পানি স্বল্পতার কারণে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি চলছে ঝুকি নিয়ে

ঈদে বিপর্যয়ের আশঙ্কা
রুবেল ইসলাম: ঈদের আগে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। নৌরুটে পানি স্বল্পতার কারণে ফেরি চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। চানেলের মধ্যে ডুবো চরের সৃষ্টি হওয়ায় এখানে পানির গতীরতা কমে গিয়ে ফেরি চলছে মারাত্মক ঝুকি নিয়ে। রো রো ফেরি চলার জন্য যে পরিমান পানির প্রয়োজন বর্তমানে সেই সর্ব নিন্ম ৮ ফুট পানি লৌহজং চ্যানেলে বিদ্যমান থাকায় ফেরিগুলো পুরোপুরি লোড নিয়ে চলতে পারছে না।ফেরিতে জায়গা থাকলেও মাত্র কয়েকটি গাড়ী নিয়ে পার হচ্ছে বড় বড় রো রো ফেরিগুলো। আর ঈদের পূর্বে এ নৌরুটে পানি বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে পর্যাপ্ত ফেরি থাকলেও ঈদে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে পানি স্বল্পতার কারণে ফেরি পারাপারে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে।


বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক(এজিএম) আশিকুজ্জামান জানান, মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের লৌহজং টানিংয়ের কাছে চ্যানেলটিতে প্রায় ৫শ’ ফুট দীর্ঘ এলাকা জুড়ে পানির গভীরতা রয়েছে মাত্র ৮ ফুট।একটি রো রো ফেরি সাধারণভাবে চলতে গেলে ৮ ফুট পানির প্রয়োজন হয়।আর অন্যান্য ফেরির জন্য প্রয়োজন হয় ৬ ফুট। ৮ ফুট গভীরতার পানিতে পদ্মায় ফেরিগুলো চলাচল করতে পারলেও লোড নিয়ে বা পরিবহন নিয়ে এ পানি ফেরি চলাচলের জন্য মোটেই উপযোগী নয়।তাই ফেরিগুলো এখন কম সংখ্যক গাড়ী নিয়ে পদ্মা পারি দিচ্ছে।ঝুকি নিয়ে পার হচ্ছে লৌহজং টানিংয়ের ওই চ্যানেলটি।চ্যানেল পারি দেবার সময় নদীর তলদেশে ঠেকে যাচ্ছে বিশাল আকারের রো রো ফেরি।এতে ফেরির প্রপেলারসহ ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।একই সঙ্গে ধীর গতিতে এ এলাকায় ফেরিগুলো চলাচল করতে গিয়ে পদ্মা পারি দিতে ফেরিগুলোর অধিক সময় লাগছে।এত ফেরির ট্রীপ সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যথা সময়ে ঘাটে পৌছতে পারছেনা ফেরিগুলো। আর এ কারণে ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি পড়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।আসন্ন ঈদের আগে এ চ্যানেলে পানি বাড়ার কোন সম্ভাবনাই নেই।কারণ ১২ আগষ্টের আগে পদ্মায় জোয়ারের পানি আসার কোন লক্ষন নেই। সেক্ষেত্রে জোয়ারের পানি ছাড়া এ চ্যানেলে ফেরিগুলো স্বাভাবিক চলাচল করতে পারবেনা বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক এসএম আজগর আলী জানিয়েছেন, নৌরুটের লৌহজং টানিংয়ে পানির স্বল্পতা রয়েছে প্রায় ৪-৫ শ’ ফুট এলাকা জুড়ে।প্রতি দিন পানি কমতে থাকায় এ চ্যানেলে ফেরি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা বেড়েই চলেছে।উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির সাথে পলি পড়ে চ্যানেলের গভীরতা কমে গেছে।তবে সমস্যা সমাধানে বিআইডব্লিউটিএর লৌহজং টানিং পয়েন্টোর কাছে ড্রেজার স্থাপন শুরু করেছে। আজ-কালের মধ্যে ড্রেজারের অপারেশন শুরু হবে।ড্রেজিং করে পলি অপসারণ করা হবে।যেহেতে চ্যানেলটি প্রশস্ততার দিক দিয়ে খুর বড়। তাই এর এক পাশ ফেরি চলাচলের জন্য খুলে রেখে অপর পাশ দিয়ে ডেজিং করে এর গভীরতা তৈরী করা হবে। আর দৈর্ষের দিক দিয়ে যেহেতু চ্যানেলটি খুব বড় নয়,সেক্ষেতে ঈদের পূর্বেই চ্যানেলের গভীরতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।সেক্ষেত্রে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই ফেরিগুলো ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের পরিবহন পার করতে পারবে।

এদিকে বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার (বানিজ্য) সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন,গতকাল শনিবর এ নৌরুটে টাপলু নামের ফেরিটি আরারো বহরে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ৩টি রো রো ফেরি ,২টি কে টাইপ ফেরি, ৭টি ডাম্প ফেরি, ৩টি মিডিয়াম ফেরি ও কর্ণফুলী নামের একটি ভিআইপি ফেরিসহ ১৬টি ফেরি চলাচল করছে।কলমী লতা ও কনক চাপা নামের দুটি সম্পূর্ণ নতুন ফেরি ঈদের আগেই মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে যুক্ত হতে যাচ্ছে।