শিক্ষা ক্ষেত্রে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় উন্নতি সাধিত হয়েছে

বাবু সুকুমার রঞ্জন ঘোষ
ইকবাল হোছাইন ইকু: এমনি একজন মানুষ পেয়েছি যিনি উদ্দ্যম আর অফুরন্ত প্রাণ শক্তির অধিকারী ও দলমত নির্বিশেষে সকলের আপনজন মুন্সিঞ্জ-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বাবু সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর প্রপারে ১৯৫২ সালের ১৭ ই মার্চ তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালে ঝঝঈ, ১৯৬৯ সালে ঐঝঈ পাশ করেন। ১৯৭০ সালে যুদ্ধের কারণে পরীক্ষা না হওয়ায় ১৯৭২ সালে গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। ১৯৭৩ সালে মাস্টার্সে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ও এলএলবিতে এডমিশন নেন। তাঁর ২ মেয়ে ১ ছেলের মাঝে বড় মেয়ে হাজবেন্ডের সাথে এমেরিকান প্রবাসী। ছোট মেয়ে ডাক্তারী পাশ। আর ছেলে কানাডা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লিট। তিনি শ্রীনগরের বিভিন্ন সমাজ কল্যাণ সংঘের সাথে কাজ করেছে। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাথেও কাজ করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু কমার্শিয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯০ সাল থেকে বর্তমান শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামিলীগের সভাপতি। আসন্ন ১৬ ই সিম্বের মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে তিনি এলাকাবাসীকে জানান ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন Masik Bikrampur এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ইকবাল হোছাইন ইকু ও মোঃ মুরাদ হোছাইন।


প্রশ্নঃ আপনার রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে কিছু বলুন?
১৯৬৭ সালে যখন হরগঙ্গায় লেখাপড়া করি তখন থেকে ভালমন্দ বুঝার চেষ্টা করতাম। আর সেই ছাত্র অবস্থা থেকেই ছাত্র ইউনিয়ন করতাম। কলেজ জীবন পার হওয়ার পর ১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে কিছুদিন কৃষক সমিতির সাথে কাজ করি। আমি দীজেন ঘোষ, সত্যেন সেন ও আজিজুর রহমান ফখ্যুর সাথে রাজনিতী করতাম।

প্রশ্নঃ কেনো ছাত্র ইউনিয়ন করতেন?
আমি দেখতাম যাদের গ্রহণ যোগ্যতা একটু বেশি, মেধাবী, বুদ্ধিমান ও ভদ্র-ন¤্র তারা সবাই ছাত্র ইউনিয়ন করত। এটিই আমাকে ছাত্র ইউনিয়নে নিয়ে আসে। আমি জানতাম তারা খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের কথা বলে, গণমানুষের কথা বলে ও অর্থনৈকিত মুক্তি চায়। তাই ছাত্র ইউনিয়ন ভাল লাগত ও নিজে তার কাজে সম্পৃক্ত থাকতাম।

প্রশ্নঃ কখন থেকে আওয়ামিলীগ করেন?
১৯৭৫ সালে আওয়ামিলীগে যোগ দেই। ১৫ আগষ্টের পরে আওয়ামিলীগের জনবলের খুবই অভাব ছিল, এমনকি আওয়ামিলীগের নামই নেয়া যেতোনা। জিয়াউররহমান ক্ষমতা গ্রহণের পরে রাজনীতি মোটামোটি অফ ছিল। অন্য সংগঠন করা গেলেও আওয়ামিলীগ করা যেতোনা। সেই সময় থেকে আওয়ামিলীগ করি। শ্রীনগরে আওয়ামিলীগের প্রথম কাউন্সিলে থানা কমিটির সদস্য হই। পরবর্তী পর্যায়ে কোষাদ্ধক্ষ্য এবং ১৯৯০ সালে সভাপতি নির্বাচিত হই। এখন পর্যন্ত এ পদেই আছি।

প্রশ্নঃ আবার কাউন্সিল হবে কবে?
সম্ভবত এ মাসেই।


প্রশ্নঃ আপনি কি আবার সভাপতি কেন্ডিডেট হবেন?
আমিতো গতবারই প্রার্থী হতে চাইনি।

প্রশ্নঃ সিরাজদিখান উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবত যুবলীগের কোন কমিটি হচ্ছেনা তার কারণ সম্পর্কে বলবেনকি?
এটি বসে আছে উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিনের হাতে। তিনি এব্যাপারে আমার কাছে কোনো পরামর্শ চাইলে করব। তবে সিরাজদিখান পূর্ব ও পশ্চিমে ২০০৮ সালে নির্বাচন চলাকালীন ১০৪/৫ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি করা হয়। এবং নতুন করে একটি আহবায়ক কমিটিও গঠন করা হয়। তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ৩ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার।

প্রশ্নঃ অভিযোগ পাওয়া গেছে আপনার জন্যই নাকি এই কমিটি ঝুলে রয়েছে?
কোনো সমস্যা হইলে তা সমাধান করা আমার দায়িত্ব। অভিযোগটি সত্যিনা।
প্রশ্নঃ সিরাজদিখানে আপনার প্রোগ্রামে আওয়ামিলীগের অনেক ত্যাগী নেতার অনুপস্থিতির কারণ কি?
উপস্থিতি ম্যান্ডেটরি নয়। তবে আমি সিরাজদিখানের অনেককেই চিনিনা। আসলে কে ত্যাগী আমি সঠিক বুঝতে পারছিনা।

প্রশ্নঃ সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে আপনার কোন দ্বন্দ্ব আছে?
আদর্শিক বা রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে। সিরাজদিখানে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান অথবা রাস্তা-ঘাটের উদ্বোধন করি। তার প্রত্যেকটি ফলকের নেইম প্লেটে আমার নামের সাথে লেখা আছে, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদ। এটি নিয়মের বাইরে। শ্রীনগরেও আমি এ কাজটি করিনি। আমার সাথে যদি ওনার সখ্যতাই না থাকতো তাহলে ব্যতিক্রমী কাজটি করব কেনো। ওনার যদি আদা ঘন্টা দেরী হয় আমি অপেক্ষা করতে থাকি। কাজটি কিন্তু ১ মিনিটের। দোয়া করতে আর কতক্ষণ সময় লাগে। তারপরও দ্বন্দ্ব বলা ঠিক হবেনা। দুই ভাইয়ের মধ্যে মনমালিণ্য হতেই পারে।

প্রশ্নঃ সিরাজদিখান উপজেলার ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্রের বেহাল দশা। কর্মীদের সরকারীকরণ করা হচ্ছেনা, মেইল এড্রেস নেই এই সমস্যার সমাধান আদৌ হওয়া সম্ভব?
মাত্র ১ বছর হল তথ্য সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হল। যথা সময়ে সব সমস্যার সমাধান হবে।

প্রশ্নঃ সিরাজদিখানের অসংখ্য প্রাইমারী স্কুলে খেলার মাঠ নেই, আপনার আমলেকি এর সমাধান হওয়া সম্ভব?
প্রাইমারি স্কুল তো দূরের কথা, সব হাই স্কুলেই খেলার মাঠ নেই। আমার পক্ষ থেকে এব্যাপারে যা করা দরকার তা করব।

প্রশ্নঃ সিরাজদিখানের মৃৎ শিল্পীরা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। আর দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎ শিল্প সরকারী ও বেসরকারী পৃষ্ঠ পোষকতায়। এ সম্পর্কে কিছু বলেন?
আমাকে মৃৎশিল্পীরা ও প্রশাসনের কেউই এ ব্যাপারে কিছুই জানায়নি। যে এসমস্যা এই খানে এই সহায়তা লাগবে।

প্রশ্নঃ শুনতেছি এসরকার লতব্দীতে উপসহর করার চিন্তাভাবনা করছে, এর সত্যতা কতটুকু?
সরকারের চিন্তাভাবনা আছে। তবে বাস্তবতা বলছে এখন করার পরিবেশ নেই।

প্রশ্নঃ বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ শুনতে পারলাম তাদের রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক অধিকার- মিছিল-মিটিং দলীয়ভাবে প্রতিহত করতে না পেরে প্রশাসনকে দিয়ে বন্ধ করার পায়তারা করছেন। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
বিএনপির সভাপতির মাধ্যমে তাদের প্রতিটি প্রোগ্রামই আমাদের সাথে আলোচনা করে সমন্বয়ের মাধ্যমেই কাজগুলি করা হয়।

প্রশ্নঃ প্রথম বারের মত নির্বাচিত এমপি হিসেবে আপনার সাফল্য ও ব্যর্থতা সম্পর্কে বলুন?
আমার সাফল্য ডেভেলপমেন্ট ও কাজের মধ্যে আছে, শিক্ষা ক্ষেত্রে আছে ও সামাজিক কর্মকান্ডের মধ্যে আছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় উন্নতি সাধিত হয়েছে। আমি যখন এমপি হয়েছি তখন মুন্সিগঞ্জ ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ নাম্বারে ছিল। এখন এসে সমগ্র বাংলাদেশে সিরাজদিখান ১ ম ও শ্রীনগর উপজেলা সারা বাংলাদেশে ২ য় স্থান অধিকার করে।

প্রশ্নঃ আড়িয়ল বিল ট্রাজেডীতে আপনার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ ও আপনার জনপ্রিয়তায়ও ধ্বস নামছে এব্যাপারে ব্যাখ্যা দিবেন কি?
যেখান থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে সেখানকার স্থানীয় প্রতিনিধি উপস্থিত আছে তার সাথে জিজ্ঞেস করে দেখেন আসলে প্রকৃত ঘটনাটা কি। স্থানীয় প্রতিনিধি মোঃ ইকবাল হোসেন মাস্টার বলেন- প্রশাসনের ভুলের জন্যই এমন ঘোলাটে পরিস্থিতি হয়েছে। যদি সঠিকভাবে প্রশাসন দিক নির্দেশনা দিতে পারত তাহলে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতনা। এবার আমি বলি- প্রকৃতপক্ষে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে প্রশাসন। সিম্পল একটি উদাহরণ দিলে বুঝা যাবে। কতটুকু জায়গায় বিমান বন্দর করবে, কত একর জায়গা লাগবে সেটি না জেনেই উপজেলা ভূমি অফিসার লোকজন নিয়ে মানুষের বাড়ির ভিতরে লাল নিশান দিয়ে আসে। এতে ভিটাবাড়ি ও জমি হারানোর ভয়ে এলাবাসী খোভে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তাই আমারা সারাদিন জনগণকে মটিভেশন করছি কোনটি ভাল কোনটি মন্দ। আর প্রশাসান নোটিশ দিয়ে জনগণকে আরো উত্তপ্ত করে তোলে। যারা বিমান বন্দর চায়না তারাই এই হাঙ্গামার পরিস্থিতি তৈরী করছে। প্রশাসনের একটি অংশও এর সাথে জড়িত ছিল।

প্রশ্নঃ এই আসন থেকে আবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার ইচ্ছা আছে?
হ্যাঁ ইচ্ছা আছে। যদি দল আমাকে নমিনেশন দেয়।

প্রশ্নঃ আপনার নির্বাচনী এলাকা নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
কাজ শুরু করেছি কাজ এখনো শেষ হয়নি। আমার কাছে আসছে মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় কোনো প্রতিষ্ঠা সাহায্য সহযোগিতা করিনি এমন কোনো নজির নেই।

প্রশ্নঃ এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন?
সিরাজদিখানের লোকজন অনেক ভাল। এই এলাকার লোকজনের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। কারণ ৮ ইউনিয়নে তুলনামূলকভাবে নৌকা মার্কায় ভোট কম ছিল। কম থাকা সত্বেও আমি যে নির্বাচন করছি সে নির্বাচনে ২০ হাজার ভোট বেশি পেয়েছি।
প্রশ্নঃ ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের সাথে সময় দেয়ার জন্য?
আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।

মাসিক বিক্রমপুর