মাদক উদ্ধার অভিযানের নামে সদর থানা পুলিশ চাদঁবাজিতে লিপ্ত

সামসুল হুদা হিটু: মাদক উদ্ধার অভিযানের নামে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ নীরব চাদাঁবাজিতে লিপ্ত হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে প্রতিরোধের পরিবর্তে মাদক ব্যবসার শেল্টার দিচ্ছে সদর থানার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।এ জন্য কাগজপত্রে মাদক উদ্ধার অভিযান সঠিক রাখতে মাদক স্পট থেকে ব্যবসায়ী গ্রেফতার না করে মাদকসেবীদের গ্রেফতার করে ব্যবসায়ী বানিয়ে আদালতে প্রেরন করছে।

অন্যদিকে গ্রেফতারের পর ঘটনাস্থল থেকে ছেড়ে দেওয়া, ৩৮ ধারাসহ একাধিক পন্থায় প্রস্তাব দেওয়া হয় আর এ জন্য আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। যেসব আসামীদের কাছ থেকে আর্থিক ফায়দা নিতে না পারলে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও নগদ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া সদর থানায় বর্তমানে কর্মরত ওসি ও এসআই, এএসআই পদে কর্মকর্তারা একে অপরের সঙ্গে রেষারেষি ও বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। এর ফলে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় পুলিশের চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।


এদিকে সদর থানার কর্মকর্তাদের এমন বানিজ্য ও চাদাঁবাজির বিষয়টি নিয়ে শহরের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হলে বির্তকিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলী করার দাবী ওঠে। এতে সদর থানায় কর্মরত তিন এস আইকে বদলী করা হলেও বানিজ্য ও চাদাঁবাজি থেমে নেই পুলিশের। বর্তমানে সদর থানায় কর্মরত মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের শেল্টারে মুন্সীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই রাতে শহরের দক্ষিন ইসলামপুর এলাকার চানঁ কুটির ভবনের সামনে থেকে বিক্রেতাকে গ্রেফতার না করে ২ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ শরীয়তউল্লাহ নামের এক মাদকসেবী যুবককে গ্রেফতার করে। এ সময় সদর থানার এসআই সেলিম মিয়া, এএসআই জিহাদুল ও কাজল হোসেন তার কাছ থেকে নকিয়া মোবাইল সেট ও নগদ ১৩’শ টাকা হেফাজতে রাখলেও তা ফেরত চাইলে তা খুজেঁ পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া অপর এসআই সিদ্ধার্থ সাহা অনুরূপভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। মামলার বাদী-বিবাদীদের পেনডিং মামলার ভয় দেখিয়ে, নিরীহ মানুষজন, মাদক ব্যবসায়ী-মাদক সেবীদের কাছ থেকেও হাতিয়ে নিচ্ছে ওই অবৈধ টাকা।
অতিসম্প্রতি বিদেশ ফেরত শহরের মালপাড়া এলাকার এক যুবককে (৪৩) শহরের খালইস্ট এলাকায় ফেনসিডিল সেবনের অজুহাত তুলে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন এসআই সিদ্ধার্থ সাহা। পরে ওই যুবক আত্মসম্মানের ভয়ে তাকে নগদ ৫৩ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে মুক্তি পায়।

খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, এরকম একাধিক অভিযোগ রয়েছে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় কর্মরত এস আই সেলিম মিয়া, সিদ্ধার্থ সাহাসহ একধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডের ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ নিরীহ সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।


একাধিক ভূক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, মাদক উদ্ধার অভিযানের নামে সদর থানা পুলিশের একাধিক টিম বর্তমানে শহরের বিভিন্ন মাদক বিক্রির স্পটে অবস্থান নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার না করে মাদকসেবীদের গ্রেফতার করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

মাদক ব্যবসায়ীদের পরিবর্তে মাদকসেবীদের গ্রেফতার করলে তাদের ছেড়ে দেওয়া ও সাধারণ ধারায় আদালতে পাঠানোর অজুহাতে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ বেশী পুলিশের। এ কারনে মাদক ব্যবসায়ীদের পরিবর্তে মাদকসেবীদেরই গ্রেফতার করতে পুলিশ ওৎ পেতে থাকে।
এদিকে সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন মাসে সদর থানায় মাদকদ্রব্য আইনে ৬৮টি মামলা রুজু হয়েছে। এসব মামলায় ৩৭ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ৪৫ জন মাদকসেবীসহ ৮২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ হিসাবে মাদক ব্যবসায়ীদের চেয়ে মাদকসেবী গ্রেফতারের সংখ্যাই বেশী।

অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় কর্মরত ওসি-তদন্ত ইয়ারদৌস হাসান ও এসআই সেলিম মিয়ার সঙ্গে অবৈধ ভাবে আয় করার টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এর ফলে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের ফিরিস্তি বলে বেড়াচ্ছেন প্রকাশ্যে।
এ প্রসঙ্গে সদর থানার ওসি মো.শহীদুল ইসলাম জানান, থানা হেফাজতে থাকা মোবাইল ও নগদ টাকা কিভাবে উধাও হলো তার খোজঁ নেওয়া হবে। তবে সদর থানা পুলিশের চেইন অব কমান্ড ঠিক রয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি।

ওয়ান নিউজ