সিরাজদিখানে ইকবাল-আমীর বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ

পুলিশ প্রশাসনের ছত্রছায়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সিরাজদিখানে সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল হোতা ইকবাল চেয়ারম্যান ও তার সহযোগী আমীর বাহিনী। দিনের পর দিন তারা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, কাউকেই এখন আর পাত্তা দিচ্ছে না। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা অপকর্মে এ চক্রটি জড়িত থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দেখেও না দেখার অভিনয় করছে। প্রকাশ্যেই ইকবাল চেয়ারম্যানের ক্যাডাররা সশস্ত্র ঘোরাফেরা করলেও তাদের বলার কেউ নেই। প্রতিদিনই চাঁদার দাবিতে এ বাহিনীর সদস্যরা হানা দিচ্ছে সাধারণ মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। চাঁদা না দিলে মারধর করছে, লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে নগদ টাকা ও মূলবান জিনিসপত্র। সন্ত্রাসী এ বাহিনীর সদস্যদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের সাধারণ মানুষ। তারা ইকবাল বাহিনীর হাত থেকে পরিত্রাণ চায়।

এদিকে মঙ্গলবার দৈনিক যুগান্তরে ইকবাল চেয়ারম্যান ও তার বাহিনীর নানা অপকর্মের খবর প্রকাশিত হলে সিরাজদিখানে তোলপাড় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই যুগান্তরের সব কপি শেষ হয়ে যায়। অনেক স্থানে ফটোকপিও বিক্রি হতে দেখা গেছে। সিরাজদিখানের সাধারণ মানুষ দৈনিক যুগান্তরের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে জানান, এ চেয়ারম্যান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস না পেলেও যুগান্তর তাদের মনের কথাই বলেছে।


সিরাজদিখানের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ইকবাল চেয়ারম্যান ও তার বাহিনীর সদস্যদের এ অপকর্ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। কিন্তু এতদিনে কেউ সাহস করে বলতে পারেনি। এ ব্যাপারে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।। সরকারি দলের একাধিক নেতার সঙ্গে সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে ইকবাল চেয়ারম্যান এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, স্থানীয় প্রশাসনও তটস্থ থাকে ইকবাল চেয়ারম্যান ও তার বাহিনীর সদস্যদের কাছে। সাধারণ মানুষের ভাষায়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাও এদের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হেন অপকর্ম নেই যা এ চক্রটি করছে না। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণসহ অসংখ্য অভিযোগ ইকবাল-আমীর চক্রের বিরুদ্ধে। তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের একত্রিত করে গড়ে তুলেছে এক বিশাল সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। চাঁদার দাবিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও টাকা না দেয়ায় জোর করে মালামাল লুটপাট এবং কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। কেউ এর প্রতিবাদ করলেই টুঁটি চেপে ধরছে ইকবালের লোকজন। ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে প্রাণনাশের। এমনকি স্ত্রী-সন্তানকে অপহরণের হুমকিও দেয়া হচ্ছে। প্রাণের ভয়ে এবং স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ইকবাল-আমীর চক্রের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কথা কেউ বলতে সাহস পায় না। তাদের চোখে-মুখে কেবলই আতংকের ছাপ। এ প্রতিনিধি সিরাজদিখানের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে এই অসহায় চিত্র দেখতে পেয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সব সময় ইকবাল বাহিনীর আতংকে ভীত থাকছেন।

রশুনিয়া ইউনিয়নের অসংখ্য সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, ইকবাল হোসেন চোকদার চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় বিচার-আচারে পক্ষপাত করে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযাগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমন কোনো কাজ নেই যা করতে টাকা নেন না এই চেয়ারম্যান। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া ইকবাল চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকার লোকজন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, সিরাজদিখানের আড়িপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিন চোকদারের ছেলে ইকবাল চেয়ারম্যান ও পার্শ্ববর্তী রশুনিয়া গ্রামের মৃত হায়ত বক্সের ছেলে আমীর হোসেন সিকদার প্রতারণা, চাঁদাবাজি, অন্যের জমি দখল ও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক।

মুন্সীগঞ্জে মাদক ব্যবসার পুরোটাই ইকবাল চেয়ারম্যান ও তার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে। তার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণেই ঢাকা থেকে মাদকের বড় বড় চালান মুন্সীগঞ্জ হয়ে পদ্মা পার হয়ে চলে যাচ্ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। ইকবাল চেয়ারম্যান ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকার লোকজন।

যুগান্তর