মাওয়াঘাটে যাত্রীজট: পরিবহন সঙ্কট!

মোজাম্মেল হোসেন সজল: ঈদের ছুটি, হরতাল ও ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি শেষে ঢাকাগামী ও কর্মস্থলে ফেরা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুল মানুষের পুরো ঢল এখন মাওয়া ও কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে। অসংখ্য এসব ঘরমুখো মানুষেরা কাওড়াকান্দি পৌছে পদ্মা পাড়ি দিয়ে মাওয়া ঘাট হয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন। তবে ঈদপূর্ব ঘরমুখো দক্ষিণবঙ্গের বিপুল মানুষের কর্মস্থলে ফেরায় মাওয়া ঘাটে যাত্রীবাহী পরিবহনের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে করে গত ২-৩দি ধরে মাওয়াঘাটে তীব্র যাত্রী চাপ দেখা দিয়েছে।

এদিকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কাওড়াকান্দি-মাওয়া ও মাঝিকান্দি-মাওয়া নৌপথে লঞ্চ, ট্রলারসহ প্রতিটি নৌযানে যাত্রীদের আগে ওঠার প্রতিযোগীতা চলছে। এসব নৌযানগুলো অভারলোডিং ভাবে যাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। একইসাথে পদ্মা পাড়ি দিয়ে আসা কর্মস্থলগামী মানুষের বাড়তি চাপের কারণে মাওয়া টার্মিনাল বাস কাউন্টারে সৃষ্টি হয় তীব্র জনজট। এ সময় যাত্রীদের তুলনায় পরিবহন সঙ্কটের কারণে প্রতিটি পরিবহন কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়। এ সুযোগে এক শ্রেণীর অসাধু পরিবহন মালিকরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে সড়কপথে অভারলোডিং যান চলাচলের মাধ্যমে ভাড়া আদায় করছে অতিরিক্ত। ফলে উভয় ঘাটে উপচে পড়া ভীড়ের কারণে নানা দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের ।


আবার বাস-মালিকরা আগের চেয়ে বাস চলাচল কমিয়ে দিয়েছে। এতে করে বাস-মালিকরা দু’দিক থেকেই লাভবান হচ্ছে। তাদের বাসের তেল খরচ, বাস চালক-শ্রমিক খরচ, ও লাইনসহ সেতু ভাড়া গুনতে হচ্ছে না। এক বাসে করে তারা দ্বিগুন যাত্রী নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, ঈদ শেষে এবং টানা ২দিনের হরতাল ও ১৫ ই আগস্টের সরকারি ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান করতে বাস প্রাইভেটকারসহ শত শত ছোট গাড়ি হুমড়ি খেয়ে পড়েছে কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে। এ সময় ফেরি পারাপারের যানবাহনের ভিড়ে হিমশিম খেতে হয় ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষকে । কাওড়াকান্দি ৩ টি ঘাটেই ফেরি পারাপারের যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা দেওয়ায় ঘন্টার পর ঘন্টা এসব পরিবহনকে অপেক্ষা করতে হয় ফেরিতে ওঠার জন্য । মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ১৮ টি ফেরির মধ্যে ফেরি কলমিলতা ও কাকলীসহ দুটি ফেরি মেরামতে থাকার কারণে নৌরুটে চলাচল করছে মোট ১৬ টি ফেরি । এ সময় মাওয়া ঘাটে কোন যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় না থাকলেও কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় ২শতাধিক ছোটগাড়ি ও অর্ধশতাাধিক যাত্রীবাহী বাসসহ ঘাটে আটকা পড়ে রয়েছে। আরো আটকে আছে প্রায় ২শতাধিক ট্রাক। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে যানবাহনের যাত্রীদের।

এ ব্যাপরে মাওয়া বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার বাণিজ্য চন্দ্র শেখর জানান, ওপারে যাত্রীবাহী যানবাহনের বাড়তি চাপ থাকলেও দীর্ঘসময় যানজটে কোন গাড়িকে ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। তবে নৌরুটে ১৮ টি ফেরির মধ্যে ১৬টি চলছে বলে তিনি আরো জানান ।
এদিকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কাওড়াকান্দি-মাওয়া ও মাঝিকান্দি-মাওয়া নৌপথে লঞ্চ, ট্রলারসহ প্রতিটি নৌযান অভারলোডিংভাবে যাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে মাওয়া ঘাটে আসছে । তবে পদ্মা নদী পাড় হওয়ার আগে ও পড়ে ভাড়ার নৈরাজ্যে পড়ছেন ঢাকামুখী এসব যাত্রী। যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় মাওয়া টার্মিনাল বাস কাউন্টারে সৃষ্টি হয় তীব্র জনজট। এ সময় ঢাকা মাওয়া রুটের যাত্রীদের তুলনায় পরিবহন সঙ্কটের কারণে সিটিং সার্ভিসগুলোর ৪-৫টি পরিবহন কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে ও সময় বাঁচাতে নিরুপায় যাত্রীরা দাঁড়িয়ে ও বাসের ছাদে মাওয়া ঘাট ছাড়ছেন। এতে করে চরম দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রীবাহী যানবাহনের যাত্রীরা । ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যাত্রীদের চাপের সুযোগে এক শ্রেণীর অসাধু পরিবহন মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এ সময় নির্ধারিত বাস ভাড়া ৬০টাকার স্থলে ৮০ টাকা ও ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন ।

ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট সাহাদত জানান, ঢাকাগামী যাত্রীদের তুলনায় লোকাল পরিবহন সঙ্কটের কারণে মাওয়া ঘাট টার্মিনালে যাত্রীদের প্রচুর চাপ থাকলেও কোন যানজট নেই। তবে কাওড়াকান্দি ঘাটে ফেরি পারাপারের যানবাহনের প্রচুর চাপ থাকলেও বিকেল থেকে চাপ কমে আসছে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর

Leave a Reply