সজলের ‘স্মৃতি’ নিয়েই ফিরতে হলো শৈলীকে

এভারেস্ট থেকে নেমে আসার সময় নিহত সজল খালেদের ব্যাগ, চশমা, মাস্কসহ উদ্ধার হওয়া অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে নেপাল থেকে দেশে ফিরেছেন তার স্ত্রী তাহমিনা খান শৈলী।

রোববার বিকালে শৈলীর ভাই নাসির খান সৈকত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুপুরে শৈলী ঢাকা ফিরেছেন। সজলকে না পেয়ে সে ভেঙ্গে পড়েছে। কারো সঙ্গে কথা বলছে না সে।”

এভারেস্ট চূড়া থেকে ফেরার পথে গত ২০ মে মারা যান চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ খালেদ হোসেন, সজল খালেদ নামেই যিনি পরিচিত।

এদিকে নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (কনস্যুলার) শামীমা চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সজল খালেদের উদ্ধার হওয়া ব্যাগ, চশমা, মাস্ক, চকলেটসহ যাবতীয় সামগ্রী শনিবার বিকেলে কাঠমান্ডুতে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

সজলের মরদেহ উদ্ধারে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। কিন্ত আবহাওয়া চরম খারাপ। এই আবহাওয়ায় উদ্বার অভিযান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে শেরপারা জানিয়েছে।”

আবহাওয়া এতটা বৈরী যে ‘এভারেস্ট ক্লিনিংয়ে’ অংশ নেয়া শেরপারাও চূড়ায় যেতে পারেনি বলে জানান তিনি।

শামীমা বলেন, “তবে আশার কথা হল চুক্তি অনুযায়ী আগামী মৌসুমে শেরপা দল অভিযান চালাবেন।”

ডেথ জোন থেকে সজলের মরদেহ নামিয়ে আনতে দুই দফা অভিযান চালায় সেভেন সামিট ট্র্যাকিং লিমিটেডের ১২ জনের শেরপা দল। এ সময় হিমালয়ের ৮ হাজার ৭৫০ মিটার উচ্চতায় সাউথ সামিটে সজলের ব্যাগ, মাক্স, চশমা খুঁজে পান।

অবশ্য তুষার পাতের কারণে ২৭ মে অভিযান স্থগিত করে ফিরে আসে শেরপা দল।

বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) সদস্য সজল খালেদ পঞ্চম বাংলাদেশি হিসাবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয়ের লক্ষ্যে গত ১১ এপ্রিল নেপালের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

প্রকৌশলের ডিগ্রিধারী সজল খালেদের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।

এর আগে হিমালয়ের মেরা পিক, চুলু ওয়েস্ট ও লান্সিসারি চূড়া জয় করেছিলেন তিনি ।

পর্বতারোহণ নিয়ে এডমন্ড ভিস্টর্সেলের লেখা একটি বইও অনুবাদ করেছেন সজল খালেদ, যার নাম ‘পর্বতের নেশায় অদম্য প্রাণ’।

মুহাম্মদ জাফর ইকবালের রচনা নিয়ে শিশুতোষ চলচ্চিত্র কাজলের দিনরাত্রি পরিচালনা করছিলেন সজল খালেদ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর