আইনজীবী সমিতিতে বিএনপি সমর্থক প্রার্থীদের ভরাডুবির নেপথ্যে

দলীয় কোন্দলে মুন্সীগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতিসহ ৮টি পদ হারাতে হলো বিএনপি সর্মথিত আইনজীবীদের। রোববার দিবাগত রাত ১ টার দিকে ঘোষিত ফলাফলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও একটি সহ-সভাপতিসহ ৭টি পদে জয়লাভ করেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ও একটি সহ-সভাপতিসহ ৮টি পদে জয়লাভ করেন। সভাপতি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নাসিরুজ্জামান খান ৮ ভোটের ব্যবধানে জয় পান। তিনি পান ৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি আব্দুল মান্নান পান ৯০ ভোট। এছাড়া বিএনপি দাবি করা অপর একটি পক্ষের সভাপতি পদের স্বতন্ত্র প্রাথী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান পান ৭৪ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মুহাম্মদ মাসুদ আলম ৫৯ ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেন। তিনি পান ১৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের কাজী নজরুল ইসলাম অসীম পান ৯৭ ভোট। বিএনপি সমর্থক মান্নান-মাসুদ পরিষদের সহ-সভাপতি পদে মো. সাইফুল ইসলাম মাহমুদ, লাইব্রেরী সম্পাদক মো. রেজাউর রাজ্জাক প্যারট, কোষাধ্যক্ষ মো. হান্নান মিয়া জুয়েল, ক্রীড়া ও নাট্য সম্পাদক মুহাম্মদ মজিবুর রহমান ও কার্যকরী সদস্য পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন জয় লাভ করেছেন হাবিবুর রহমান খান ও আকলিমা আকতার সুপ্তি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ আনোয়ার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশীদ সবুজ, দপ্তর সম্পাদক হোসেন আলী, ধর্ম বিষয়ক ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবীর, কার্যকরী সদস্য পদে মো. নূর হোসেন, মনির হোসেন ও আতিকুর রহমান জুয়েল জয়ী হয়। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আইনজীবীদের এক বছর মেয়াদী কমিটির নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে সমিতির ২৬৬ টি ভোটের মধ্যে ২৬৩টি ভোট কাস্ট হয়েছে। ভোট গগনা শেষে রোববার দিবাগত রাত ১ টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট সালাহউদ্দিন ঢালী ফলাফল ঘোষণা করেন।

সূত্র মতে, জেলা আইনজীবী সমিতিতে কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী বিএনপি দাবি করে দীর্ঘ বছরে কয়েকবার সাধারণ সম্পাদক-সভাপতি হয়েছেন-এমন এক আইনজীবীকে নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। গত বছর ওই গ্রুপের দল নেতা সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যায়। কোন্দলের রেষে সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি সমর্থক ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থক ২ প্রার্থী এমারত হোসেন ও মাসুদ আলম সমান সংখ্যক ভোট পেলে পুনরায় নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থী নাসিমা আক্তার তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। সেই নির্বাচনের পরাজয়ের রেষ ধরে বাম ঘরানার ওই সিনিয়র আইনজীবী নিজেকে বিএনপি দাবি করে আরো কয়েকজন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীকে নিয়ে এবার স্বতন্ত্র হিসেবে জাতীয় পার্টির ভাইস-চেয়ারম্যান এডভোকেট মুজিবুর রহমানকে নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী করান বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর বিএনপির ওপর ভর করে চলা কয়েকজন আইনজীবী মুজিবুরের পক্ষে মাঠে নামেন। এর প্রভাব ১৫ টি পদের প্রার্থীদের মধ্যেও পড়ে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী শক্তিশালী না হওয়ায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদকের প্রার্থী মুহাম্মদ মাসুদ আলম। গত নির্বাচনে পরাজয়ের পর আইনজীবীদের পক্ষে ব্যাপকভাবে কাজ করার ফলে এবার প্রার্থী হিসেবে মাসুদ আলম বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে মাসুদ আলম জয় পায়। কিন্ত সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থক ভোট ভাগ হয়ে পড়লে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি প্রার্থী ৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান পরাজিত হয় ২৪ ভোটের ব্যবধানে।


জাতীয়তাবাদী সাধারণ আইনজীবীদের মতে, জেলা বারে বিএনপিা সুবিধাভোগী আইনজীবীদের বিএনপি থেকে সাইড না করলে ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের চিহ্নিত করে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে আগামী বছরের নির্বাচনে এমন মাশুল দিতে হবে তাদের।এছাড়া জেলা বারে একেবারে কর্মকা-হীন ও কয়েকজনকে নিয়ে নামকাওয়াস্তে করা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে শক্তিশালী করার লক্ষে নতুন কমিটি গঠন করার কথাও জানান তারা।

উল্লেখ্য, প্রতিবছরই জেলা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের সংখ্যা বাড়ছে।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি