তিন বছরের ইফতি পৃথিবীর আলো দেখতে চায়!

তিন বছরে ছোট্ট শিশু ইফ্তি পৃথিবীর আলো দেখতে চায়। দেখতে চায় তার জন্ম দাতা মা-বাবাকে। যে মায়ের পেটে থেকে বেড়িয়ে সে পৃথিবীতে এসেছে, সেই মা দেখতে কেমন? কেমন তার জন্মদাতা পিতা? এরকম আকুলতাই এখন ছোট্ট এ শিশুটির আধো আধো বোলে মা-বাবা ডাক বুঝিয়ে দেয় তার মা-বাবাকে দেখার আগ্রহ। দিনের আলোতে দেখতে চায় সে তার চারিপাশ। দেখতে চায় কি আছে এই পৃথিবীতে। কেমন দেখতে পৃথিবীর লোকগুলো। কেমনইবা এই পৃথিবীর যন্তু-জানোয়ার। কেউ যখন বলে, ‘আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা’ তখন অবুঝ এ শিশুটি উপরের দিকে তাকিয়ে থাকে।চাঁদের যে আলো আছে তাও সে বুঝতে পারেনা। দেখতে পারেনা কোন অক্ষর।

আথচ সে বাবা-মায়ের সাথে বলতে চায় আ, আ, এ,বি,এমনই সব অক্ষর। বাবা মায়ের চোখে এখন শুধুই জল। তাদের আদরের এ ইফ্তি কি কোন দিনই দেখতে পারবে না? চোখে দেখে লিখতে পারবেনা কি কোন অক্ষর? হয়তোবা পারবে- কিন্তু তা এখন বাবা মার সাধ্যের বাইরে চলে গেছে।কেবল বৃত্তবানদের সহযোগিতায় ইফ্তি ফিরে পেতে পারে তার চোখের দৃষ্টি। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ষোলআনী গ্রামের মেট লাইফ ইন্সিরেন্সের ইউনিট ম্যানেজার জালাল আহমেদ ও স্ত্রী ফাহিমা আক্তারের ঘরে আজ থেকে তিন বছর আগে ঢাকার মগবাজার আদ্ব দ্বীন হাসপাতালে জন্ম নেয় একটি ফুট ফুটে মেয়ে সন্ত্রান। বাবা-মা তার নাম রাখেন আনিকা তাহ্িসন ইফ্তি।জন্মের পর পরই ইফতির দৃস্টিহীনতা বা রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্তের বিষয়টি ধরা পরে।

জন্মের একদিন পর ডাক্তারের পরামর্শে ইফতিকে বাংলাদেশ আই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর ইফতি ও তার মায়ের শরীরে রুবেরা ভাইরাস ধরা পরে। দীর্ঘ দেড় বছর সেখানে চিকিৎসা করানোর পর অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় বাবা-মা তাদের ছোট্ট ইফ্তিকে নিয়ে যায় ইসলামী আই হাসপাতালে।সেখানে ডা. আমিরুজ্জামান ইফতির পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তার চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন।কিন্তু তার পরামর্শ বাবা-মার ব্যাকুল হৃদয়কে নাড়া দিতে পারেনি। তাই তারা চলে যান সালাউদ্দিন হাসপাতালের ডা. প্রদীপ রঞ্চন সেনের কাছে। ডা. সেনও ইফতির চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন।

এর পরও বাবা-মা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না ছোট্ট ইফতির চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের বিষয়টি।তারা তাদের আদরের এ অবুঝ শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাবার কথা ভাবেন।নিজেদের জমানো কিছু অর্থ আর আত্মীয় স্বজনের সহযোগিতায় তারা ২০১২ সালে ৩০ আগস্ট ইফতিকে নিয়ে ভারতের চেন্নাই সংকর নেত্রালয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসার পর ইফতিকে ৩ মাসের ওষধ-পথ্য দিয়ে দেশে পাটিয়ে দেয় ও তিন মাসের কোর্স শেষ হবার পর আবারো ইফতিকে নিয়ে চেন্নাই সংকর নেত্রালয়ে আসতে বলেন। ইফতির বাবা জামাল আহমেদ জানান, চেন্নাই সংকর নেত্রালয়ের চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নেয়ায় বর্তমানে ইফ্তির চোখের অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে।চোখের কর্নিয়ার দ্রুত নড়াচড়াটা আগের থেকে অনেক কমে গেছে।তাকে আবার শিঘ্রই নিয়ে যেতে হবে চেন্নাই।

কিন্তু সেখানে যেতে হলে চিকিৎসা খরচসহ এখন তার কম করে হলেও ৫ লাখ টাকার দরকার। কিন্তু ইন্সুরেন্স কোম্পানির সামান্য বেতনভূক্ত কর্মচারী হয়ে নিজের সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে পড়েছে। তারপর জমানো অর্থ যে টুকু ছিলও তারও ইফতির চিকিৎসায় ইতিমধ্যে খরচ হয়ে গেছে। মেয়ের চিকিৎসার অর্থ খরচ জোগাতে তিনি এখন চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন। তাই ইফতির বাবা মেয়ের চিকিৎসার অর্থ সহযোগিতার জন্য সমাজের বৃত্তশালীদের প্রতি আহমান জানিয়েছেন। ইফতির বাবার ডাচ বাংলা ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোডে -জালাল আহমেদ, হিসাব নং ১২৬ ১০৩ ০০০ ৩০৬৫৪। কেউ কি এগিয়ে আসবেন ছোট্ট এ মেয়েটির চোখের আলো ফিরে পেতে অর্থিক সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে? ইফতির বাবা জালাল আহম্মেদের মোবাইল নং-০১৮১৯৯৫৪৭৫২।