মাওয়ায় একই ঘাটে দু’বার টোল !

মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের মাওয়াঘাটে খেয়া পারাপারে সি-বোট যাত্রীদের কাছ থেকে একই ঘাটে দু’দফা টোল আদায় করার অভিযোগ ওঠেছে। রশিদ ও বিনা রশিদে দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের কাছ থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র নিযুক্ত ইজারাদার যাত্রী প্রতি ১’শ ৩০ টাকা আদায় করছেন। এরমধ্যে ১’শ ২০ টাকা পাবেন সি-বোটের মালিক ও বাকী ১০ টাকা টোল বাবদ পাবেন বিআইডব্লিউটিএ’র নিযুক্ত ইজারাদার। সি-বোট যাত্রী পারাপারে ১’শ ২০ টাকার রশিদের মাধ্যমে ১’শ ৩০ টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে। একই ঘাটে ইজারাদারের লোকজন বিনা রশিদে ঘাটে প্রবেশ মূল্য বাবদ আরো ১০ টাকা হারে যাত্রীদের কাছ থেকে টোল আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মাওয়াস্থ সি-বোট ঘাটে একই যাত্রীর কাছ থেকে দুই বার টোল আদায় করা হচ্ছে। সি-বোট ঘাটে জেলা পরিষদের যাত্রী প্রতি ৩ টাকা করে টোল আদায় করার কথা রয়েছে। আর বিআইডব্লিউটিএ’র সরকারি টোল ফ্রি করে দেয়া হয়েছে। অথচ একই ঘাটে একই যাত্রীর কাছ থেকে একদফা সি-বোট ভাড়ার সঙ্গে যাত্রী প্রতি ১০ টাকা টোল আদায় করা হচ্ছে রশিদের মাধ্যমে। যদিও ওই রশিদে শুধু মাত্র সি-বোট ভাড়ার ১’শ ২০ টাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। এরপর একই যাত্রীর কাছ থেকে সি-বোট ঘাটে প্রবেশ মূল্য বাবদ বিনা রশিদে আরো ১০ টাকা টোল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরিশালের বাকেরগঞ্জগামী সি-বোট যাত্রী ফিরোজ আলম, হাছিবুর রহমান জানান, সি-বোট ঘাটে খেয়া পারাপারে দুই বার টোল নেয়া হচ্ছে।

এদিকে, ৩ দিন আগে ১ জুলাই খেয়াঘাটের মাওয়া অংশে সি-বোট ঘাটের একক নিয়ন্ত্রণ নেন বিআইডব্লিউটিএ’র নিযুক্ত ইজারাদার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদেনীমন্ডল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন খান। নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে সি-বোট যাত্রীদের কাছ থেকে পদ্মা পারাপারে সি-বোট ভাড়ার ১’শ ২০ টাকার রশিদের মাধ্যমেই ১’শ ৩০ টাকা হারে ঘাটে প্রবেশের মুখে আদায় করে নেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে একবার। পরে একটু এগুতেই সি-বোট চড়তে প্রবেশ মুল্য বাবদ একই ঘাটে দ্বিতীয় দফায় আরো ১০ টাকা হারে আদায় করছে। তাও আবার বিনা রশিদে। মাওয়াঘাটের সি-বোট ঘাটের একক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের শুরুর দিন থেকেই বিআইডব্লিউটিএ’র নিযুক্ত ইজারাদারের লোকজন একই ঘাটে একই যাত্রীর কাছ থেকে পদ্মা পারাপারে এই দুই বার টোল আদায় করছেন।

তবে এ ঘাটে জেলা পরিষদের নিযুক্ত ইজারাদার জেলার লৌহজং উপজেলার মেদেনীমন্ডল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হামিদুল ইসলাম দাবি করেন- আওয়ামীলীগ নেতা আশরাফ খান সি-বোট ঘাটের এখন একক অধিপতি। এতে একই ঘাটে একই যাত্রীদের কাছ থেকে বিনা রশিদে ২ বার অতিরিক্ত হারে টোল আদায় করছেন আওয়ামী লীগ নেতার লোকজন। ওই আওয়ামী লীগ নেতার লোকজনের বাঁধার মুখে সি-বোট ঘাটে জেলা পরিষদের নিযুক্ত ইজারাদার লৌহজং উপজেলার মেদেনীমন্ডল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হামিদুল ইসলাম সি-বোট ঘাট থেকে গত ১ জুলাই বিতাড়িত হয়েছেন। এতে জেলা পরিষদের ইজারাদার ওই ঘাটে কোন ইজারা কাটছে না। তবে খেয়াঘাটের মাওয়া অংশের লঞ্চঘাটে একক নিয়ন্ত্রণ এখন জেলা পরিষদের ইজারাদার যুবলীগ নেতা হামিদুলের হাতে। জেলা পরিষদের ইজারাদারের লোকজন লঞ্চ যাত্রীদের কাছ থেকে ৩ টাকা হারে টোল আদায়ের কথা উল্লেখ থাকলেও আদায় করছেন ৫ টাকা হারে। এখানেও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। বিআইডব্লিউটিএ’র নিযুক্ত ইজারাদার আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ খানের কাছে টোল আদায়ের পক্ষে বৈধ কাগজ পত্র দেখতে চাইলে তিনি লৌহজং থানা ও মাওয়া নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের কাছে জমা দেওয়া আছে বলে তার বৈধতার ফিরিস্তি তুলে ধরেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন- এক মাসের কোটেশনের ভিত্তিতে বিআইডব্লিউটিএ তাকে সি-বোট যাত্রীদের কাছ থেকে টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বৈধ পন্থায় আওয়ামী লীগ নেতার লোকজন টোল আদায় করছেন বলে দাবি করে লৌহজং থানার ওসি জাকিউর রহমানও। তবে তার কাছে বিআইডব্লিউটিএ’র নিযুক্ত ইজারাদারের বৈধ কাগজ দেখতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি