মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চ ধর্মঘট চলছে

পারমিট ছাড়াই এবং সিরিয়াল ভঙ্গ করে লঞ্চে যাত্রী উঠানামাকে কেন্দ্র করে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য লঞ্চ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে মাওয়ায় লঞ্চ মালিক সমিতি জরুরি বৈঠক করে এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।

কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শাহ পরান নামে একটি লঞ্চ মাওয়া লঞ্চঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। লঞ্চটির মালিক মাদারীপুরের শিবচর ইউনিয়নের কাঠালবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আতাহার বেপারীর চাচাতো ভাই ইয়াকুব বেপারী। রুট পারমিট ছাড়া শাহ পরান লঞ্চটি সকাল ৮টার দিকে মাওয়া লঞ্চঘাটে পৌঁছালে ওই রুটে চলাচলরত প্রায় ৮৮টি লঞ্চের মালিক ক্ষুব্ধ হয়ে মাওয়া লঞ্চঘাটে জরুরি বৈঠকে বসেন। এরপর নৌরুটে লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

এতে মাওয়া লঞ্চ ঘাটে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার সহস্রাধিক যাত্রী আটকা পড়েন। এসব যাত্রীরা বৃষ্টির মধ্যে নানা দুর্ভোগের শিকার হন। যাত্রীরা ট্রলারে, ফেরিতে ও সী-বোটে চড়ে কাওড়াকান্দি ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়।


মাওয়া লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান জানান, শাহ পরান লঞ্চটি এর আগেও একবার এ রকম কাজ করেছিল। লঞ্চটির কোনো রকম রুট পারমিট নেই। শনিবার হঠাৎ করেই কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে সিরিয়াল ভঙ্গ করে মাওয়াঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে।

মাওয়া লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ হুমায়ুন জানান, আমাদের দাবি-একটাই এ রুটে অবৈধভাবে কোনো লঞ্চ চলতে পারবে না। লঞ্চটি আর এ রুটে চলাচল করতে পারবে না শর্তে রাজি হলে এখনই আমরা লঞ্চ চলাচল শুরু করবো। এ নিয়ে মাওয়া লঞ্চঘাটে লৌহজং থানার পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি বলে তিনি জানান।

বিআইডব্লিউটিএর মাওয়া নদী বন্দরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন জানান, শাহ পরান লঞ্চটির কোনো রুট পারমিট নেই। সিরিয়াল না নিয়েই অবৈধভাবে কাওড়াকান্দিঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে হঠাৎ মাওয়া লঞ্চঘাটে চলে আসে।


মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যে কোনো সময় লঞ্চ চলাচল শুরু হতে পারে। তবে লঞ্চ যাত্রীদের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, যাত্রীরা ট্রলারে, ফেরিতে ও সী-বোটেসহ যে যেভাবে পারছেন কাওড়াকান্দি ঘাটমুখী হচ্ছেন।

জাস্ট নিউজ