মুন্সীগঞ্জে মাদকের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে

মুন্সীগঞ্জে মাদকের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকের আগ্রাসনের কারণে এখানকার যুব সমাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বুধবার দুপুরে জেলা প্রাসাশকের সভাকক্ষে আইন জেলা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদলের সভাপতিত্বে এই সভায় প্রেসক্লাব সভাপতি মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল জানান, লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রায় মাদকের হাট বসে।

রবিবার পুলিশের এক এএসআই’র হাত থেকে হ্যান্ডকাপসহ মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ আপোষ করে চাবি দেওয়ার পর হ্যান্ডকাপ ফিরিয়ে দেয়। কয়েক মাস আগে এখানে মাদক বিক্রি নিয়ে এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি খুন হয়েছে। শত শত মোটর সাইকেলে করে সেবনকারীরা দিনরাত এখানে আসে মাদক কিনতে। অ


ভিযোগ রয়েছে- পুলিশের সাথে আতাঁত করে দীর্ঘ দিন ধরে এখানে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। মাদকের এমন হাট বসে জেলার আরও বেশ কয়েকটি স্থানে। মাওয়া ঘাট দিয়ে মাদকের বড় বড় চালান পাড় হচ্ছে। ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এই জেলাকে। পুলিশ কিছু মাদক সেবী ও খুচরা বিক্রেতাকে আটক করলেও গডফাদারা ধরা ছোয়ার বাইরে।

প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান জানান, শহরের একটি নামীদামী রেস্তোরায় মাদক ব্যবসা চলছে। মাদকসেবী এত বেড়েগেছে যে শহরে হাটাচলাও কষ্টসাধ্য। এছাড়া বিভিন্ন খাল ভরাট করে প্রভাবশালীরা। শহরের গণকপাড়া খাল দখল করেছে এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা। পরিবেশ রক্ষায় এসব খাল উদ্ধার জরুরি। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল হোসেন জানান, গোপালগঞ্জের সন্তান পরিচয়ে সদর থানার এক এসআই পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করছে। শহরের জমিদার পাড়ায় এই দারোগা তিন মাদকসেবীকে আটক করার পর রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দিয়েছে। শহরের অনেক মাদক ব্যবসায়ীরা এই দারগার গাধে হাত রেখে হাটাহাটি করেন। অনেক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের বিশেষ সখ্যতা দেখা যাচ্ছে। পিপি এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন বলেন, তিনি প্রশ্ন করেন পুলিশ ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করলেও কেন গড ফাদাররা গ্রেফতার হচ্ছেন না?


পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, মাদক উদ্ধার হচ্ছে। তবে মাদকের ব্যবহারও আছে। পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে মাদকের সাথে কোন পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এতে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সুখেন চন্দ্র ব্যানার্জী, এডিএম র‌্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূইয়া, লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান আ. গনি তালুকদার, টঙ্গীবাড়ী পজেলার চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ, আফসু ভূইয়া, সলেমান দেওয়ান, আমিরুল ইসলাম, কুতুবউদ্দিন আহম্মেদ, এ্যাডভোকেট রোজিনা ইয়াসমিন প্রমুখ।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ