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় যুবদল নেতা ও তার বোনকে ছুরিকাহত করার ঘটনার ২দিন পর ওই পৌর কাউন্সিলরসহ ৫ জনকে আসামি করে রোববার সদর থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি (প্রশাসন) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আজ বিকেলে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, পৌর কাউন্সিলর তাকে জানিয়েছেন, হাসপাতালে তিনি যুবদল নেতাকে দেখতে গিয়েছিল।

এদিকে, রাজন নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে শনিবার রাত ১০টার মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায় কাউন্সিলর জাকির হোসেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে কাউন্টার মামলা দিয়ে যুবদল নেতাকে আসামি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


যুবদল নেতা হুমায়ুন কবীর জানান, পাঁচঘড়িয়াকান্দি গ্রামের মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর, শহর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও তার স্বজনদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বেঁচাকেনা চলছে। তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় খুন, চাঁদাবাজি, মাদক, চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের এসব কাজে বাধা দেয়া ও প্রতিবাদ করায় শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এলে জাকিরের হুকুমে ভাগিনা মাহমুদুল হাসান সাগর ও তার সৎভাই আল-আমিন গং আমাকে অস্ত্র নিয়ে হত্যা করার জন্য তেড়ে আসে। এ সময় আমি জীবন বাঁচাতে দৌড়ে বাড়িমুখী হই। বাড়িতে গিয়েই কাউন্সিলর জাকিরের ভাগিনা মাহমুদুল হাসান সাগর ও তার সৎভাইসহ ৮-১০ জনের একদল মাদক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আমার শরীরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় আমার বোন এগিয়ে এলে তাকেও মারধর ও হাতে ছুরিকাঘাত করে।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে কাউন্সিলর জাকির হোসেন, তার ভাগিনা মাহমুদুল হাসান সাগর, সৎভাই আল-আমিন, কাইয়ুম, আসলাম ও আলমগীরকে এজাহারনামীয় আসামি ও অজ্ঞাত নামা আরো ১০-১২জনকে আসামি করে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলার বাদী হয়েছেন ছুরিকাহত শহর যুবদলের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি