ধর্ষক দারোগার বিচারের দাবিতে অধিকারের মানববন্ধন

sirapesস্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়ায় সিরাজদিখান থানার দারোগা জাহিদুল ইসলামের (৪০) বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মুন্সীগঞ্জে মানববন্ধন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’। এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এর আগে গত ১৮ জুন ধর্ষক দারোগা জাহিদুল ইসলামকে ২ দিনের রিমাণ্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

সূত্র মতে, এসআই জাহিদ গত ৫-৬ মাস আগে সিরাজদিখান থানায় যোগদান করেন। ভোলার চরফ্যাশনের আবুবক্করপুর গ্রামের ডা. মোশারফ হোসেনের ছেলে দারোগা জাহিদ।


এর আগে গত ১৪ জুন রাজদিয়া অভয় উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী (সাবরিনা আক্তার লাবন্য) (১২)-কে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে একই দিন ৭ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। ১৭ জুন জাহিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাটি সিরাজদিখান থানা থেকে জেলা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।

১৫ জুন বেলা ১১টার দিকে সিরাজদিখান থানার ধর্ষক দারোগার ফাঁসির দাবিতে রাজদিয়া অভয় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সিরাজদিখান থানা ঘেরাও করেন। এ সময় তারা ধর্ষক এসআই জাহিদুল ইসলামের ফাঁসির দাবি জানিয়ে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাসারের মাধ্যমে জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের বরাবর লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করে।

সিরাজদিখান থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম থানা সংলগ্ন রশুনিয়া এলাকায় একটি চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্লাটে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। ভবনের মালিক তথা বাড়িওয়ালা পরিবার-পরিজন নিয়ে চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন। গত ৮ জুন রাতে বাড়িওয়ালা তার ছোট এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে স্বস্ত্রীক ঢাকায় যান। এই সুযোগে ওই রাতে বাড়ি ওয়ালার মেয়েকে ধর্ষণ করে ওই দারোগা।

ওই দিন রাতে বাড়িওয়ালা ঢাকা থেকে ফিরতে পারেননি। এতে তার মেয়ে স্কুল শিক্ষার্থী ওই রাতে এসআই জাহিদুলের স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে গত ১৪ জুন সকাল ৮টার দিকে ধর্ষিতার পরিবার এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানায় গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। একই দিন বিকেলে সিরাজদিখান থানায় ধর্ষিত স্কুল ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

ওদিকে, রিমাণ্ডে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই মো. মাসুদুল হক মাসুদকে দারোগা জাহিদ জানিয়েছেন,তিনি বাড়িওয়ালার ষষ্ঠ শ্রেণীর পড়–য়া কন্যাকে ধর্ষণ করেনি। শিশুটির বাবা সিরাজদিখান থানা সংলগ্ন রশুনিয়ার সাবেক মেম্বার আক্তার হোসেন টিএণ্ডটির সরকারি জায়গা দখল করে হাসিজা ভবন নির্মাণ করেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় টিএ-টি অফিস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এ অভিযোগের তদন্ত দেয়া হয় তাকে। এ নিয়ে তার সঙ্গে তার বাড়িওয়ালার বিরোধ দেখা দেয়।

এদিকে, ধর্ষিতার মেডিকেল পরীক্ষাকারী মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. এহসানুল করিমকে শিশুটি ধর্ষিত হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ধর্ষণের ৭-৮দিন পরে মেডিকেল পরীক্ষা করা হলে তার আলামত পাওয়া যায় না। তবে, এক্সরে রিপোর্ট এবং স্বাক্ষী প্রমানের ভিত্তিতে তা প্রমান হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ব্যাপারে আব্দুস সাত্তার নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শিশুটির বয়স ১০-১১ হবে। শিশুটিকে দেখার পর তার মধ্যে ধর্ষণের কোন আলামত চোখে পড়েনি। শিশুটি ধর্ষিত হলে রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকতে হতো। শারীরিকভাবে বিধ্বস্ত থাকতো। কিন্ত সে রকম কোন আলামত মেয়েটির মধ্যে নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি