গণতন্ত্রের মরীচিকা, মরীচিকার গণতন্ত্র!

ড. মীজানূর রহমান শেলী
যে গণতন্ত্র কাজ করে না, তার সারা সত্তায় বিভ্রম বিরাজ করে। অকার্যকর গণতন্ত্র শিকড়সুদ্ধ মুক্ত সমাজকে বিনাশ করে। এই ব্যবস্থা গণতন্ত্রকে অপব্যবহার করে একে এক সংকীর্ণ চক্রের সেবাদাসে পরিণত করে। ফলে এ ব্যবস্থা ছদ্মবেশী একনায়কত্বে রূপ নেয়, সেই একনায়কত্ব হতে পারে একজনের বা একটি গোষ্ঠীর বা একটি দলের। এই বিকৃত গণতন্ত্রে শাসকগোষ্ঠী চড়া গলায় মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্যের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করে।

প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের ব্যবস্থায় মানবাধিকার ও সাম্যের ভিত্তি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এই বিকৃত ব্যবস্থা জাতীয়তাবাদ ও পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে উঠতে দেয় না এবং গড়ে উঠতে থাকলেও তাকে বাধাগ্রস্ত ও ধ্বংস করে। এই দূষিত ব্যবস্থা বহুত্ববাদ বিলুপ্ত করে, এমনকি রাজনৈতিক দলের মধ্যেও গণতান্ত্রিক মতপার্থক্যের অবকাশ রাখে না।


এ ব্যবস্থার আওতায় গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান উপাদান, সংবিধানসম্মত বিরোধী দলকেও সুবিন্যস্তভাবে দুর্বল করা হয়। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল কূটকৌশল ও বল প্রয়োগ করে রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকা বিরোধী পক্ষকে দমন, পীড়ন ও নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দল আইনসভা, বিচার ও নির্বাহী বিভাগের স্বাধীনতা ও শক্তি খর্ব করে। তাদের দলীয় নয়, দলবাজি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন করে বলহীন ও নির্জীব করে তোলে। এ ধরনের বিকৃত গণতন্ত্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার খোসা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

গণতন্ত্রের আদি লীলাভূমি প্রাচীন গ্রিসে খ্রিস্টপূর্ব কয়েক শতক আগে যে ব্যবস্থা চালু ছিল, তা প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র। এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের ভৌগোলিক পরিসর ও জনসংখ্যা সীমিত ও স্বল্প হওয়ায় সব নাগরিকের পক্ষে সমবেত হয়ে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভবপর হতো। এতে করে সবার পক্ষেই সমানভাবে রাষ্ট্রীয় বিষয়ে অংশগ্রহণ সম্ভব হতো এবং গণতন্ত্রের মূল নির্যাস জনগণের পরিপূর্ণ অংশীদারি বাস্তবায়িত হতো।

পক্ষান্তরে বৃহৎ ও জনবহুল আধুনিক রাষ্ট্রগুলোতে এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবসম্মত নয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রই প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা। কিন্তু প্রতিনিধির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিতে খাদ ও বিকৃতির আশঙ্কা থাকে। পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়ায় নাগরিকের অধিকার আংশিকভাবে ব্যাহত হতে পারে। যেখানে অদূরদর্শী, অক্ষম ও মতলববাজ নেতৃত্ব এই প্রক্রিয়াকে আরো বিকৃত করে, সেখানে রাজনীতি বিকলাঙ্গ ও গণতন্ত্র কক্ষচ্যুত হতে বাধ্য হয়। বৃহৎ প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের কার্যকারিতা সাধারণত গণতন্ত্রের তাৎপর্য ও নির্যাস বোঝার অক্ষমতা থেকেই সৃষ্টি হয়। যখন এ ধরনের বাধা-বিঘ্ন বিশাল আকার ধারণ করে, তখন এ ব্যবস্থার অবক্ষয় ঘটে এবং গণতন্ত্রের বাস্তবতা মায়া-মরীচিকায় রূপান্তরিত হয়, প্রকৃত গণতন্ত্রের বিন্দুমাত্র অবশিষ্ট থাকে না।


গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মূলে রয়েছে মানুষের সাম্য, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতা ও শ্রদ্ধাসহ অন্যান্য চিরন্তন মূল্যবোধ। মৌলিক সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে সাধারণ ঐকমত্যের ওপর ভিত্তি করেই গণতন্ত্রের ভুবন তৈরি হয়। এই ঐকমত্যেরও অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক মাত্রা রয়েছে। এ দুই ক্ষেত্রেই দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করলে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

দূষিত ও বিকৃত গণতন্ত্রকে ‘অনিশ্চিত’ বা ‘অনুদার’ গণতন্ত্র হিসেবেও অভিহিত করা হয়। এ ধরনের বিকৃত গণতন্ত্রে প্রধান রাজনৈতিক নেতারা ও দলগুলো মৌলিক জাতীয় বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে ও সংরক্ষণ করতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে ভিন্নমত সহ্য করারও প্রবণতা থাকে না। ফলে মতাদ্বন্দ্ব ও অনৈক্য দেশ ও জাতিকে বিভক্ত ও ব্যতিব্যস্ত করে। পরিণতিতে রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থনের জন্য গণতান্ত্রিক উপায়ের ওপর নির্ভর না করে প্রকাশ্য অথবা ছদ্মবেশী পন্থায় বলপ্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। ফলে রাজনৈতিক কৌশলগুলো প্রায়ই ছলচাতুরী ও বাহুবলের অগণতান্ত্রিক মিশ্রণে পরিণত হয়। এ অবস্থায় যেনতেন প্রকারে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করাই হয়ে ওঠে রাজনৈতিক দলগুলোর একমাত্র উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। এই রাষ্ট্রক্ষমতা তারা অপব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধিতে, জনগণের কল্যাণে নয়। বিকৃত গণতন্ত্রে তো বটেই, এমনকি সুষ্ঠু গণতন্ত্রেও অনেক সময় নির্বাচন হয়ে ওঠে নিছক ক্ষমতার লড়াই, যাতে বিজয়ী হয় সর্বজয়ী এবং পরাজিত পক্ষ হয়ে পড়ে সর্বস্বান্ত। বিকৃত গণতন্ত্রে পরাজিত বিরোধী দল নিপীড়ন, নির্যাতন ও চরম উপেক্ষার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এই দূষিত প্রক্রিয়ার ফলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়, শাসক শ্রেণীর প্রকৃত শক্তি কমতে থাকে এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নাজুক হয়ে পড়ে।

চক্রশাসনের লৌহ কঠিন আইন
সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আইভরিকোস্ট, জিম্বাবুয়ে ও অন্য যেসব দেশে রাজনৈতিক উন্নয়নের অভাব রয়েছে, সেখানে গোষ্ঠী বা চক্রশাসনের প্রক্রিয়ার প্রাধান্য দেখা গেছে। গণতন্ত্র হিসেবে পরিচয়দানকারী এসব রাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলে প্রতিযোগিতা পরিণত হয়েছে নগ্ন ও স্থূল ক্ষমতার লড়াইয়ে। রবার্টো মিশেল iron law of oligarchy বা চক্রশাসনে লৌহ কঠিন যে আইনের কথা বলেছিলেন, তাই যেন ক্ষমতাসীন দলের বিষয়ে সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ‘আইনে’র ব্যাখ্যায় বলা হয়, সংগঠন গড়া ও রক্ষার স্বার্থে যেসব কারিগরি ও কৌশলগত ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্য প্রয়োজন, তার ফলে একটি গোষ্ঠী বা চক্রের শাসন অনিবার্য হয়ে পড়ে। এর থেকে সহজে মুক্তি মেলে না, এ জন্য একে লৌহ কঠিন বিধানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

রবার্টো মিশেল এ প্রবণতাকে বিশেষভাবে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে প্রবল দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘সংগঠনের কাঠামোর মধ্যেই নিহিত রয়েছে এক কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাচকমণ্ডলীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার অবকাশ দেয়। সংগঠন শব্দটির উচ্চারণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে চক্র বা গোষ্ঠী শাসনের কথা।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঐতিহাসিক বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে প্রতিরোধ ও প্রতিকারের সব ব্যবস্থাই গোষ্ঠী শাসন রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।’ তাঁর মতে, ‘প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের আবরণে গোষ্ঠী বা চক্রের শাসন অবধারিত হয়ে ওঠে।’


সংগঠনের স্বার্থেই ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ অমোঘ হয়ে ওঠে। এর ফলেই মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে ক্ষমতা পুঞ্জীভূত হয়। ‘ওই কয়েকজন তাদের হাতে যে শক্তি ও উপায় রয়েছে তা ব্যবহার করে এই ক্ষমতাকে সংরক্ষিত ও স্থায়ী করার প্রাণপণ চেষ্টা করে।’

মিশেলের ব্যাখ্যা অনুসারে, সংগঠনের জন্য যে আমলাতন্ত্র পরিকল্পিতভাবেই তৈরি হয়, তার মাধ্যমেই নেতারা কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে। পুরস্কার ও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতাও নিয়ন্ত্রণ করেন নেতা ও নেত্রীরা। তাঁরা সেই অনুসারীদেরই পৃষ্ঠপোষকতা করেন, যাঁরা তাঁদের মত ও পথই অন্ধভাবে অনুসরণ করে। ফলে অবশ্যম্ভাবী বলে যাঁরা গড়পরতা মানুষের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক দক্ষতা রাখেন, তাঁরাই নেতৃত্বের আসন দখল করেন। তাঁরা যতই উন্নতি লাভ করেন, ততই তাঁদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে। নেতারা যোগাযোগ ও সম্প্রচারের পথগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সাধারণ সদস্যদের যে তথ্য পাওয়া উচিত নয় বলে তাঁরা মনে করেন, তা গোপন রাখেন। তাঁদের মত ও চিন্তা যে সঠিক তা অনুসারীদের বোঝানোর জন্য নেতারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করেন। এ অবস্থা বেশির ভাগ সমাজের জন্যই সত্য; কর্তৃপক্ষকে মেনে চলার শিক্ষাই জনগণকে দেওয়া হয়। পরিণতিতে অনুসারীরা নিজস্ব উদ্যোগে কোনো কিছু শুরু করে না, তারা বরং নেতা-নেত্রীদের নির্দেশের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকে।


মোহিনী ক্ষমতা, বংশগত উত্তরাধিকার এবং পৃষ্ঠপোষক ও পোষকদের সম্পর্কের বেড়াজাল
যে তথাকথিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিকৃত ও অকার্যকর হয়ে মায়া-মরীচিকায় পরিণত হয়, তার আওতায় গণতন্ত্রের বদলে নির্বাচিত একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। যেসব প্রধান নেতা-নেত্রীর রাজনৈতিক মোহিনী শক্তি থাকে এবং তাঁরা উত্তরাধিকার সূত্রে নেতৃত্বের দাবিদার হন, মরীচিকার গণতন্ত্রে নেতৃত্বের উচ্চ আসন থেকে তাঁরাই ক্ষমতা ও শক্তি উপভোগ করেন। এর ফলে এমন এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের পত্তন ঘটে, যার সহায়-সমর্থন জোগায় অনুগত ও সংকীর্ণ অনুচর গোষ্ঠী বা চক্র, পরিণতিতে গণতান্ত্রিক শাসনের সম্ভাবনা ও সীমানা দারুণভাবে সংকুচিত হয়। রবার্টো মিশেলের ভাষায় তার সহযোগী গোষ্ঠীদের সমর্থিত এই ‘নয়া স্বৈরাচার’ পৃষ্ঠপোষক ও পোষিতদের নিবিড় সম্পর্কের এক বিশাল বেড়াজাল সৃষ্টি করে। এই সম্পর্ক গড়ে তোলা হয় শাসক দল এবং সমাজের ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশের নেতৃস্থানীয় সদস্যদের মধ্যে। এখানে সামাজিক সম্মতি ও ক্ষমতার বৈধতার উৎস স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন নয়, বরং অর্থ, সুযোগ ও ক্ষমতাবানদের দ্বারা সুরক্ষার নিশ্চয়তা। এই সম্পর্কের মূল হচ্ছে সম্পদ ও সুযোগের ওপরে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশের রাজনীতিতে এ ধরনের পৃষ্ঠপোষক ও পোষিতের সম্পর্কের বহুল বিস্তার ও ব্যবহার মতাদর্শ নির্বিশেষে ক্ষমতাসীন দলগুলোর শক্তির ভিত্তি মজবুত করেছে। প্রায় সব রাজনৈতিক দলই যেন নিজ নিজ দলের ওপর আস্থা রাখতে পারে না। তারা মনে করে যে তাদের সদস্য ও সমর্থকরা নয়, বরং সরকারের প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তারা নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য তাদের সফলভাবে সহায়তা করতে পারে। এ জন্যই ক্ষমতায় যাওয়ামাত্র সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষত প্রশাসনকে দলীয়করণের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাসীন দলকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও শক্তিকে ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এ সুযোগের অপব্যবহার করে সরকারি দল তার অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে সুযোগ-সুবিধা বিতরণ করে এবং পোষিতদের কাতার দীর্ঘ করে। বিনিময়ে এ ধরনের পোষিতরা শাসক দলকে ক্ষমতায় থাকার বা ফিরে আসার নিশ্চয়তা দেবে- এটাই আশা করা হয়। এই প্রক্রিয়া খাঁটি মুক্তবাজার অর্থনীতির বিকাশ রোধ করে এবং অপুষ্ট, অসুস্থ বৈষম্যের অর্থনীতির সৃষ্টি করে।

এই বহুমাত্রিক দুষ্ট প্রক্রিয়ার ফলে নির্বাচনভিত্তিক গণতন্ত্র বিকৃত ও বিকলাঙ্গ রূপ ধারণ করে ছদ্মবেশী একনায়কত্ব ও গোষ্ঠী শাসনে পরিণত হয়।
এ আর্থ-রাজনৈতিক বিষচক্রের কবল থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো উপায় আছে কি? সামরিক শাসন, নগ্ন একনায়কত্ব, এমনকি মঙ্গলকামী স্বেচ্ছাচার বা স্বৈরাচারও এই বিকৃত গণতন্ত্রের করালগ্রাস থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে পারবে না, যেমন অতীতেও পারেনি। মুক্তির পথ আসলে নিহিত রয়েছে রাজনীতির মধ্যেই। রাজনৈতিক শ্রেণী, নেতা-নেত্রীরা যদি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে রাজনীতিকে পরিশীলিত করতে এগিয়ে আসেন তাহলেই বিভ্রান্তি, দ্বন্দ্ব ও সংঘাত থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে, মায়া-মরীচিকার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে অকৃত্রিম ও কার্যকর গণতন্ত্র।

লেখক : চিন্তাবিদ, সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিডিআরবি) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
mrshelley43@gmail.com

কালের কন্ঠ