তৃতীয় নয়, বিকল্প প্রধান শক্তির ঘোষণা বি চৌধুরী-কাদের সিদ্দিকীর

আর তৃতীয় শক্তি তৈরির চেষ্টা নয়, এবার তারা ক্ষমতায় যাওয়ার বিকল্প প্রধান শক্তিতে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী।

রাজধানীর গুলশান-১ এ সিলভার টাওয়ারে বৈঠক শেষে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. বি. চৌধুরী বলেন, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের ভালো লাগে না। প্রধানমন্ত্রী মাঝে মাঝেই অগণতান্ত্রিক ভাষায় কথা বলেন। দেশে আবার কী হয় তা নিয়ে আমরা আতঙ্কিত।”

তিনি বলেন, “বিকল্প প্রধান শক্তি হিসেবে তৈরি হওয়ার জন্য আজ আমরা আলোচনা শুরু করলাম। শিগগিরই আপনারা এর ফল দেখতে পাবেন।”


ডা.বি. চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হলে দেশে গণতন্ত্র থাকবে কি না সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। তাই বৃহত্তর বিরোধীদলীয় ঐক্য গড়ে তুলে এ দাবি আদায় করতে হবে।

এর আগে উভয় দলের নেতাদের মধ্যে প্রায় দুই ঘন্টা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কৃষকশ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. আবু মোজাফফর আহম্মেদ, যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী, বিকল্পধারা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের সভাপতি যথাক্রমে সাহিদুর রহমান ও মাহবুব আলী এবং কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা বীরপ্রতীক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বি. চৌধুরী বলেন, এ দেশের একটি সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হলে একটি সর্বজনগ্রাহ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই তা হতে হবে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে বিকল্প ধারার আগেও একটা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এখন এ যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পেলো। আমরা মতের মাধ্যমে পথের সন্ধান করছি।


গাজীপুর নির্বাচনে মহাজোট সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ হিসাবে তিনি বলেন, সেখানে ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত অনেক লোক আছে। তারা কেউ মহাজোট সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেয় নি। বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান এর আগে নোবেল পুরস্কার পায় নি। কোনো ব্যক্তিও পান নি। একমাত্র ব্যক্তি হচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং একমাত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক। অথচ সেই নোবলে বিজয়ীকে অপমান করা হচ্ছে এবং নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠানকে ভেঙ্গে ফেলার প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিষ্ঠানের ৫১ শতাংশ শেয়ার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকা যায় না।

১৮ দলের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে আন্দোলনে অংশ নেবেন কিনা জানতে চাওয়া হলে বি. চৌধুরী বলেন, এটা ভবিষ্যতে দেখবেন। নির্বাচন এসে গেলে সরকারকে ঠেকানোই আমাদের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়াবে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, “মানুষ যেকোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় প্রথম হওয়ার জন্য। আমরা তৃতীয় হওয়ার জন্য তৃতীয় শক্তি সৃষ্টি করতে চাই না। আমরা দেশের প্রধান বিকল্প শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চাই।”

তিনি বলেন, হাবিয়া দোজখের আগুনের অবস্থা সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। কিন্তু বাংলাদেশ এখন হাবিয়া দোজখের কাছাকাছি পর্যায়ে আছে। বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলে নাকি নির্বাচনই হবে না। এ কথা শুনে আমি মর্মাহত। একজন প্রধানমন্ত্রী নিঃসন্দেহে দেশের সেবক। এ ধরনের ভাষা তার মুখে মানায় না।

জাস্ট নিউজ