মাওয়ায় যাত্রী পেলেও কাওড়াকান্দি থেকে ফিরছে খালি লঞ্চ

মালিকপক্ষের অনুমতি ছাড়া একটি লঞ্চ চলাচলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে এ পথে চলাচলকারী যাত্রীদেরকে শুক্রবার সকাল থেকেই ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। বৃহস্পতিবার সকালে মালিকপক্ষের অনুমতিহীন ইয়াকুব বেপারীর ‘শাহ পরান’ লঞ্চটি কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মাওয়া ঘাটে এলে একদল শ্রমিক তাতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

এ ঘটনায় পর মাওয়া থেকে যাত্রী নিয়ে কাওড়াকান্দি ঘাটে যাওয়া লঞ্চগুলোয় ইয়াকুব বেপারীর লোকজন যাত্রী তুলতে বাধা দেয়। ফলে এ লঞ্চগুলো যাত্রী ছাড়াই আবার মাওয়া ঘাটে চলে আসে।

এ অবস্থায় কাওড়াকান্দি ঘাটে লঞ্চ না পেয়ে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তাদেরকে ট্রলারে বা স্পিডবোটে করে নদী পার হতে হচ্ছে।


শাহ পরান লঞ্চের মালিক ইয়াকুব বেপারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার লঞ্চটির রুট পারমিট, ফিটনেসসহ সরকারি সকল কাগজপত্র ঠিক থাকলেও লঞ্চ মালিক সমিতির চাঁদার দাবি পূরণ করতে না পারায় তারা লঞ্চটিকে চলাচল করতে দিচ্ছে না।

মাওয়া-কাওড়াকান্দি লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর চৌধুরী বলেন, ইয়াকুব বেপারী লঞ্চ বেচাকেনার ব্যবসায়ী। আগেও তিনি এ নৌ-পথে লঞ্চ চালিয়েছেন। কিন্তু অধিক টাকায় রুট পারমিটসহ লঞ্চগুলো বিক্রি করে তিনি চলে যান।

“২ মাস আগে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের উপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় আর কোনো লঞ্চ এ নৌ-পথে চলতে দেয়া হবে না। বেশি লঞ্চ হলে মালিকপক্ষ লোকসানের সম্মুখীন হবে,” বলেন তিনি।

চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন ভাস্কর চৌধুরী।

মাওয়া বন্দর কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, মাওয়া প্রান্ত থেকে যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো কাওড়াকান্দি গেলেও সেখান থেকে যাত্রীশূন্য অবস্থায় ফিরে আসছে। সঙ্কট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ এর যুগ্ম-পরিচালক (ট্রাফিক) সাইফুল হক খান বলেন, শাহ পরান লঞ্চটির রুট পারমিটসহ সকল কাগজপত্র বৈধ। মালিক সমিতির অভ্যন্তরীণ সমস্যায় সেটি বহরে যুক্ত হচ্ছে না।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর