শিক্ষা উপকরন ও লোকবলের অভাবে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

Munshiganj  PIC 1মুন্সীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
শিক্ষা উপকরণ ও লোকবলের অভাবে মুন্সীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবহত হচ্ছে। ৩৬ জন শিক্ষকের স্থলে এখানে রয়েছে অধ্যক্ষসহ মাত্র ৮ জন শিক্ষক। কর্মচারীর পদখালি রয়েছে ১৮টি। তাই ১ হাজার ৩শ’৫১ জন কারিগরি শিক্ষার্থীর এই বিদ্যাপীঠ কোন রকমে জোরাতালি দিয়েছে। শিক্ষা উপকরণের অভাবও প্রকট। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে- দু’টি বিভাগে কোন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। গুরুত্বপূর্ণ ‘ইলেক্ট্রো মেডিক্যাল’ ও ‘আইপিসিটি’ বিভাগের ক্লাস চালু রাখা হয়েছে খন্ডকালীন দু’জন শিক্ষক দিয়ে। তাই লেজগোবরে অবস্থা এখানে। বিজ্ঞানের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হয়ে তাই যথাযথ শিক্ষা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক শিক্ষর্থীরা জানান, সঞ্জামাদি ও শিক্ষকের অভাবে তাদের শিক্ষাকার্যক্রম এতটাই ব্যহত হচ্ছে, যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। ভর্তি হয়ে নানা কারণে শিক্ষার্থীরা হতাশায় ভুগছে। তারা উন্নত বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় কতোটুকু এগুতে পারবে সেই সংশয় তাদের চোখে মুখে। সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভা এলাকার এই ইনস্টিটিউটে ২০০৬ সাল থেকে ‘ইলেক্ট্রো মেডিক্যাল’, ‘ইলেকট্রনিক্স’, ‘কম্পিউটার’ ও ‘আইপিসিটি’ এই চার চারটি বিভাগে ২ শিপটে শিক্ষাকার্যক্রম চলছে। বিশেষঞ্জরা জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাকালে দেখা যায়, যে দেশ কারিগরি শিক্ষায় যত উন্নত সে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে তত উন্নত। প্রতিটি দেশকে উন্নয়নের জন্য ২৫ শতাংশ কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। সে হিসাবে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতের হার মাত্র প্রায় ২ শতাংশ।
Munshiganj  PIC 1
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে-এই ইনস্টিটিউটে ৯৬৭ শিক্ষা নিচ্ছে এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় রয়েছে ৩৮৪ জন। ১৪ সিটের এই ইনিস্টিটিউটে এখন মোট শিক্ষার্থী ১৩৫১। কিন্তু তাদের মানস্পন্ন শিক্ষা লাভের জন্য এই প্রতিষ্ঠানে নেই প্রয়োজনীয় শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষা সরঞ্জাম। মোট শিক্ষক-কর্মচারীর মোট পদ ৭৮টির স্থলে এখন রয়েছে মাত্র ৩২ জন।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ নীহার রঞ্জন দাস সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ৪টি ল্যাবরেটরিতে সরঞ্জামাদির অভাব রয়েছে। আর যাই আছে তা পরিচালনার জন্য নেই লোকবল। প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ করা গেলে সঙ্কট নিরসন সম্ভব হবে। এছাড়া ক্লাস ভবনের ৫ তলা স্থলে রয়েছে ২ তলা । একাডেমিক ভবন ৫ তলার স্থলে চার তলা। ওয়ার্কসপ ভবন এখনও নির্মাণাধীন। এগুলো সম্পন্ন হলে ইছামতি নদী তীরের এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।

বর্তমান সরকারের ভিশন২০২১ সফল করতে কারিগরি শিক্ষার হার শতকরা ১৫ ভাগে উন্নীত করার কথা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও সরঞ্জামাদি সরবরাহের কোন বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


মুন্সিগঞ্জের বাণী