বাস মালিকের কাছে যাত্রীরা জিম্মি

দীঘিরপাড় ট্রান্সপোর্ট পরিবহনের মালিক ও বাস শ্রমিকের কাছে মুন্সীগঞ্জের যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। পরিবহনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছে। যাত্রী সেবার নামে এখানকার যাত্রীরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে সেতু চালুর আগে এখানে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস চালু ছিল। তখন তাদের হাতে এখানকার যাত্রীরা জিম্মি ছিল। মহাজোট সরকারের সময় এখানে ঢাকা ট্রান্সপোর্টকে টেক্কা দিয়ে দীঘিরপাড় ট্রান্সপোর্ট পরিবহন চালু হয়। এতে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোন ঠাসা হয়ে পরে। তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে এখানে দফায় দফায় বাস বাড়া বেড়েছে। সিটিংয়ের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫৫ টাকা করে বাস বাড়া আদায় করা হয়। কিন্তু সিটিংয়ের বাইরে প্রতিটি বাসে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানো হয়। প্রথমে শহরের নতুন বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসটি ছেড়ে মুক্তারপুরের সেতুর পূর্বপাড়ের বাসস্ট্যান্ডে যায়। কিন্তু শহর থেকে ছেড়ে যাওয়ার পথে কোন যাত্রী উঠানো হয় না তখন। তবে সেতুর পশ্চিমপাড়ের সেতু পার হলে ঢাকার দয়াগঞ্জ পর্যন্ত লাগামহীনভাবে প্রতিদিন যাত্রী উঠানো হয়। যদি সিটিংয়ের যাত্রী ভাড়া নেয়া হবে, তবে কেন দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়া হবে? এক্ষেত্রে ভাড়া কমিয়ে নেয়া উচিত নয় কি? নতুন বাস স্ট্যান্ড ছাড়া শহরের আর কোথাও কোন বাস স্ট্যান্ড নেই। এর ফলে যাত্রীদেরকে অতিরিক্ত রিক্সা ভাড়া দিয়ে নতুন বাস স্ট্যান্ডে যেতে হয়।

শহরের প্রাণ কেন্দ্র সুপার মাকের্টে একটি বাস স্ট্যান্ড করা অতি প্রয়োজন। যাত্রীবাহীবাস যাওয়ার পথে মুক্তারপুরের সেতুর এপার, ওপারে ও কাঠপট্রি এবং ঢাকার থেকে ফেরার পথে ধোলাইপার, পোস্তগোলা ও পাগলায় বাস স্ট্যান্ড রয়েছে। কিন্তু মুল স্থান থেকে সিটিংয়ের নামে যাত্রী বোঝাই করে বাস ছাড়া হয়। ফলে অন্য স্টান্ডের অপেক্ষেমান যাত্রীদের দাঁড়িয়ে বাসে যাতায়াত করতে হয়। এতে বিপাকে পরে নারী ও শিশু যাত্রীরা। এসব অপেক্ষমান যাত্রীদের সিটের কোন সম্বনয় করা হয় না। এসব বাসের সিটের অবস্থায়ও খারাপ। সিটের মাঝখানে মাঝের অংশে কোনভাবেই পা রাখা যায় না। রাস্তার মাঝখান থেকে কিচ’ যাত্রীদের বাম্পারের ওপর আলাদা জাজিম দিয়ে কয়েকজন যাত্রীদের বসানো হয়। এ বিষয়ে বাসের ড্রাইভার ও হেলপার বেপরোয়াভাব দেখান। ভোক্তভুগিরা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ

One Response

Write a Comment»
  1. নিজেদের ইচ্ছামত এরা ভাড়া বাড়িয়ে চলতেছে। এখন ভাড়া রাখে ৫৫ টাকা যেটা অনেক বেশি । এইসব জিনিস কি দেখার কেউ নেই। জেলা শহর হওয়া সত্ত্বেও বাস সার্ভিসের এমন বেহাল দশা । এম. পি. সাহেবের চোখে কি এইসব পরে না ????