শান্ত হয়নি যুবদলের দু’গ্রুপ, পাল্টাপাল্টি ৬ মামলা, গ্রেপ্তার ৪

যুবদলের কমিটির গঠন নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গোলাগুলির তিনদিনেও শান্ত হয়নি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি। গত তিন দিনে পুলিশ দু’পক্ষের ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খান বংশের সুমন খান (৩৫) ও তার ভাই কাউসার খান (২৪)-কে ও এর আগে সিকদার পক্ষের আকবর কাজী (৩৫) ও সেলিম শিকদার (৩২) নামের ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে ৬টি। বিএনপি সমর্থক খান ও সিকদার গ্রুপের দু’পক্ষ টঙ্গীবাড়ি থানায় ৩টি করে মোট ৬টি মামলা দায়ের করেন। এতে খান বংশের পক্ষে সেলিম খান, রফিকুল ইসলাম খান, মোশাররফ হোসেন খান ও সিকদার বংশের পক্ষের আতাউর রহমান সিকদার, আলম শিকদার, জাহাঙ্গীর শিকদার বাদী হয়ে এ মামলাগুলো দায়ের করেন। এ সব মামলায় মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ সময় বেতকা ইউনয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী সিকদারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেও তাৎক্ষণিক প্রভাবশালী মহলের তদবিরে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া দু’পরিবারের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া বুধবার সকাল পর্যন্ত চলে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থামেনি। সিকদার ও খান পরিবারের লোকজন এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। যে কোন সময় ওই দু’পরিবারের লোকদের মধ্যে আবারো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

দলীয় এ সংঘর্ষ এখন বেতকা ইউনিয়নের বিএনপির দু’প্রভাশালী পরিবার খান ও সিকদার বংশের লোকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। খান সমর্থকরা বেতকা বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। অপরদিকে, প্রতিপক্ষের বেতকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ সিকদার ও তার ছেলে উপজেলা যুবদলের যুগ্ন-সম্পাদক রিগ্যান গ্রুপ বেতকা চৌরাস্তায় এলাকায় সশস্ত্র অবস্থানে রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে সিকদার গ্রুপের হামলার আশঙ্কায় বেতকা বাজারের অধিকাংশ দোকান-পাট বন্ধ রয়েছে।


সূত্র মতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেতকা বাজারে বেতকা ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি গঠনের দিনক্ষণ নির্ধারন নিয়ে বেতকা ইউনয়ন যুবদলের দুই সভাপতি প্রার্থী রিগ্যান শিকদার ও বাবু খানের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী সিকদারের ছেলে রিগ্যান সিকদার রিভলবার উঁচিয়ে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দলীয় কার্যালয়ের চেয়ার ভাঙচুর করে সিকদার গ্রুপ।একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়ে যায়। এ সময় সিকদার গ্রুপ বেতকা চৌরাস্তায় সুমন খানের দু’টি ফলের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটসহ বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে। গুরুতর জখম করে সুমন খান ও তার ভাই কাউসার খানকে। রাতভর চলে এ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি