সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে গেজেটের নামে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন !

সাফকবলা দলিল রেজিষ্ট্রেশনে সরকারের নতুন গেজেট পাস হওয়ার নামে মুন্সীগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে কয়েক কোটি টাকা উত্তোলন করে হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা চলছে। গেজেট পাস হওয়ার আগেই সাফকবলা দলিল রেজিষ্ট্রেশনে আদায় করা কয়েক কোটি টাকা নিয়ে এখন সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের কর্মকর্তারা পড়েছেন বেকায়দায়। উত্তোলিত ওই টাকা এখন কোন খাতে জমা দেবেন, নাকি তা আত্মসাৎ করে দেবেন-তা নিয়ে পড়েছেন সিদ্ধান্তহীনতায়।এদিকে, ওই টাকা আদায়েও সাব-রেজিষ্ট্রাররা প্রতারণার আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তারা নির্দিষ্ট কোন জমা কোড ছাড়া পে-অর্ডারের মাধ্যমে ওই টাকা জমা নেয়। জমাকৃত পে-অর্ডার দলিলের সাথে সংযুক্তও করা হয়নি।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৭ ই জুলাই থেকে জেলা পরিষদ খাতে শতকরা ১ ভাগ রেজিষ্ট্রেশন ফি বাড়ানো হয়েছে। কিন্ত এরআগেই গত ২রা থেকে ১১ই জুলাই পর্যন্ত ওই টাকা জমা নেয়া। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সরকারি কোন আদেশ বা প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ার আগেই মুন্সীগঞ্জের ৬টি উপজেলার সাব-রেজিষ্ট্রাররা কয়েক কোটি টাকা উত্তোলন করেন।

সূত্র মতে, মুন্সীগঞ্জের ৬টি সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে সরকারের নতুন গেজেট পাস হওয়ার নামে গত ১লা জুলাই থেকে ১১ জুলাই সাফকবলা দলিল রেজিষ্ট্রেশনে উপজেলা পরিষদের খাতে ১% হারে অতিরিক্ত ট্যাক্স ধার্য করা হয়। জনসাধারনের দাবির প্রেক্ষিতে দলিল লেখকরা সাব-রেজিষ্ট্রারদের কাছে সরকারি গেজেট দেখতে চান। কিন্ত সাব-রেজিষ্ট্রাররা কোন গেজেট, মন্ত্রণালয়ের চিঠি বা আইজিআর অফিসের কোন লিখিত আদেশ দেখাতে পারেননি। মৌখিক ও মনগড়া গেজেটের মাধ্যমে ৬টি উপজেলার সাব-রেজিষ্ট্রাররা জেলা রেজিষ্ট্রারের নির্দেশে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করেন। নির্দিষ্ট কোন জমা কোড ছাড়া পে-অর্ডারের মাধ্যমে এ টাকা জমা নেয়া হয়। জমাকৃত পে-অর্ডার দলিলের সাথে সংযুক্তও করা হয়নি। গেজেট পাস না হলে এই টাকা ফেরৎ দেয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্ত জেলা পরিষদ খাতে ১% রেজিষ্ট্রেশন ফি বাড়ানো হয় গত ১৭ জুলাই।

একাধিক দলিল লেখক জানান, মুন্সীগঞ্জ সদর সাব-রেজিষ্ট্রার এবিএম নূরুজ্জমান গত ২রা জুলাই তার অফিসে বসেই ঘোষণা দেয়, ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি রেজিষ্ট্রেশনে উপজেলা খাতে ১% ট্যাক্স দিতে হবে। পৌরসভার এলাকার জন্য এ আইন প্রযোজ্য হবে না। কিন্ত এ বিষয়ে তিনি কোন লিখিত আদেশ বা গেজেট দেখাতে ব্যর্থ হন। সরকারি আদেশের নামে সাব-রেজিষ্ট্রার দলিল রেজিষ্ট্রি করার জন্য ১% অতিরিক্ত টাকা জমা নেয়। এরপর ওই সাব-রেজিষ্ট্রার গত ১৪ই জুলাই নোটিশ অফিসে নোটিস জারি করে অতিরিক্ত ১% টাকা নেয়া বন্ধ করে দেয়। এছাড়া সরকারি গেজেটের আগে নেয়া সব টাকা ফেরৎ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এরপর গত ১৪ থেকে ১৬ই জুলাই ২দিন অতিরিক্ত ১%টাকা নেয়া বন্ধ রাখেন। এরপর ১৭ই জুলাই থেকে জেলা পরিষদের খাত হিসেবে আবার ১%টাকা নেয়া শুরু হয়। পরদিন ১৮ই জুলাই ওই সাব-রেজিষ্ট্রার আদায়কৃত টাকা ফেরৎ দেয়া হবে না বলে জানান। উত্তোলিত টাকা সরকারি খাতে ব্যাংকে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত জানান। কিন্ত এখানে কারচুপির আভাস মিলেছে। তারা উপজেলা পরিষদের খাতের নামে টাকা উত্তোলন করে উত্তোলিত টাকা এস.আর.ও খাতে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মুন্সীগঞ্জ সদর সাব-রেজিষ্ট্রার এবিএম নূরুজ্জমান ও লৌহজং সাব-রেজিষ্ট্রার শফিউল্লা বারীসহ সাব-রেজিষ্ট্রাররা জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ফোনে এ নির্দেশ আসার পর থেকেই অতিরিক্ত টাকা নেয়া শুরু হয়।

মুন্সীগঞ্জ জেলা রেজিষ্ট্রার ভবতোষ ভৌমিক বলেন, গত ২রা জুলাই থেকে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলনের কোন নির্দেশ আমি সাব-রেজিষ্ট্রারদের দেইনি। আমি তাদের টাকা উত্তোলন করতে নিষেধ করেছিলাম। গেজেট ব্যতিত টাকা উত্তোলন বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ব্যাপারে টাকা আদায়কারী সাব-রেজিষ্ট্রারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব এমএ রশীদ জানান, গত ১৭ই জুলাইয়ের আগে অতিরিক্ত ১% উত্তোলনের কোন আইন পাশ হয়নি। আমরা ঢাকায় দেইনি এবং দেশের অন্য কোন জেলায় টাকা নেয়ার খবরও পাইনি। তবে, কোন লিখিত আদেশ না পেয়ে সরকারি গেজেটের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা উত্তোলন বেআইনী। এমন কিছু হলে আইজিআর অফিস থেকে অবশ্যই আমাদের বলা হত।

সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সাইফুল ইসলাম বলেন, সাব-রেজিষ্ট্রার স্যার গেজেট দেখাননি। মৌখিক নির্দেশে অতিরিক্ত টাকা দেয়া হয়েছে। এখন ওই টাকা ফেরৎ দেয়া হবে বলে স্যার জানিয়েছেন। এদিকে, একাধিক দলিল লেখকের মতে, সরকারি খাতে টাকা জমা হলে ওই টাকা আর ফেরৎ পাওয়া যাবে না। আবার ফেরৎ পেলেও নানা ভোগান্তি পোহাতে হবে।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি