পলাশী যুদ্ধে বিক্রমপুরের রাজবল্লভ

গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল: রাজা রাজবল্লভ। ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের ষড়যন্ত্রকারীদের একজন। ইংরেজদের দোসর হিসেবে ঢাকা ও বিক্রমপুরে ছিলেন ষড়যন্দ্রে লিপ্ত।

তিনি মুর্শিদাবাদে নবাব সিরাজ উদ দৌলার অন্যতম সভাসদ ছিলেন। কিন্তু ঘষেটি বেগমের সাথেও ছিল তার একটা গোপন সর্ম্পক। বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজকে ক্ষমতাচুৎ করার জন্য ঢাকা, বিক্রমপুর ও কলকাতায় যোগাযোগ রক্ষা করতেন ইতিহাসের খল নায়ক রাজা রাজ বল্লভ। এ রাজ বল্লভ ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের অর্থ নবাবের কাছে হস্তান্তর না করে তা আত্মসাৎ করে। পদ্মা পাড়ের বিলদাওনিয়াতে ১৭৩০-১৭৪৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন প্রাসাদ ও অট্রালিকা নির্মাণ করেন। এ সকল অট্রালিকার মধ্যে ছিল একুশরত্ন, নবরত্ন, পঞ্চরত্ন ও সপ্তরত্ন প্রাসাদ।


এছাড়াও রাজবল্লভ চুঁড়াসহ দুটি মঠ বিলদাওনিয়াতে নির্মাণ করেন। বিলদাওনিয়ার নাম রাখেন “রাজনগর” রাজা রাজবল্লভের পূর্ব পুরুষেরা কেউ রাজা বা জমিদার ছিলেন না। তার পূর্ব পুরুষেরা মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর বসু পরিবারের রাজ কর্মচারী ছিলেন। তিনি হঠাৎ করে কিভাবে রাজা হলেন সে কথার ফয়সালা ইতিহাস দিতে পারেনি। অনুমান করা হয় বসু পরিবার ও নবাব সিরাজের টাকা আত্মসাৎ করেই রাজবল্লভ অঢেল টাকার মালিক হন এবং রাজা হন। এ বিলদাওনিয়া বা রাজনগর কোথায়? কার্ত্তিকপুর ও বিক্রমপুরের পশ্চিম পাশে। বর্তমান লৌহজং, জাজিরা ও শিবচর এ তিন থানার মধ্যে স্থলই হলো রাজনগর। যা এক সময় বিক্রমপুরের মধ্যে ছিল। পরে রাজবল্লভ রাজনগরকে একটি পরগনায় রূপান্তর করেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদিখান ও শ্রীনগরে রাজবল্লভের কোন ইমারত লক্ষ্য করা যায় না। এমন কি নড়িয়া শরীয়তপুর কিংবা শিবচরেও কোন ইমারত দেখা যায় না। শুধু ঢাকার শাখারী বাজার এলাকায় রাজ রাজেশ্বর মন্দিরটি রাজবল্লভ নির্মিত বলে মনে করা হয়।


মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার তালতলার ফেগুনসার শিব মন্দিরটি তিনি সংস্কার করেন বলে বিক্রমপুরের ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। ফেগুনসার শিবমন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজাধিরাজ বল্লাল সেন। মুন্সীগঞ্জ জেলার ৬টি উপজেলায় ৯৭৪ খ্রিষ্ঠাব্দের মাজার ১৪৮৩ খ্রিষ্ঠাব্দের মসজিদ। ১৬৬০ খ্রিষ্ঠাব্দের দূর্গ, ১৫৬৯ সালের মসজিদ, নবম শতকের বৌদ্ব বিহার থাকলেও ১৭৪৪-১৭৬০ এর মধ্যে রাজবল্লভের কোনকীর্তি দেখা যায় না। এটা একটি রহস্যও বটে! তার নির্মিত প্রাসাদ পঞ্চরত্ন, সপ্তরত্ন ও একুশরত্ন নিয়েও দ্বিমত রয়েছে।

বিক্রমপুর গবেষকরা মনে করেন তার এ প্রাসাদ গুলো মগরাজা মঙ্গতরায় নির্মাণ করে ছিলেন। মঙ্গতরায় শাহসুজার মুন্সীগঞ্জের সেনাপতি ছিলেন। হয়তো মঙ্গত রায়ের প্রাসাদ গুলো রাজবল্লভ দখল করে নেয়। রাজা রাজবল্লভ পলাশীর ষড়যন্ত্রকারী। বাংলার ইতিহাসের জঘন্যতম ব্যক্তি। তার সময় বিক্রমপুরের কোন উন্নয়ন তো হয়নি। বরং খালকাটা নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ হত্যা করেছে রাজবল্লভ। রাজবল্লভ মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের লোক তা ভাবতে ঘৃণা বোধ করে এখানকার সাধারণ মানুষ।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ