চার খাল খননের উদ্যোগ নেই

মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম
মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভায় আলোচিত নয়নের খাল, গোপপাড়া, রিকাবীবাজার ও ফেচন্নীর খাল খনন করে আগের মতো নৌকা চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। গত দেড় বছরেও ওই নির্দেশ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে চারটি খালই আবার দখল হতে বসেছে।


গত বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রথম আলোর শেষের পাতায় ‘নয়নের খাল আর নয়ন জুড়ায় না’ শিরোনামে মুন্সিগঞ্জের ওই চারটি খাল নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি নজরে আসায় ওই দিনই বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে পত্রিকায় প্রকাশিত খাল দখলকারীদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। ৩০ জানুয়ারি একই আদালত চারটি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে আগের মতো নৌকা চলাচলের উপযোগী করতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও মিরকাদিম পৌরসভার মেয়রকে নির্দেশ দেন। নির্দেশের পর চার খালের দুই পাশ থেকে দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রশাসন। রিকাবীবাজার খালে খননকাজও শুরু করে। কিন্তু কিছুদিন পর খননকাজ বন্ধ হয়ে যায়। তাই খালটি আগের মতো নৌকা চলাচলের অবস্থায় আনতে পারেনি প্রশাসন।

সম্প্রতি চারটি খাল ঘুরে দেখা যায়, দুই পাশের স্থাপনাগুলো আবার আস্তে আস্তে খালের ওপর চলে আসছে। নয়নের খাল, গোপপাড়া ও ফেচুন্নীর খাল—এই তিনটিতে খননের অভাবে আগাছা জন্ম নিয়ে আরও নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

রিকাবীবাজার খালের পাশে কাঠের ব্যবসায়ী রাকিব হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘খালের ওপর স্থাপনা উচ্ছেদের সময় আমার চারটি দোকানের পেছনের অংশ ভাঙা হয়। অভিযানের সময় শুনেছি, এসব খাল খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। তখন আমাদের ক্ষতি হলেও মেনে নিয়েছি। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানের দেড় বছর হতে চলল, এখন পর্যন্ত খাল খননের কোনো উদ্যোগ দেখছি না।’

মিরকাদিম খাল রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মাহফুজ আহমেদ বলেন, ‘খাল রক্ষায় আমাদের দাবি ছিল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার। এই খালে আবার নৌকা চলবে, নয়নের খাল আবার সবার নয়ন জুড়াবে—এমনটাই আশা ছিল। কিন্তু এখন দেখছি, আমাদের সব আশায় গুড়েবালি। উচ্চ আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’


মাহফুজ অভিযোগ করেন, প্রশাসন থেকে কিছুদিন লোক দেখানো খননকাজ করা হয়েছিল।

মামলার তদন্ত শেষ হয়নি: পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, মিরকাদিমের চার খাল দখলের ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোনিয়া সুলতানা ৫৭ জন দখলদারের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলা এখনো তদন্তানাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সোনিয়া।

মেয়র যা বলেন: খাল খনন এবং আবার দখল প্রসঙ্গে মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহীদুল ইসলাম বলেন, খননের অভাবে খালগুলো আবার আস্তে আস্তে দখল হয়ে যাচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব খালগুলো খননের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে আবার উদ্যোগী হতে হবে।

প্রশাসনের বক্তব্য: অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আয়াতুল ইসলাম জানান, ‘খালের ব্যাপারে হাইকোর্টের মামলার পরবর্তী কোনো নির্দেশনামা আমরা পাইনি। খাল আবার দখল হয়ে থাকলে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বলেন, ‘মিরকাদিমের চারটি খাল খননের জন্য ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের আওতায় ব্যবস্থা নিতে তাদের (ক্ষুদ্র সেচ বিভাগকে) পত্র দিয়েছি।’

ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের মুন্সিগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মিরকাদিমের খালগুলো খননের ব্যাপারে গত মে মাসের উন্নয়ন সমন্বয় সভায় জেলা প্রশাসক আমাকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন। আমি তাৎক্ষণিকভাবে মিরকাদিমের মেয়রকে বৃহত্তর ঢাকা ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের কাছে একটি আবেদন করার পরামর্শ দিই। কিন্তু তারা আর এ ব্যাপারে অগ্রসর হয়নি। বিষয়টি ওই অবস্থায় পড়ে আছে।’

তানভীর হাসান – প্রথম আলো