আশ্রয়ন প্রকল্পের মাটি ভরাট কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি

মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের শিলইয়ে একটি আশ্রয়ন প্রকল্পের মাটি ভরাট কাজে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ১৬৫ মেট্রিক টন গমও গোপনে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিলই ইউনিয়নের বাহের পাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের জন্য ৩২৫ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ করা হয়েছে। ওই প্রকল্পের সভাপতি, শিলই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম লিটনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ। আর এ জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দুদু মিয়াকে প্রকল্প কমিটির সভাপতি করার পরিবর্তে ইউপি চেয়ারম্যান নিজেই এ প্রকল্পের সভাপতি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ-জেলা প্রশাসনের অনুমিত না নিয়ে অবৈধভাবে পদ্মার শাখা নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু মাটি কেটে চেয়ারম্যান প্রকল্প ভরাটের কাজ করছেন।


জানা গেছে, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী (কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের বেহেরপাড়া গ্রামে “বেহেরপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্প” নামের একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মাটি ভরাটসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে ৩২৫ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। সদর উপজেলা বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া এ গম দিয়ে সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়ন পরিষদকে আশ্রায়ন প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু করতে বেহেরপাড়া গ্রামের ৫ একর জমি বালু ভরাট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে শিলই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম লিটন নিজেই এ প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়ে বালু ভরাট কাজ শুরু করেন। বর্তমানে প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে পদ্মার শাখা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু কেটে আশ্রয়ন প্রকল্প ভরাট কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এদিকে এ খবর পেয়ে কতিপয় গণমাধ্যম কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্রায়ন প্রকল্পের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করলে ইউপি চেয়ারম্যান তাদের সঙ্গে টাকা পয়সার লেনদেন করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। শিলই ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য দুদু মিয়া জানান, মাটি ভরাটের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ করলেও গঠিত কমিটিতে তাকে রাখা হয়নি। এতে আমার অধিকার খর্ব করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান নিজের পছন্দের লোক দিয়ে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।


এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি যোগদানের আগেই এ প্রকল্প কাজ শুরু হয়েছে। তবে যেহেতু অভিযোগ উঠছে। তাই সরজমিন গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল জানান, পদ্মার শাখা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু বন্ধ করতে ম্যাজিষ্ট্রেট পাঠানো হবে। সেখানে অনিয়ম করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। তবে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম লিটন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কথা অস্বীকার করে বলেন, সরকারি জায়গা থেকেই(চর বেহেরপাড়া) প্রকল্পের মাটি ভরাট কাজ চলছে। এ কাজে কোন রকম দুর্নীতি করার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন এ কাজের তদারকি করছেন।

তবে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে টাকা পয়সার লেনদেন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি মুঠোফোনে না বলে-এ বিষয়টি সাক্ষাতে আলাপ করতে চান বলে জানান।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি