জাপানে বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত পরিত্যক্ত : শেল অপসারণ

রাহমান মনি
বিশ্বযুদ্ধ সময়কার অবিস্ফোরিত পরিত্যক্ত একটি শেল অপসারণের কাজ সম্পন্ন করেছে জাপান সেলফ ডিফেন্স ফোর্স। ৪ জুন মঙ্গলবার শেলটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়।

৪০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ অবিস্ফোরিত পরিত্যক্ত উক্ত শেলটিকে ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়েছে ১০ সেন্টিমিটার ব্যাস রেখার রিমোট চালিত অপর একটি শেল। পরিত্যক্ত শেলটির পাশে নতুন শেলটি রেখে ১ টন শক্ত বালির বস্তা রেখে দূর থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আর এই জন্য টোকিওর সঙ্গে তোহোকু, জোয়েৎসু শিনকান সেন এবং নাগানো শিনকান সেনসহ ৫টি রুটের মোট ৫৩টি ট্রেন সম্পূর্ণ বা আংশিক বাতিল করতে হয়। এছাড়াও লোকাল লাইন কেইহিন তোহোকু লাইন এবং সোনান শিনজুকু লাইনের ১০৬টি ট্রেন আংশিক বা সম্পূর্ণ বাতিল করতে হয়েছে। আর এই ঘটনার ফলে প্রায় ৯০,০০০ যাত্রী বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন।


জাপান রেলওয়ের তথ্য মোতাবেক বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পরিত্যক্ত যুদ্ধাস্ত্রের কারণে বৃহত্তর টোকিওতে এর আগে কখনো এত বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেনি। কারণ এই জন্য সংশ্লিষ্ট লাইনগুলোতে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। এই সময়টা বেছে নেয়ার কারণ হলো এই সময়টাতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মচঞ্চলতা থাকায় ট্রেন যাত্রীর সংখ্যা কমে যায় এবং সবগুলো রুটে ট্রেনের পরিমাণও কমানো হয়। তার পরও মাত্র ৩ ঘণ্টা বন্ধ রাখার ফলে এই ৭টি রুটে ১৫৯টি ট্রেনে মোট ৯০,০০০ যাত্রী দুর্ভোগ পোহান।
টোকিওর সর্বোউত্তরের সিটি কিতা ওয়ার্ডের একটি নির্মাণাধীন (তাবাতা এবং কামিনাকাজাহতা এলাকার মাঝামাঝি) স্থানে শেলটি গত ৪ মার্চ ৩.৩০ এ পাওয়া যায়। শেলটি বিলুপ্ত ইম্পেরিয়াল জাপানিজ মালিকানাধীন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত শেলটি লক্ষ্যস্থানে বিস্ফোরিত না হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাটির নিচে রয়ে যায়।

জাপানের কনস্ট্রাকশন আইন অনুযায়ী ইমারত তৈরির পূর্বে মাটির নিচটা নির্দিষ্ট স্থান পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়। তারই ধারাবাহিকতা নির্মাণাধীন স্থানে শেলটি পাওয়া যায়। স্থানটি সরকারি মালিকানাধীন থাকায় কোনো জনবসতি ছিল না। ৪ মার্চ ২০১৩ আবিষ্কৃত হওয়ার পর ১০০ মিটার ব্যাসার্ধ এলাকা সংরক্ষিত ঘোষণা করে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ করা হয়। জনবসতি না থাকলেও পাশ দিয়ে এবং উপর দিয়ে ট্রেন অতিক্রম করে।

শেলটি নির্দিষ্ট করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল কিনা সেই ব্যাপারে সরকারি কোনো ঘোষণা না থাকলেও প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ের বলে প্রচার পাচ্ছে। কিতা ওয়ার্ড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন আত্মসমর্পণের পূর্ব পর্যন্ত সামরিক অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ছিল। এখনও সেলফ ডিফেন্স ফোর্সের সদর দপ্তর এই কিতা ওয়ার্ডে অবস্থিত।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক