সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ফেরত দিচ্ছে হাতিয়ে নেয়া কয়েক কোটি টাকা!

সাফকবলা দলিল রেজিস্ট্রেশনের নামে হাতিয়ে নেয়া কয়েক কোটি টাকা অবশেষে ফেরত দেয়া হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার ও জেলার ৬ টি উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রাররা দলিল লেখকদের কাছে পে-অর্ডারের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া কয়েক কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছেন। তবে, পে-অর্ডারগুলো এখনও সাফকবলা দলিল রেজিস্ট্রেশনকারীদের কাছে পৌঁছেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পে-অর্ডার দলিল লেখকদের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে, গত ২১ জুলাই ঢাকা নিউজ এজেন্সি ডটকমে ‘মুন্সীগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গেজেটের নামে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন!’ একইদিন জাস্ট নিউজ বিডি ডটকমে‘মুন্সীগঞ্জে সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে কোটি টাকা লোপাট!’ ও গত ২২ জুলাই ‘মুন্সীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গেজেটের নামে কোটি টাকা উত্তোলন’-শিরোনামে দৈনিক মানবজমিনে সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে তোলপাড় সৃস্টি হয়। উর্ধ্বতন কর্তপক্ষ তলব করেন সদর সাব-রেজিস্ট্রারকে।


একদিনের ছুটি নিয়ে গত ২৩ জুলাই ছুটে যান মন্ত্রণালয়ে। গত ২৪ জুলাই দুপুরে সরজমিন মুন্সীগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে গেলে বেরিয়ে আসে ওইসব তথ্য। সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. নূরুজ্জামানের সঙ্গে কথা হয় তার রুমে। তিনি বলেন, মানবজমিনের সংবাদটিতে শুধুমাত্র আমাকে জড়িয়ে লেখা হয়েছে। অন্য সাব-রেজিস্ট্রারদের সর্ম্পকে অভিযোগ করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, জেলা পরিষদ খাতে পে-অর্ডারের মাধ্যমে ১% হারে অতিরিক্ত ট্যাক্স আদায়ের টাকা আমাদের কাছে নেই। ওগুলো দলিল লেখকদের কাছে। ইতোমধ্যে দলিল রেজিস্ট্রেশনকারীদের কাছে ওই পে-অর্ডার ফেরত দিতে বলা হয়েছে দলিল লেখকদের। এরপর কথা হয় জেলা রেজিস্ট্রার ভবতোষ ভৌমিকের সঙ্গে। এ রকম কাজ শুধু মুন্সীগঞ্জেই নয়, সারাদেশেই হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তপক্ষ আমাদের ঠিকমতো দিক-নির্দেশনা দেয় না। এ কারনে অনেক সময় আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে অনিয়ম করতে বাধ্য হই।

আর আগে যদি এসব টাকা আদায় করা না হয়-পরে আর সে টাকা আমাদের পক্ষে উত্তোলন করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। যদি দলিল রেজিস্ট্রেশনকারী বিদেশে চলে যায়-আমরা সে টাকা কিভাবে উত্তোলন করবো। সরকার সে টাকা আমাদের কাছ থেকে আদায় করে নেন। তিনি বলেন, গত ১৭জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপনের ফটোকপি গত ২৩ জুলাই হাতে পেয়েছি। তবে, জেলার দাবি করে বলেন- জেলার সাব-রেজিস্ট্রারদের অতিরিক্ত টাকা উত্তোলনের কোন নির্দেশনা আমি দেইনি। আমি তাদের টাকা উত্তোলন করতে নিষেধ করেছিলাম। পত্রিকার সংবাদ প্রকাশের পর এখন আইন মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি হচ্ছে। তারা এসে তদন্ত করবেন। এদিকে, জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আওলাদ হোসেন বলেন, আমাকে আজ (বুধবার) সদর সাব-রেজিস্ট্রার ৬টি দলিলের পে-অর্ডার ফেরত দিয়েছেন। দলিল লেখকদের মাধ্যমে নেয়া সব পে-অর্ডার ফেরত দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রাররা। এদিকে, একাধিক দলিল লেখক জানান, সাফ দলিল রেজিস্ট্রেশন করে অনেকেই চলে গেছেন দূর-দূরান্তে। অধিকাংশ দলিল রেজিস্ট্রেশনকারীরা জানেন না-তাদের পে-অর্ডার ফেরত দেয়ার বিষয়টি।


সূত্র মতে, মুন্সীগঞ্জের ৬টি সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে সরকারের নতুন গেজেট পাস হওয়ার নামে গত ১ জুলাই থেকে ১১ জুলাই সাফকবলা দলিল রেজিস্ট্রেশনে উপজেলা পরিষদের খাতে ১% হারে অতিরিক্ত ট্যাক্স ধার্য করেন। কিন্ত সাব-রেজিস্ট্রাররা কোন গেজেট, মন্ত্রণালয়ের চিঠি বা আইজিআর অফিসের কোন লিখিত আদেশ না পেয়েই মৌখিক ও মনগড়া গেজেটের নামে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করেন। নির্দিষ্ট কোন জমা কোড ছাড়া পে-অর্ডারের মাধ্যমে এ টাকা জমা নেয়া হয়। জমাকৃত পে-অর্ডার দলিলের সাথে সংযুক্তও করা হয়নি। গেজেট পাস না হলে এই টাকা ফেরত দেয়া হবে বলে জানানো হয়। তাই তারা আদায়কৃত পে-অর্ডার সরকারি খাতের ব্যাংকেও জমা দেননি। কিন্ত জেলা পরিষদ খাতে ১% রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানো হয় গত ১৭ জুলাই।

এরপর সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার (১২ ও ১৩ জুলাই) সরকারি ছুটি শেষে সদর সাব-রেজিস্ট্রার গত ১৪ জুলাই অফিসে নোটিস জারি করে অতিরিক্ত ১% টাকা নেয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর গত ১৪ জুলাই থেকে ১৬ই জুলাই ২দিন অতিরিক্ত ১% হারে টাকা নেয়া বন্ধ রাখেন। গত ১৭ জুলাই থেকে জেলা পরিষদের খাত হিসেবে আবার ১% হারে টাকা নেয়া শুরু হয়। পরদিন ১৮ জুলাই ওই সাব-রেজিস্ট্রার আদায়কৃত টাকা ফেরত দেয়া হবে না বলে জানান।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি