খাল ও কালভার্টের মুখ ভরাট করে দখল

khal1জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রের বাস ভবন ঘেরাও
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার কোটগাঁও-গনকপাড়া-দেওভোগ, কাটাখালী খাল, পঞ্চসারের সরদার পাড়া, দশকানি ও শশ্মানঘাট এলাকায় খাল ও কালভার্টের মুখ ক্ষমতাসীন দলের একটি প্রভাবশালী চক্র ভরাট করে দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শহরের কোর্টগাঁও-গনকপাড়া ও পঞ্চসার শশ্মানঘাট খালের মুখ ও কালভাটের মুখ বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলায় সামান্য বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারি খাল-কালভার্টের মুখ বালু দিয়ে কিভাবে ভরাট করা হয়েছে-এ নিয়েও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে, শহরের কোর্টগাঁও-গনকপাড়া খালের মুখ বালু দিয়ে ভরাট করার প্রতিবাদে শনিবার সকালে পৌর মেয়র ও জেলা প্রশাসকের বাস ভবন ঘেরাও করে এলাকাবাসী। খাল ভরাট করায় শহরের কোর্টগাঁও এবং গনকপাড়া এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শত শত গ্রামবাসী সকালে শহরের দেওভোগ এলাকাস্থ মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র একেএম ইরাদত মানুর বাস ভবন ও শহরের আদালতপাড়া এলাকায় জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদলের বাস ভবন ঘেরাও করে।


এদিকে, গ্রামবাসীর এই প্রতিবাদের মুখে অবেশেষে শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ কোর্টগাঁও-গনকপাড়া খাল পুন:উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। পৌর মেয়র একেএম ইরাদত মানুর নিদের্শে ওই খালের ভরাটকৃত বালু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সদর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, কোর্টগাঁও ও গনকপাড়া এলাকাবাসী সকাল ৮ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত পৌর মেয়র ও জেলা প্রশাসকের বাস ভবন ঘেরাও করে রাখে। পরে পৌর মেয়র একে এম ইরাদত মানু খাল পুন:উদ্ধারের আশ্বাস দিলে পৌর মেয়র ও জেলা প্রশাসকের বাস ভবন থেকে ঘেরাও প্রত্যাহার করে নেয় এলাকাবাসী। এরপর কোর্টগাঁও-গনকপাড়া খালের মুখের ভরাটকৃত বালু সরিয়ে নেওয়ার কাজে নামে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পৌরসভার কর্মচারীরা। এর আগে গত বুধবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমী সড়কে শহরের গনকপাড়া, দেওভোগ ও কোর্টগাঁও এলাকার বিভিন্ন পুকুর-জলাশয়-খাল পুন:উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করে শতাধিক নারী-পুরুষ। ওই কালভার্টের মুখের জায়গায়ও বালু দিয়ে ভরাটের কারণে বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের মুখগুলো বন্ধ হয়ে পড়েছে।
khal1
মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সোনিয়া সুলতানা জানান, গত ২৭ জুন শহরের কোর্টগাঁও-গনকপাড়া খাল ভরাটকারী শহরের কোর্টগাঁও গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান গংকে ঢাকার পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দফতরে তবল করা হয়। সেখানে দু’পক্ষের শুনানী শেষে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, খাল ও কালভার্ট থেকে ভরাটকৃত বালু সরিয়ে নেয়ার নিদের্শ প্রদান করা হয়। এদিকে, খালটি ব্যবহারকারী কোটগাঁও, গনকপাড়া ও দেওভোগ গ্রামবাসী গত ২০ জুন জেলা প্রশাসক, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পরিবেশ অধিদফতরের কাছে খালটি পুনরুদ্ধারসহ খাল ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে পরিবেশের ক্ষতি করার দাবিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেন।

এর আগে গত ১২ জুন খাল ও কালভার্টের মুখ ভরাটকারীদের পরিবেশ অধিদফতর ৭ দিন সময় বেঁধে দিয়ে খাল ও কালভার্ট থেকে ভরাটকৃত বালু সরিয়ে নেয়ার নিদেশ প্রদান করেন। কিন্তু ৭ দিন অতিবাহিত হলেও ভরাটকারীরা পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশ মত বালু সরিয়ে নেননি।

এ ব্যাপারে আরিফুর রহমান বলেন, আমি কন্ট্রাক্ট নিয়ে ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করে দিয়েছি। ওই সম্পত্তির মালিক আমি নই, মালিক কোর্টগাঁও গ্রামের আওয়ামী লীগ ঘরানার ইনামুল ইসলাম বাবুল গং। তাদের কাছ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল হোসেনের ভাই বন বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা মো. আমির মুন্সী পাওয়ার অব এন্ট্রনি নিয়ে জমি ভরাট করেছেন। ওই জরিমানার টাকা আমির হোসেন মুন্সী কার রবিবারের মধ্যে দেয়ার কথা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ পৌর মেয়র একে এম ইরাদত মানু বলেন, পৌরবাসীর কষ্ট নিরসনেই কালভার্টের মুখ খুলে দেয়ার চেষ্টা চলছে। খালের মুখ থেকে ভরাট করা বালু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আন্দোলনকারীরা দখল হয়ে যাওয়া সব ধরণের খাল ও কালভার্টের মুখ থেকে বালু সরিয়ে নিয়ে দখলমুক্ত করার দাবি তুলেছেন।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি