বর্ষা না আসতেই ফের রাক্ষুসী পদ্মার তান্ডব : ভাঙছে লৌহজংয়ের প্রাচীণ জনপদ

lou5ভাঙন আতঙ্কে নদীতীরের বাসিন্দারা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন
রুবেল ইসলাম: বর্ষা না আসতেই মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ফের শুরু হয়েছে রাক্ষুসী পদ্মার তান্ডব। গোগ্রাসে গিলে খাচ্ছে একের পর এক বসত ভিটা, শত বছরের পুরনো গাছপালা আর ফসলী জমি। সম্প্রতি কয়েক দফা আকষ্মিক ভূমিধ্বসের পর বিপন্ন মাওয়া ফেরীঘাট এলাকায় পদ্মা গিলে ফেলেছিল একের পর এক পাকা সড়ক, রাস্তাঘাট, দোকানপাটসহ বিভিন্ন পাকা স্থাপনা ।এরপরও থামেনি রাক্ষুসী পদ্মার তান্ডব। নিম্নচাপের কারণে গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে পদ্মা উত্তাল হয়ে পড়ায় আঘাত হানে মাওয়া ফেরীঘাট এলাকার আশেপাশের গ্রামগুলোতে। এর ফলে পদ্মায় ধ্বসে পড়ছে একের পর এক প্রাচীণ জনপদগুলো। এতে করে নদী পাড়ের মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া, যশলদিয়া, মাওয়া, দক্ষিণ মেদেনীমণ্ডল ও কুমারভোগ এলাকার হাজারো বাসিন্দা ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন ।
lou5
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে প্রমত্তা পদ্মার ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে উপজেলার মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম। তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার কান্দিপাড়া, দক্ষিণ মেদিনীমন্ডল, উত্তর যশলদিয়া, যশলদিয়া, কুমারভোগ ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামসহ নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। নদীভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অর্ধ সহস্রাধিক পরিবার। প্রমত্তা পদ্মার দফায় দফায় রুদ্রগ্রাসে ইতোমধ্যে এসব এলাকার কয়েকশ’একর ফসলী জমি, বসতভিটা ও শত বছরের গাছপালা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের ভাঙনে সর্বনাশা পদ্মার ভাঙনে বিলীণ হয়ে গেছে মাওয়া ১নং পুরাতন ফেরীঘাটের দক্ষিণ মেদিণীমন্ডল গ্রাম থেকে উত্তর যশলদিয়া গ্রাম পর্যন্ত বির্স্তীণ এলাকা। নদীতীরের এসব এলাকার দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিলীন হয়ে গেছে কান্দিপাড়া গ্রামের জাতীয় পার্টির সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী মরহুম এম কোরবান আলী, কফিল উদ্দিন হাওলাদার, নিজাম হাওলাদার, আইয়ুব আলী মাতবর, মনসুর আলী মাতবর, রুহুল আমীন মাষ্টার, মোসলেম সরদার, আজিম খা, রশিদ খা, নয়ন দর্জি, শেখ সোরহাব, বাচ্চু খলিফা, লতিফ মাঝি, আলেফ মাঝি, তাহের বেপারী, খবির বেপারী বাড়িসহ যশলদিয়া গ্রামের আমির হোসেন মাঝি, সেন্টু খা, শেখ মনির, রতন মোল্লার বসতভিটা মাটি।

ভাঙনের কবলে পড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘড়বাড়ী ভেঙে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে আরো চলে গেছে ৭০/৮০ বছরের পুরনো সাড়ে ৩ শতাধিক কড়ই, আম, সুপারী, নারকেল গাছসহ বির্স্তীর্ণ ফসলী জমি। তীব্র হুমকির মুখে রয়েছে ৪টি গ্রামের ৫শতাধিক বাড়ীঘরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। এ ছাড়াও এখনো তীব্র হুমকির মুখে রয়েছে মাওয়া ফেরীঘাট এলাকার ২৫/৩০টিবাড়ীঘর ও শতাধিক দোকানপাটসহ পুরো এলাকাসহ কুমারভোগ ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের কুমারভোগ ইউপি কমপ্লেক্স ভবন, শিমুলিয়া বাজার ও ভাওয়ার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ।


=====================

লৌহজংয়ের ৫শ’ ঘরবাড়ি পানির নিচে

অবিরাম বর্ষণের ফলে জোয়ারের পানিতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষা মাওয়া, কান্দিপাড়া ও যশলদিয়া গ্রামে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

আশ্রয়ের অভবে নির্ঘুম রাত কাটছে পানিবন্দি ওইসব এলাকার মানুষের। এছাড়া ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষক পরিবারগুলোতে চলছে হাহাকার।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানায়, নিম্নচাপ ও অতিবর্ষণে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাওয়া, কান্দিপাড়া ও যশলদিয়া গ্রামের নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ডুকে পড়ে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ওই তিনটি গ্রামের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার।

এছাড়া যশলদিয়াসহ আশপাশ এলাকায় পদ্মার ভাঙনের তাণ্ডবও অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত ভেঙে চলছে ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

গ্রামবাসীরা জানান, নিম্নচাপ শেষ হয়ে গেলেও পানি কমতির কোনো লক্ষণ নেই। ফলে পানিবন্দি হয়ে এসব পরিবারের মানুষজন এখন মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার আশ্বাস দিয়ে গেছেন বলেও জানান গ্রামবাসী। অন্যদিকে গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে লৌহজং উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে রোপন করা শত শত একর জমির ধান পানিতে ডুবে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, পদ্মার ভাঙন ও পানিবন্দি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮০টি পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদেরকে সরকারি সাহায্যের আওতায় নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অতিবর্ষণে নদী তীরবর্তী একাধিক বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেলেও এখন পানি কমতে শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে।


ভাঙন প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মুন্সীগঞ্জের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, যশলদিয়া গ্রামের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে বরাদ্ধ চাওয়া হয়েছে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
============