মেঘনা নদী চাঁদাবাজদের অভয়াশ্রম!

মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদী এখন নৌচাঁদাবাজদের অভয়াশ্রম হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিন মেঘনা নদীতে বিভিন্ন নৌযান থেকে জোর করে চাঁদা আদায় করছে এ চাঁদাবাজরা।

সম্প্রতি, চাঁদাবাজদের বাধা দেওয়ায় হামলা চালিয়ে পুলিশকে মারধর করেছে তারা।

এ ছাড়া বালু কাটার ড্রেজার মালিক শ্রমিকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় বিভিন্ন নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা চরম আতঙ্ক নিয়ে মেঘনা নদীতে চলাচল করছেন।


অন্যদিকে, পুলিশের ওপর হামলা ও ড্রেজার মালিক-শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির ঘটনায় যুবলীগ নেতাকর্মীদের নামে গজারিয়া থানায় পৃথক মামলা রুজু করা হয়।

বুধবার চাঁদাবাজি মামলায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, গত রোববার উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের রঘুরচর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে চাঁদা আদায় করার সময় গজারিয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের বাধা দেয়।

এ সময় নৌচাঁদাবাজ ও হত্যা মামলার আসামি আখতার, মুক্তার ও মাহাবুবসহ তাদের লোকজন হামলা চালিয়ে পুলিশকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। এতে কনস্টেবল রেজাউল ইসলাম (৩০) আহত হন।

ওই সময় হাবিলদার আমির পুলিশ দলের নেতৃত্বে ছিলেন।


গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ড্রেজার শ্রমিকদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও পুলিশকে মারধরের ঘটনায় গত বুধবার ১০ জনকে আসামি করে মামলা রুজুর পর চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে হোসেন্দী এলাকার উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে দুটি হত্যা মামলার আসামি আখতার, মোক্তার, মাহাবুব চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। তাদের চাহিদা মতো টাকা না দিলে মালামাল লুট এবং মারধর করে। তাই, বাধ্য হয়ে নৌযান মালিক ও চালকরা চাঁদা দেয়।

সূত্র আরো জানায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন ধারাবাহিকভাবে মেঘনা নদীতে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
=======================