দানবীর আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরীর উত্তরসূরিদের হেনস্তার পায়তারা

hb2শেখ মো.রতন: মুন্সীগঞ্জ শহর-শহরতলীতে বেশ কয়েকটি খাল বালু ভরাটের কারনে বিলিন হয়ে গেছে। এতে সদর উপজেলা ও মুন্সীগঞ্জ পৌরবাসীদের দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছে জলাবদ্ধতা। আর বিলিন হয়ে যাওয়া খাল পুন:উদ্ধারে একাট্টা হয়েছেন পৌর মেয়র ও কাউন্সিলররা। জলাবদ্ধতা নিরসনে বিলুপ্ত খাল পুন:উদ্ধার ছাড়া বিকল্প কোন পথ খোলা নেই তাদের কাছে। হারিয়ে এসব খাল পুনঃউদ্ধারে তারা কঠিন থেকে কঠিনতর পদক্ষেপ নিতে তারা এখন প্রস্তুত।

সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ শহরের গনকপাড়া-কোর্টগাঁও খালের মুখে বালু ভরাট ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের ঘুম ভেঙ্গেছে। গনকপাড়া-কোর্টগাঁও খালটি দীর্ঘ দিন থেকেই খালের পাড়ের বাসিন্দারা দিন দিন গ্রাস করে সস্পুর্ন দখলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার সাথে ওই দখলকৃত খাল পুনঃউদ্ধারের দাবী জানাচ্ছেন খালদাতা গোষ্ঠির পরিবারের সদস্যরা। শহরের কোর্টগাঁও এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ২ বিদ্যাপিঠের দাতা পরিবার ওই খাল-পাড়ের নীচু জমি বালু ভরাট করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। মুন্সীগঞ্জের কিংবদন্তী দানবীর পুরুষ প্রয়াত আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরীর উত্তরসূরি মো: ফয়েজ আহমেদ সম্প্রতি গনকপাড়া-কোর্টগাঁও খাল লাগোয়া নিজস্ব জমিতে বালু ভরাট করেন। আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী শহরের ঐতিহ্যবাহী কে, কে গর্ভমেন্ট ইনষ্টিটিউশন, কোর্টগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। বিক্রমপুরীর জায়গার উপর এই দু’টি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও তার বংশধররা এখন বালু ভরাটের ঘটনায় প্রতিনিয়ত একটি কুচক্রি মহলের মাধ্যমে হেনস্তা হচ্ছেন বলে জানা গেলো মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এ.কে ইরাদত মানুর সঙ্গে কথা বলে।

পৌরসভার মেয়র এ.কে ইরাদত মানু সাংবাদিকদের জানান, মুন্সীগঞ্জ পৌরবাসীর এখন প্রধান সমস্যা-দুঃখ্যই জলাবদ্ধতা। পৌরসভার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় খালের মুখ গুলো বালু দস্যুদের থাবায় ক্রমাগত বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টি হলেই পৌরসভায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। কাজেই যেভাবেই হোক পৌরবাসীদের দু:খ লাঘব করতে অবৈধ ভাবে ভরাটকরা খালগুলো পুনঃউদ্ধার করা হবে বলে দাবী করেন পৌর মেয়র মানু। এ জন্য যে কোন পদক্ষেপ নিতে তিনি ও তার কাউন্সিলররা প্রস্তুত রযেছেন। তিনি বলেন- এক দিনে দুই দিনে খাল গুলো দখল হয়নি। দীর্ঘ বছর ধরেই খালের পাড়ের বাসিন্দারা বিশেষ করে গনকপাড়া-কোর্টগাঁও খাল, গনকপাড়া-দেওভোগ খাল, মানিকপুর-নতুনগাঁও খাল, মুন্সীরহাট খালসহ মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার খালগুলো বালু ভরাট করে স্থাপনা নির্মানের মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে।

পৌরসভার অর্ন্তভুক্ত খালগুলো পুন:উদ্ধারে একাট্টা পৌর মেয়র-কাউন্সিলররা সবার-এমন দাবী করেন দেওভোগ, বৈখর ও গনকপাড়া এলাকার পৌর কাউন্সিলর বাদশা সিকদার।
hb1
পৌর কাউন্সিলর বাদশা সিকদার জানান, আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী সাহেবের বংশধররা গনকপাড়া-কোর্টগাঁও খালে বালু ভরাট করে খাল দখল করে নিয়েছে-তা সঠিক নয়। প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। মূল খালটি সরেজমিনে মেপে পুনঃউদ্ধার করতে গেলেই বুঝা যাবে। আসলেই যে দীর্ঘ বছর ধরে এ খালটি দখল হয়ে রয়েছে তার চিত্রটির সঠিক দৃশ্য দেখা যাবে।

পৌরসভার কাউন্সিলর এনামুল হক বলেন- দীর্ঘ দিন ধরে যে যার মতো করে খাল-বিল বালু ভরাট করে দখল করে নেওয়ায় এ জলাবদ্ধতার শিকারে পরিণত হয়েছেন পৌরবাসীরা নিজেরাই।

এক কথায় মুন্সীগঞ্জের দানবীর আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরীর নাতি ফয়েজ আহমেদ ও মোঃ আরিফুর রহমান জানান-আমরাও চাই গনকপাড়া-কোর্টগাঁও’এর বিগত বছরে দখল হয়ে যাওয়া খালটি পুনঃউদ্ধার করা হোক। খাল দখলকারিদের মধ্যে যদি আমাদের জড়িত থাকার প্রমান মিলে তাহলে যে শাস্তি দেয়া হবে তা মাথা পেতে নেব। তবুও আমার দাদার দানকৃত খালটি পুনঃউদ্ধার করা হোক।
hb2
গনকপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ রোকন উদ্দিন বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই জানি যে মূল খালটি অনেক দিন আগেই দখল হয়ে গেছে। বর্তমানে যে নিচু জমিটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে সেই জমিটি আসলেই বিক্রমপুরী সাহেবের উত্তরসুরিদের।

গনকপাড়া-কোর্টগাঁও খালের পাশের ৫৫ শতাংশ জমি তারা বিক্রি করেন আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছে। বিক্রির পর ক্রেতাকে জায়গাও বুঝিয়ে দেন তারা। অতি-সম্প্রতি জমির ক্রেতা আমির হোসেন নীচু জায়গা ড্রেজারের পাইপের মাধ্যমে বালু ভরাট করেন। আর বর্ষার মৌসুম হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারনে পানিবন্দি হয়ে পড়ছেন দেওভোগ, গনকপাড়া ও কোর্টগাঁও এলাকার পরিবারদের। আমির হোসেনের জায়গায় বালু ভরাটের কাজ পান বিক্রমপুরীর আরেক নাতি আরিফুর রহমান। তিনি বালু ভরাট করতে গিয়ে কোর্টগাঁও-গনকপাড়া খালের মুখে পানি নিস্কাষনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। পরে পৌরসভার মেয়র একে ইরাদত মানুর নেতৃত্বে খালের মুখের বালু অপসারন করেন। পরবর্তিতে দেওভোগ-গনকপাড়া-কোর্টগাঁও এলাকার পানি নিস্কাসনের ব্যাবস্থা অতি-দ্রুত করা হবে ও তার সাথে সাথে গনকপাড়া-কোর্টগাঁও খালটি দখলমুক্ত করা হবে।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সোনিয়া সুলতানা বিগত দিনে দখরকৃত খালটিও যে দানবীর আব্দুল হাকিম কিক্রমপুরি সাহেবের দান করার কথা স্বীকার করে বুধবার সাংবাদিকদের জানান, গনকপাড়া-কোর্টগাঁও এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে মাপঝোপ করে খালটির সঠিক জায়গা নির্ধারন করে পুনঃউদ্ধারের ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। ইতিমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটি নির্দেশ পত্র মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ’মি) ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এরা সবাই গনকপাড়া-কোর্টগাঁও খালটি দখলদারদের কাছ থেকে বিগত দিনে ভরাটকৃত অংশ পুনঃউদ্ধারে সার্বিক সহযোগিতা করবেন।


সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সরাবান তাহুরা জানান-গনকপাড়া-কোর্টগাঁও খালটি পূণঃউদ্ধারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। অমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ পত্র অনুযায়ী খালটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করার কাজ ইতিমধ্যে হাতে নিয়েছি। সরেজমিনে গিয়ে মাপঝোপ করে সিমানা নির্ধারণ ও মালিকানা সনাক্ত-পূর্বক সরকারের দখলে আনা হবে।


উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ’মি) লাবনী চাকমা বলেন-এই খালটি উদ্ধার করার দায়ীত্ব সম্পুর্ন পৌরসভার। তারা যদি আমাদের কাছে সহযোগিতা চায় তাহলে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদলকে এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে জানান।

টাইমস্ আই বেঙ্গলী