হাতিমারা পুলিশ ফাঁড়ির এস আই তাহেরকে কে রুখবে?

অলিউর রহমান ফিরোজ: মুন্সীগঞ্জ সদর থানার রামপাল হাতিমারা ফাঁড়ির পুলিশ এখন রাক্ষসের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। ঈদের আগের দিনের ঘটনা। সিপাহীপাড়া খলিফা বাড়ীর হাজী মো. রাসেল ভূঁইয়া তার আব্দুল্লাপুরস্থ পাইক পাড়া এলাকার কিছু সম্পত্তি বিক্রির উদ্দেশ্যে সামসুল হক ডাক্তারকে নিয়ে ফাঁড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ফাঁড়ির এ এস আই মনিরের সাথে তার দেখা হয়ে যায়। এ এস আই মনির তার হোন্ডা গাড়ী থামিয়ে রাসলেকে বলেন, কিরে তুই মামলার হাজিরা দেস না কেন? এ সময় রাসেল বলেন, আমি মামলার থেকে অব্যাহতি পেয়েছি। তখন এ এস আই মনির বলেন, তাহলে তোর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট কেন? এ বলেই তাকে ধরে ফাঁড়িতে নিয়ে নিয়ে যায় এ এস আই মনির। তখন সাথে থাকা ডাক্তার সামসুল হক সাহেবও ফাঁড়িতে যায়।

ফাঁড়িতে নেয়ার পরই পুলিশদের আসল চরিত্র ফুট ওঠে। তারা তাকে বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি দেখাতে থাকে। তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যেয়ে তাকে মেরে ফেলার পর্যন্ত ভয়-ভীতি দেখান এস আই তাহের। এ সময় ডাক্তার সামসুল হক সাহেবকে বলেন, আমাদের ৬০ হাজার টাকা দিলে অস্ত্র উদ্ধারে যাবো না। তাকে কোর্টে চালান করে দিবো। সেখান থেকে জামিনে নিয়ে আসবেন। রাসেলের বিরুদ্ধে জায়গা জমি সংক্রান্ত থানায় কয়েকটি মামলা করেছে তার প্রতিপক্ষরা। তারা তাকে সিটি রাসেল বানাতেও কম কসরত করেননি। তার বিরুদ্ধে ইট চুরি, রড চুরি মামলা দিয়ে অনেক হয়রানি করেছে।

প্রতি পক্ষরা টাকার বিনিময়ে অন্য এলাকার খুনের মামলায় তাকে জড়াতে ছাড়েনি। পুলিশ টাকা হলেই যে কিছুই করতে পারে? টিআইবি’র রিপোর্টে সে চিত্র বার বার ফুটে ওঠেছে। হাতিমারা ফাড়ির একজন তাহেরের কারনে পুলিশ বিভাগের গায়ে যে কলঙ্গের চিহ্ন বসেছে তা কেন পুলিশ বিভাগ মেনে নিবে? তিনি ৬০ হাজারটাকা ছাড়া কিছুতেই রাসেলকে কোর্টে ওঠাবে না? তার কারন হলো তার পরের দিন ছিল ঈদের দিন। তাই তাকে অস্ত্র উদ্ধার এবং মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করা ছিল ডাকাতি করার মতো। অনেক জোড়াজুড়ির পর অবশেষে রাসেল ১০ হাজার টাকা দিলে তাকে থানায় নিয়ে যায় হাতিমারা ফাড়ি পুলিশ।


তখন একজন ডিআইজি মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারকে ফোন করলেও টাকা নেয়া থেকে বিরত হয়নি ফাঁড়ির মনির এবং তাহের। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফাড়ির তাহের সিপাহীপাড়ায় তল্লাশির নামে অনেক মানুষের জিনিস পত্র রেখে দেন। না দিলে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি-ধমকি পর্যন্ত দেয়। এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে রয়েছে তার সখ্য। তার মদদে এলাকায় ইয়াবার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। তার কারনেই হাতিমারা এলাকা একটি ক্রইমজোনে পরিনত হয়েছে। এলাকা মাদকে সয়লাব হয়ার পেছনে তার ভূমিকা বিরাট। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার জরুরী। একজন তহেরের জন্য পুলিশ বিভাগের অনেক সৎ ও নীকি বান পুলিশের গায়েও কলঙ্গ লাগে। এটা মেনে নেয়া যায় না। তাই মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মহোদয় বিয়টি আমলে নিয়ে গোপন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এটাই কামনা করি।