আজ মুন্সীগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

lawelectionউৎসবের আমেজে মেতেছে মুন্সীগঞ্জ আদালতপাড়া। জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে আদালতপাড়ার সর্বত্র ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও লিফলেটে ছেয়ে গেছে। এক বছরের জন্য আজ রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আইনজীবী সমিতির ভবনে শুরু হচ্ছে আইনজীবীদের ভোটাভুটি। জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচনে ১৫টি পদের বিপরীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ঘরানার ২টি পূর্ণ প্যানেলে ৩০ জন প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে লড়ছেন আরো ১ জন। সবমিলিয়ে সভাপতি পদে ৩ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ২জনসহ ৩১ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে নেমেছেন।

এবারই প্রথম মুন্সীগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে নির্বাচন করছেন। ইতিপূর্বে বহিরাগতরা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ফোরামের ব্যানারে নির্বাচন করতে পারেননি প্রার্থীরা। দীর্ঘবছর বহিরাগতরা বিএনপির ব্যানারে নির্বাচন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হয়ে এবার নির্বাচনে ওইসব বহিরাগতদের গুরুত্বপূর্ণ ২টি পদে আনেননি মুন্সীগঞ্জ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। বিএনপির প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়ে সুবিধা নেয়া ওইসব গুটি কয়েক আইনজীবী মত পাল্টিয়ে এখন সভাপতি পদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের অভিযোগ।


জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে এবারই প্রথম সভাপতি পদে লড়ছেন ফোরামের সভাপতি ও শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার নয় নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মাসুদ আলম। আওয়ামী লীগ প্রার্থী সঙ্কটে পড়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের ২ প্রার্থীকেই বাইরে থেকে এনেছেন। আওয়ামী লীগ আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেলা শাখার (জাসদ, ইনু) সভাপতি নাসিরুজ্জামানকে সভাপতি পদে এবং জেলা জাসদের কার্যকরী কমিটির সদস্য কাজী নজরুল ইসলাম অসীমকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী করেছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে সভাপতি পদে লড়ছেন, বিএনপি থেকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বর্তমান জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান।
lawelection
সাধারণ আইনজীবীদের মতে, সভাপতি পদে ত্রিমুখি লড়াই হতে পারে। জেলা বারে সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী অসীমের ব্যক্তিগত বদনাম থাকায় তিনি ভোট যুদ্ধে পিছিয়ে থাকতে পারেন বলে ভোটারদের অভিমত। আবার বিএনপি থেকে সুবিধা নেয়া একটি পক্ষ সাধারণ সম্পাদক পদের অপর প্রার্থী মাসুদ আলমের বিরোধীতা করায় সেখানে অসীমের কিছুটা ভোট টানার সম্ভবনা রয়েছে। তবে, সবমিলিয়ে বিএনপি সমর্থকরা দলের বাইরে ভোট না দিলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন-এটা প্রায় নিশ্চিত।

জেলা আইনজীবী সমিতিতে ২৬৭ জন ভোটার রয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি সালাহউদ্দিন ঢালী। সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন- আইনজীবী মো. আরেফিন সুমন ও এসআর রহমান মিলন।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি