বাবার হত্যার বিচার চাইলেন মৌলি আজাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক হুমায়ূন আজাদ হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বড় মেয়ে মৌলি আজাদ। বৃহস্পতিবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন তিনি। জবানবন্দিতে বাবার হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন মৌলি।

এ মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও বর্তমানে সাংবাদিক শরিফুল হাসানও সাক্ষ্য দেন এদিন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক এএইচএম হাবিবুর রহমান ভূইয়া সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। আগামী ১৬ অগাস্ট সাক্ষ্যের পরবর্তী দিন রেখেছেন তিনি।

এ নিয়ে মামলায় ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।

ঘটনার সময় মৌলি আজাদ বাসায় ছিলেন। শরিফুল হাসান ছিলেন টিএসসিতে। জবানবন্দিতে তারা কোনো আসামির নাম বলেননি।


শরিফুল হাসান বলেন, চিৎকার-চেচামেচি শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন একজন লোক পড়ে আছে। কেউ তাকে সহায়তা করছেন না। আহতকে উপুড় করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদকে দেখতে পান।

এ সময় কয়েকটি রিকশা ও একটি প্রাইভেট কারের চালককে অনুরোধ করলে তারা হুমায়ূন আজাদকে হাসপাতালে নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশের একটি গাড়িতে করে তিনি হুমায়ূন আজাদকে হাসপাতালে নেন।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় গ্রেপ্তার চার আসামি জেএমবির সূরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগ্নে শহীদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও হাফিজ মাহমুদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার অন্য আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু পলাতক আছেন।

গত ৩০ এপ্রিল সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে বাংলা একাডেমীর উল্টো পাশে হুমায়ূন আজাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।

পরদিন হুমায়ূন আজাদের ছোট ভাই মঞ্জুর কবীর বাদি হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

কয়েক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর ২০০৪ সালের অগাস্টে গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান এই লেখক। ১২ অগাস্ট মিউনিখে নিজের ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।


তদন্তে অভিযোগের ‘প্রমাণ না পাওয়ায়’ গত বছরের ১৩ মে আসামির তালিকা থেকে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে বাদ দিয়ে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। প্রথমে এটি হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে এটি হত্যামামলায় পরিণত হয়।

হুমায়ূন আজাদকে হামলার ঘটনায় ঢাকার অন্য একটি আদালতে বিস্ফোরক আইনে আরেকটি মামলা চলছে।

এর আগে কবি রফিক আজাদ, হাবিবুল্লাহ সিরাজী, হুমায়ূন আজাদের ছেলে অনন্য আজাদ, ভাই সাজ্জাদ কবীর, ফটো সাংবাদিক ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ পাভেল ও রিকশাচালক সাইফুর রহমান এ মামলায় সাক্ষ্য দেন ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর