সিরাজদিখানে ধর্ষক এসআই’র ফাঁসির দাবিতে শিক্ষার্থীদের থানা ঘেরাও

ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানার ধর্ষক দারোগার ফাঁসির দাবিতে শিক্ষার্থীরা থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার রাজদিয়া অভয় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা ধর্ষক এসআই জাহিদুল ইসলামের (৪০) ফাঁসির দাবি জানিয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেমের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেন। একই সময় তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাসারের মাধ্যমে জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের বরাবর লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করে। এর আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে সিরাজদিখার থানা ঘেরাও করে। এদিকে, দারোগা কর্তক বাড়িওয়ালার মেয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় মুন্সীগঞ্জে তোলপাড় চলছে। শুক্রবার বিকেলে দারোগা জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে গ্রেপ্তারের পর তাকে সরাসরি জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ওসি আবুল বাসার জানান, তাকে ৭দিনের রিমা- চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. কুদ্দুসুর রহমান সিকদার বলেন, শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. এহসানুল করিম ধর্ষিতার মেডিকেল পরীক্ষা করেছেন। বিকেলে মুন্সীগঞ্জ-১ আমলী আদালতের বিচারক মো. শফিকুল ইসলাম ২২ধারায় ধর্ষিতার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। ধর্ষক দারোগা জাহিদের রিমা- শুনানী আজ রোববার হবে।

সিরাজদিখান থানার ওসি আবুল বাসার আরো জানান, জানান, সকালে রাজদিয়া অভয় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষাথীরা থানা প্রাঙ্গনে এসে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় তারা ধর্ষক পুলিশের এসআই জাহিদুলের ফাঁসির দাবি জানিয়ে একটি লিখিত স্মারকলিপি সিরাজদিখান ইউএনও এবং জেলা পুলিশ সুপার বরাবারে প্রদান করে। এর আগে শুক্রবার তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন জেলা পুলিশ সুপার।
রাজদিয়া অভয় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং ও ধর্ষন প্রতিরোধে পুলিশ দায়িত¦শীল ভূমিকা পালন করে। সেই পুলিশ যদি শিশু ধর্ষনের মতো গুরুতর অপরাধ করে তাহলে মানুষ যাবে কোথায়।


সিরাজদিখান থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম থানা সংলগ্ন রশুনিয়া এলাকায় একটি চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্লাটে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। ভবনের মালিক তথা বাড়িওয়ালা পরিবার-পরিজন নিয়ে চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন। গত ৮ জুন রাতে বাড়িওয়ালা তার ছোট এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে স্বস্ত্রীক ঢাকায় যান। এই সুযোগে ওই রাতে বাড়ি ওয়ালার মেয়েকে ধর্ষণ করে ওই দারোগা।

ওই দিন রাতে বাড়িওয়ালা ঢাকা থেকে ফিরতে পারেননি। এতে তার মেয়ে স্কুল শিক্ষার্থী ওই রাতে এসআই জাহিদুলের স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ধর্ষিতার পরিবার এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানায় গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। গত শুক্রবার বিকেলে সিরাজদিখান থানায় ধর্ষিত স্কুল ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি ডট কম
==================

ধর্ষক এসআইয়ের বিচার দাবিতে সিরাজদিখান থানা ঘেরাও

স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলামের ফাঁসির দাবিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থী।

শনিবার বেলা ১২টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এদিকে, অভিযুক্ত এসআই জাহিদুলকে প্রত্যাহার ও গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানায়, গ্রেফতার হওয়া এসআই জাহিদুলের ফাঁসির দাবিতে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করে থানা ঘেরাও করে। পরে এলাকাবাসী ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে স্মারকলিপি দেয়।

এ সময় ওসি মো. আবুল বাসার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।

সিরাজদিখান থানার ওসি মো. আবুল বাসার বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এসআই জাহিদুলকে প্রত্যাহার ও গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুন রাতে স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া এক ছাত্রীকে পিস্তলের ভয় দেখিয়ে সিরাজদিখান থানার এসআই জাহিদুল ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে শুক্রবার দুপুরে সিরাজদিখান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম