তরকারি হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে শাপলা

saplaআমাদের জাতীয় ফুল শাপলা। সেই শাপলা এখন বেশ জনপ্রিয় তরকারি। বর্ষার এই মৌসুমে শাপলার যেমন হাট বসছে, তেমনি বাড়ি বাড়ি ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে শহরসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। কোন রকম পুঁজি ছাড়াই শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন সিরাজদিখানসহ জেলার কয়েকশ’ পরিবার। বর্ষার এই মৌসুমে কৃষক ও অভাবী লোকজন বেকার হয়ে শাপলা কুড়িয়ে তা বিক্রির পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন।

সূত্র মতে, বর্ষায় ডুবে যাওয়া ধান, পাট ও ধঞ্চে ক্ষেতে শাপলা বেশি জন্মায়। এছাড়া জেলার খাল-বিলগুলোতেও শাপলা ফুল জন্মে থাকে। আষাঢ় থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত পাওয়া যায় শাপলা।

শাপলা সংগ্রহকারীরা ভোরে নৌকা নিয়ে ডুবে যাওয়া জমিতে ও বিলের মধ্যে ঘুরে ঘুরে শাপলা তুলতে থাকেন।


কয়েকজন শাপলা সংগ্রহকারী জানান, এ সময়ে একেকজন কমপক্ষে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ মোঠা (৭০-৮০ পিছ শাপলায় ১ মোঠা ধরা হয়) সংগ্রহ করতে পারে। পাইকাররা আবার এসব শাপলা সংগ্রহকারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করে একত্রে করেন।

সিরাজদিখানের রসুনিয়া, ইমামগঞ্জ ও তালতলায় পাইকারি ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। পাইকাররা পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ী পাইকারি বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন।

উপজেলার রসুনিয়া গ্রামের পাইকার সিরাজ উদ্দিন জানান, শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার মোঠা শাপলা ক্রয় করে থাকেন। সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে এক মোঠা শাপলা ১০ টাকা দরে ক্রয় করেন তিনি। তারপর ট্রাক ভাড়া গড়ে ৩ টাকা, লেবার ১ টাকা, আড়ত খরচ ২ টাকাসহ মোট ১৭ থেকে ১৮ টাকা খরচ পড়ে। তা যাত্রাবাড়ী আড়তে বিক্রি করা হয় ২৫ থেকে ২৭ টাকা করে প্রতি মোঠা।

শাপলা তরকারি হিসাবে খুবই মজাদার খাবার হওয়ায় এর চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভাবী লোকজন খাল-বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে সরাসরি জেলার বিভিন্ন বাজারে এক মুঠো শাপলা ১০ টাকা করে বিক্রি করছেন। শহরের বাসা-বাড়িতে এই শাপলা বিক্রিতে এগিয়ে রয়েছেন স্থানীয় মহিলারা। এভাবেই গত কয়েক বছর ধরে শাপলা মুন্সীগঞ্জের জনপ্রিয় তরকারিতে পরিণত হয়েছে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর