শীর্ষ সন্ত্রাসী-ভূমিদস্যু জাহিদ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

zahid1ডিবির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার তালিকাভুক্ত অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু জাহিদ হাসান (৩৫)-কে অবশেষে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় এক নেতা ও কেন্দ্রীয় অপর নেতার শেল্টারে শহর লাগোয়া পঞ্চসার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পরিচয়দানকারী এ সন্ত্রাসী ব্যাপক আলোচিত হয়ে ওঠেন। এ সময়ে এলাকায় জাহিদ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, এলাকায় সাধারণ মানুষ বাড়ি-ঘর নির্মাণে চাঁদা দাবি ও মানুষের জমি-জমা দখল করে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তোলে। শহর লাগোয়া নয়াগাঁও পূর্বপাড়া এলাকার নিজ গ্রামে মাদকের গডফাদার হয়ে পড়ে। ফেনসিডিল-ইয়াবা পাইকারী ও খুচরা ব্যবসা চালিয়ে যায় দেদারছে। জমি ব্যবসার নামে সাধারণ মানুষের জমি-জমা দখল বাণিজ্য শুরু করে। এলাকায় কেউ জমি ক্রয় ও বাসা-বাড়ি নির্মাণ কাজে হাত দিলেই তাকে ও তার বাহিনীকে দিতে হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা। বুধবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে শহরের লাগোয়া নয়াগাঁও পূর্বপাড়া এলাকা থেকে ৩১৫ পিস ইয়াবা, নগদ ৪১ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল সেটসহ জেলার ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার সহযোগী নয়নকে না পেয়ে নয়নের বাবা আব্দুল হাকিম (৫৫) ও বোন রোজিনা (৪৫)-কেও গ্রেপ্তার করা হয়। আব্দুল হাকিমের কাছে ৫ পিস ও রোজিনার কাছে ১০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে ডিবির এসআই মাসুদুল হক দাবি করেছেন। তবে, এলাকাবাসী বলেছেন, নয়ন অপরাধী হলেও তার বাবা বোন নিরীহ। তারা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। এদিকে, সন্ত্রাসী জাহিদকে গ্রেপ্তারের পর জাহিদের স্ত্রীর কাছে ডিবির এসআই ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ওঠেছে। এদিকে, জাহিদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সহযোগী আইন উপদেষ্ঠা হিসেবে পরিচিত থানা কাউন্সিল এলাকার তিন নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম পারভেজ হীরা, নতুনগাঁওয়ে মান্না, নয়াগাঁও পূর্বপাড়ার জাহিদের ভাই অন্যতম মাদক ব্যবসায়ী মতু মাদবর, সিরাজসহ অন্যরা আত্মগোপনে চলে গেছে। ওদিকে, জাহিদের বিরুদ্ধে ২টি ডাকাতি, ২টি অস্ত্র ও কয়েকটি জিডি রয়েছে বলে ডিবির এসআই মাসুদুর রহমান মাসুদ দাবি করেছেন। অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদ- হয়েছিল। পরে নয়াগাঁও পশ্চিমপাড়া গ্রামের বিএনপির এক ধর্ণাঢ্য ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করার লক্ষ্যে টাকা-পয়সা খরচ করে উচ্চ আদালতের শরানাপন্ন হয়ে জাহিদকে মুক্ত করে। এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে জাহিদকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামী রোববার এর রিমান্ড শুনানী হবে বলে ডিবির এসআই মাসুদুল হক দাবি করছেন।
zahid
এদিকে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা ও কেন্দ্রীয় অপর এক শীর্ষ নেতার আশ্রয়ে ভূমিদস্যু ও মাদকের গডফাদারের পরিণত হয় জাহিদ। বিভিন্ন দলীয় সভা-সমাবেশে জাহিদকে গ্রেপ্তার করার জন্য জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই প্রকাশ্যে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির একাধিক সভায়ও জাহিদকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান উপস্থিত সদস্যরা। কিন্ত পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাকে গ্রেপ্তার করেনি। বুধবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে নয়াগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের মাদক ডিলার জাহিদের সহযোগী নয়নের সঙ্গে একই গ্রামের অপর মাদক স¤্রাট দিন মোহাম্মদ ও তার স্ত্রী মাকসুদা বেগমের ধাওয়া ধাওয়ি শুরু হয়। এ সময় সেখানে সদর থানার পুলিশ গিয়ে ম্যানেজ হয়ে ফিরে আসে। এরই মধ্যে মাদক স¤্রাট দিন মোহাম্মদদের হস্তক্ষেপে ডিবির একদল পুলিশ সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়। এ সময় নয়নের বাবা-বোনকে আটক করে। ঘটনাস্থলে জাহিদ উপস্থিত হলে তাকেও আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এরপর মোটা অঙ্কের বাণিজ্যের আশায় বসে থাকে ডিবি। এ বিষয়ে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় সাংবাদিকরা শত চেষ্ঠা করেও ডিবির এসআইয়ের কাছ থেকে তার গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি। এদিকে, তার গ্রেপ্তারের সংবাদে নয়াগাঁও এবং শহরের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার টার দিকে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে যুবলীগের সন্ত্রাসী জাহিদের স্ত্রী সাদিয়া ইয়াসমিন এমিলি (২৮) দাবি করে বলেন, তার স্বামী এখন মাদক ব্যবসা করেন না। তার কাছে ডিবি পুলিশ কোন ইয়াবা পায়নি। জাহিদকে আটক করে ডিবি অফিসে নিয়ে আমার কাছে ডিবির এসআই মাসুদুল হক ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে তা নামিয়ে ৩ লাখ টাকা করা হয়। বলা হয়, এ টাকা দিলে জাহিদকে মাদকের আসামি করা হবে না। অন্যথায় ৫শ’ ইয়াবা দিয়ে তার স্বামী জাহিদকে কারাগারে পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন, এ ৩ লাখ টাকার জন্য বুধবার রাত সাড়ে ১০ টা থেকে রাত ১১ টা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত ডিবির কনস্টেবল নূরে আলম তার মোবাইল নম্বর ০১৭১২-৪৩২০১১ থেকে আমার মোবাইলে (০১৭১৭-১৬৭০৪০) অন্তত ৩০ বার ফোন করে। পরে টাকা না দিলে এসপি অফিসের একটি গাছের গোড়ার নিচ থেকে পলিথিনে মোড়ানো ইয়াবা নিয়ে আমার স্বামীকে ওই ইয়াবা দিয়ে আসামি করা হয়। এ ব্যাপারে ডিবির এসআই ও কনস্টেবল এ অভিযোগ অসত্য দাবি করে বলেন, এখন তারা কত কথাই না বলবে। এগুলো ডাহা মিথ্যা কথা।


কে এই জাহিদ হাসান
শহর ও শহরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে রঙিন পোস্টার সাটিয়ে নিজেকে সভাপতি পরিচয় দেওয়া নয়াগাঁও এলাকার আব্দুল কাদিরের ছেলে জাহিদ হাসান এক সময় টেইলার্সে দর্জির কাজ করতেন। এরপর মাদকসেবী হয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। এই ধারাবাহিকতায় জাহিদ শহরের আলোচিত মুক্তার হত্যা, মাসুম হত্যার সঙ্গে জড়িয়ে হত্যা মামলার আসামি হন। এছাড়া অস্ত্র মামলাসহ একধিক মামলার আসামি হয়েও তালিকাভূক্ত হন পুলিশের খাতায়।
zahid1
স্থানীয় ও দলীয় বিভিন্ন সূত্র মতে, এতে শহরের আলোচিত হয়ে ওঠেন জাহিদ হাসান। দীর্ঘদিন পলাতক থেকে ও জেল হাজতে খাটেন। নয়াগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের হামিদা খাতুনে বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় মামলায় তার ১০ বছরের সাজা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম দিকে নয়াগাঁও পশ্চিমপাড়া গ্রামের বিএনপির এক ধর্ণাঢ্য ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করার লক্ষ্যে টাকা-পয়সা খরচ করে উচ্চ আদালতের শরানাপন্ন হয়ে জাহিদকে মুক্ত করে। জেল থেকে বের হওয়ার পর তার আপন ভাই ও সঙ্গীদের নিয়ে তৈরি করেন একটি গ্রুপ। তার নেতৃত্বে শুরু হয় নয়াগাঁও ও তার আশপাশ এলাকায় মাদক ব্যবসা ও পাওয়ার অব এট্রনি নিয়ে জমি ক্রয় বিক্রয় ও দখলের কাজ। বর্তমানে নয়াগাঁও ও তার আশপাশ এলাকা মাদকের জোন হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে।


জাহিদের নেতৃত্বে তার আপন ভাই মজিবর পরিচালনার দায়িত্বে আছেন সম্পত্তি কেনাবেচায়। অপর ভাই হাবি পরিচালনা করেন ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কারবার। সেই টাকা উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত আছেন তারই আরেক ভাই মতু। এছাড়া তার গ্রুপের সেকেন্ড ইন-কমান্ড হিসেবে রয়েছেন মান্না, আইন উপদেষ্ঠা হিসেবে ভূমিদস্যুর তালিকায় ইব্রাহিম পারভেজ হীরাসহ অপর সদস্যরা এসব কাজে যোগান দিয়ে থাকেন। বর্তমানে নয়াগাঁও ও আশপাশ এলাকায় মহিলাসহ একাধিক খুচরা মাদক বিক্রেতা এ সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মাদক পাইকারী ক্রয় করে থাকে। এরফলে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে জাহিদ হাসান মাদক ব্যবসা ও জোরপূর্বক সম্পত্তি ক্রয় বিক্রয় বিভিন্ন পন্থায় বর্তমানে অনেক টাকার মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি
====================

মুন্সীগঞ্জে যুবলীগ নেতা ইয়াবাসহ আটক

মুন্সীগঞ্জের আলোচিত ও বির্তকিত যুবলীগ নেতা পরিচয়ধারী ও মাদকের গডফাদার জাহিদ হাসানকে (৩৬) আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের নয়াগাওঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৩শ’ ১৩ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আ’লীগের এক শীর্ষ নেতার আশ্রয়ে মাদকের গডফাদার হওয়া জাহিদকে গ্রেফতারের জন্য জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই প্রকাশ্যে দা‍বি জানিয়ে আসছিলেন।

এছাড়া জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির একাধিক সভায় জাহিদকে গ্রেফতারের বিষয়ে আলোচনা হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাকে গ্রেফতার করেনি। এ অবস্থায় তার আটকের খবরে শহরের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এদিকে, তাকে আটকের পর মুন্সীগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ডিবি পুলিশ।

ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে শহরের উপকণ্ঠ নয়াগাওঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩১৫ পিস ইয়াবাসহ জাহিদকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ৪১ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, এছাড়া অভিনব কৌশলে বিভিন্ন বস্তায় অন্যান্য মালামালের সঙ্গে রাখা হয় ইয়াবার চালান। বিষয়টি জানতে পেরে তার বাড়িতে থাকা বেশ কিছু মালামাল ভর্তি বস্তা জব্দ করা হয়। পরে এ বস্তাগুলো তল্লাশি চালানো হয় কিন্তু সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় পুলিশ ডিবি’র এসআই মাসুদ বাদী হয়ে সদর থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
==================