বর্ষা মৌসুম শুরু : সিরাজদিখানে নৌকা তৈরীর ধুম, বিক্রিও শুরু

boatবর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকার দক্ষিনে ২০/৩০ কিলোমিটার দূরে সিরাজদিখান ও আশেপাশের উপজেলার নি¤œানচল এলাকাগুলো বর্ষা মৌসুম শুরুর সাথে সাথে পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি থৈ থৈ করছে। রাস্তা ঘাট তলীয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সে সব এলাকায় জনসাধারনের চলাচলের প্রধান মাধ্যম হয়েছে নৌকা। তাই ঐসব এলাকায় নৌকার কদর এখন বেড়ে গেছে। সিরাজদিখান উপজেলার আশে-পাশে বিভিন্ন কারখানায় দিন-রাত নৌকা তৈরীর কাজ চলছে। এলাকায় নৌকা তৈরী মিস্ত্রীদের ব্যস্ততা ও মজুরী বেড়ে গেছে। নৌকা তৈরীর প্রধান উপকরন কাঠ। তাই কাঠ ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও ভাল হচ্ছে। হাট-বাজার ও রাস্তার পাশে এখন নৌকা বিক্রয় করতে দেখা যাচ্ছে।

সিরাজদিখান উপজেলার চরবিশ্বনাথ গ্রামের কাঠ মিস্ত্রি বলরাম মন্ডল জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার কিছু পূর্বে অর্থাৎ জৈষ্ঠ্যে মাস থেকে নৌকা তৈরী শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত নৌকা তৈরী করে থাকেন। এ মৌসুমে প্রায় দেড় শত নৌকা তৈরী করে বিক্রয় করতে পারবেন বলে আশা করেন । কারন এ বছর পানির চাপ একটু বেশী বলে মনে হয়। গত বর্ষা মৌসুমে তিনি প্রায় একশত নৌকা তৈরী করে বিক্রী করেছেন। তিনি আরো জানান, যে বছর বর্ষায় পানি বেশী হয় সে বছর নৌকা বিক্রি বেশী হয় এবং দামও বেশী পাওয়া যায়। বর্তমানে এলাকায় কোষা নৌকার কদর বেশী। এসব নৌকা কড়ই ও চাম্বল কাঠের তৈরী বেশী চলে। তিনি আরোও জানান, একটি কোষা নৌকা তৈরী করতে সাধারনতঃ একজন মিস্ত্রির পুরোদিন লেগে যায়।

এবছর নৌকা তৈরীর সামগ্রী যেমন কাঠ, তারকাটার দাম বেশী ও মিস্ত্রির মজুরীও বেশী হওয়ায় নৌকা তৈরীর খরচও বেশী এবং বিক্রিও বেশী দামে করতে হয়। এ বছর দশ হাত লম্বা দুই হাত পাশ একটা কোষা নৌকা বিক্রয় করবেন প্রায় চার হাজার টাকা থেকে বিয়াল্লিশ শত টাকা। অথচ গত বছর বিক্রি করেছেন বত্রিশ শ থেকে পয়ত্রিশ শত টাকা।

একটা কোষা নৌকা সাধারনত ২/৩ বর্ষা মৌসুম ব্যবহার করা যায়। এসব কোষা নৌকা দিয়ে এলাকাবাসি আশেপাশে চলাচল ও বিভিন্ন কাজ-কর্মের জন্য ক্রয় করে থাকে। অনেক সচ্ছল ব্যক্তি ভ্রমনের উদ্দেশ্যেও কোষা নৌকা ক্রয় করে থাকেন।

বাংলাপোষ্ট২৪