মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে টোল ফ্রি

হাইকোর্টের আদেশে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের উভয় ঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা টোল ফ্রি করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা পরিষদ। এর ফলে বুধবার থেকে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে চলাচলরত যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো টোল আদায় করা হচ্ছে না।

এতে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে চলাচলরত যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

তবে হাইকোর্টের এক আদেশের কারণে টোল ফ্রি ঘোষণার ২২ দিনের মাথায় মঙ্গলবার থেকে সী-বোট ঘাটের টোল আদায় করছে বিআইডব্লিউটিএ’র নিযুক্ত ইজারাদার।

এদিকে নৌরুটের উভয়ঘাটে টোল ফ্রি করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও হাইর্কোটের আদেশের কারণে সী-বোট ঘাটে টোল আদায় করায় বিষয়টি নিয়ে ধ্রুমজালের সৃষ্টি হয়েছে।


অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা পরিষদ টোল ফ্রি করে দিলেও হাইর্কোটের আদেশের সুযোগে সী-বোট ঘাটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় যাত্রীদের কোনো উপকার হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র মাওয়া বন্দর কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, এক জুলাই থেকে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের উভয়ঘাটে টোল ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। কোনো ঘাটেই যাত্রীদের কাছ থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, হাইকোর্টের এক আদেশে মাওয়া ঘাটে মঙ্গলবার থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র নিযুক্ত ইজারাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ হোসেন একমাত্র সী-বোট ঘাটে টোল আদায় করছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বাংলানিউজকে জানান, মঙ্গলবার হাইর্কোটের আদেশ নিষ্পত্তি হওয়ার পর বুধবার থেকে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে টোল ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। তাই জেলা পরিষদ থেকে কোনো টোল আদায় করা হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, ১ জুলাই থেকে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে টোল ফ্রি করে দিলেও জেলা পরিষদের ইজারাদার হামিদুল ইসলাম হাইকোর্টের রীট করলে এক আদেশের কারণে গত ২২ দিন সে টোল আদায় করেছিল।

কিন্তু মঙ্গলবার ওই আদেশের নিষ্পত্তি হওয়ার পর বুধবার সকাল থেকে জেলা পরিষদ কোনো টোল আদায় করছে না বলেও জানান প্রশাসনিক কর্মকর্তা আকরাম হোসেন।


অন্যদিকে সী-বোট ঘাট দিয়ে চলাচলরত যাত্রী শরীয়তপুরের ফরহাদ মীর জানান, টোল ফ্রি করে দিলেও যাত্রীদের কোনো উপকার হচ্ছে না।

তার মতে, আগে টোলসহ সী-বোট ঘাটে আদায় করা হতো ১৩০ টাকা, আর এখন টোল ফ্রি করে দেওয়ার পর সী-বোট ঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে ২০ টাকা বেশি আদায় করে নেওয়া হচ্ছে ১৪০ টাকা। একই কথা জানালেন ঢাকা থেকে বাগেরহাটগামী যাত্রী শওকত হোসেন।

এ প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ’র নিযুক্ত ইজারাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর