বিধ্বস্ত মাওয়ায় ভাঙন রোধের আশায় প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন পদ্মাপাড়ের হাজারো বাসিন্দা

মো: রুবেল ইসলাম: মাওয়ায় এখনো থামেনি রাক্ষুসী পদ্মার তান্ডব। গোগ্রাসে গিলে খাচ্ছে একের পর এক পাকা সড়ক , রাস্তাঘাট, দোকানপাটসহ বিভিন্ন পাকা স্থাপনা। যেন বিধ্বস্ত এক প্রাচীণ জনপদের ধ্বংশাবশেষ। সম্প্রতি কয়েক দফা আকষ্মিক ভূমিধ্বসের পর বিপন্ন মাওয়ায় অব্যাহত রয়েছে নদী ভাঙন। একইসাথে পদ্মায় ধ্বসে পড়ছে একের পর এক প্রাচীণ জনপদগুলো। তবে অসহায় নদীশিকস্তীদের প্রশ্ন ভাঙন প্রতিরোধে কবে কাজ শুরু হবে? এদিকে ভাঙন রোধে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে বর্তমান সরকারের একাধিক মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে গেলেও নূন্যতম কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তবে তাদের মতো স্থানীয় হাজারো বাসিন্দারা এখনো ভাঙন রোধের আশায় প্রতীক্ষার প্রহর গুনে চলেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাওয়া ঘাটের ভাঙন কবলিত এলাকায় সরেজমিন প্রদর্শনের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ রয়েছে। এতে করে ক্ষোভে-দু:খে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে মাওয়া ঘাট, লঞ্চ, সিবোট ঘাটের ইজারাদার, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীসহ নদী পাড়ের মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া, যশলদিয়া, মাওয়া, দক্ষিণ মেদেনীমণ্ডল ও কুমারভোগ গ্রামের শত শত ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো বাসিন্দাদের মাঝে ।


গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি কয়েক দফায় পদ্মার আকষ্মিক ভূমিধ্বসে উপজেলার মাওয়া পুরনো ৩টি ঘাটর্ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় । এরপর থেকে শুরু হয় পদ্মার অব্যাহত তান্ডব । পদ্মা আস্তে আস্তে করে গিলে খাচ্ছে একের পর এক স্থাপনা ।তবে সড়কের ব্যাপক অংশ নিয়ে বড় বড় ফাটল থাকার কারণে যে কোন মুহুর্তে অসময়ের বৃষ্টিপাতে পুরো এলাকা হুমকির মুুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে পদ্মার ভাঙনে একরাতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া মেদিনী মণ্ডল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের জাতীয় পার্টির সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী মরহুম এম কোরবান আলীর সম্পূর্ণ বাড়ি, মনসুর আলীর বাড়ি, মাতবর বাড়ী, মাতবর ৫টি বসত বাড়ি ও মাওয়া ১নং নতুন ঘাট সংলগ্ন ৭টি বসত বাড়ি, ১টি মসজিদসহ যশলদিয়ায় মোট ১৩টি বসত বাড়ি গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গাড়ী নিয়ে শুধু আসছেন আর যাচ্ছেন। অথচ কতদিন হয়ে গেলো এখনো ভাঙন প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। এখন তাদের প্রশ্ন কবে কাজ শুরু হবে?