বিএনপি-জামায়াতের সাথে এপিপি-এজিপি কি সম্পৃক্ত?

Kholilur_Rahmanমুন্সীগঞ্জের আ’লীগের রাজনীতিতে কোন ভূমিকা না থাকলেও এ সরকারের সময় অনেকেই এপিপি ও এজিপি হয়েছেন। নানা রকমের তদবিরের জোরে অনেকেই এই লোভনীয় পদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে একজন সাবেক ছাত্রদলের নেতা রয়েছেন। গত চারদলীয় জোটের সরকারের সময় যিনি জামায়াতের কোঠায় এজিপি হয়ে ছিলেন এবার আ’লীগের কোঠায় তিনি পুনরায় আবার এজিপি হয়েছেন। এতে মুন্সীগঞ্জবাসী অবাক হয়েছেন। স্থানীয় আ’লীগের ভিতর বিএনপি ও জামায়াতের ভুত চেপে থাকায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তাছাড়া মুন্সীগঞ্জ আদালত পাড়ায় সরকারি এপিপি হয়েও অন্য আইনজীবিকে কৌশলে জামাত শিবিরের মামলায় তদবিরের জন্য উৎসাহ যোগানের অভিযোগ উঠেছে। বিচক্ষণ আইনজীবিদের এপিপি ও এজিপি না করায় এখানে আ’লীগের ভাবমূর্তি মারাতœকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। এছাড়া অনেক এপিপি এ দায়িত্বে থেকে অন্য মামলায় আইনি লড়াইয়ে আদালতে দাঁড়ালে বিচারকরা বিপাকে পড়ছেন। এ রকম বিধি কিংবা নীতি না থাকলেও মুন্সীগঞ্জ আদালত পাড়ায় এসব ঘটনা ঘটছে।

১৮ দলীয় জোট আ’লীগ ক্ষমতায় আসার পর এপিপি হয়েছেন মনিরুজ্জামান কনক, সিরাজুল ইসলাম পল্টু ও আনিসুর রহমান। আর এজিপি হয়েছেন মো. ময়েজউদ্দিন। স্থানীয় ও মাঠ পর্যায়ে আ’লীগের রাজনীতিতে মনিরুজ্জামান কনক ও সিরাজুল ইসলাম পল্টুর কোন ভূমিকা নেই। অথচ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে তারা বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

জেলা জামায়াতের সভাপতির পরিচালনায় একটি কিন্ডার গার্ডেন এখন সিরাজুল ইসলাম পল্টুর বাড়িতে। তার বাড়ি থেকেই এই কিন্ডার গার্ডেনটি জামাত নেতারা পরিচালনা করছেন। আ’লীগের কোঠায় এপিপি হয়ে জামাত নেতাদের বাড়ি ভাড়া দেয়ার বিষয়টি মুন্সীগঞ্জবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাইয়ের ছোট ভাই মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ভাই মহিউদ্দিন কোন কারণে আদালত পাড়ায় আসলে এপিপি সিরাজুল ইসলাম পল্টু জি হুজুরের মতো তার কাছে ছুটে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির প্রতি তার এই দুর্বলতা অনেক কিছুর ইঙ্গিত বহন করে।

অতি সম্প্রতি মিরকাদিম পলিটেকনিকেল কলেজ থেকে ৫ শিবির কর্মিকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলার কৌশলী হচ্ছেন এড.নাজমুল। এড. মজিবুর রহমান জানান, ঘটনার দিন এপিপি এড.মনিরুজ্জামান ও এড.নাজমুল প্রকৃত শিবির কর্মীদের ঘটনা গোপন রেখে তাকে অনুরোধ করেন তাদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে আদালতে উপস্থিত থাকতে। এড. মজিবুর রহমান দাবি করেন, কোন জুনিয়র আইনজীবি মামলার কৌশলী সুবিধা পেতে তাকে অনুরোধ করলে তিনি তা রক্ষা করার চেষ্ঠা করেন। এ কারণে অনেক সময় জুনিয়র আইনজীবিদের ডাকে সাড়া দেই। তিনি বলেন আমি মুক্তিযোদ্ধা। আমাকে আগে জানালে আমি কখনো জেনেশোনে সেইদিনের শিবিরের মামলায় অংশ নিতাম না। এপিপি এড. মনিরুজ্জামান ও এড. নাজমুল শিবিরের মামলার সত্য কথাটি আমাকে না জানিয়ে গোপন রেখে ছিল। এই দুই আইনজীবি সত্য গোপনের মাধ্যমে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এ ঘটনাটি ষড়যন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে বলে তিনি জোড় দাবি করেন। এদিকে সরকারি এপিপি এড.মনিরুজ্জামান কনকের এ ধরণের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে গুনঞ্জন উঠেছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এপিপি মনিরুজ্জামান কনক মুলত জামায়েত ও শিবিরকে সাহায্যে করেেছ বলে অনেকেই মনে করছেন। মনিরুজ্জামান রাজশাহীতে পড়ালেখা করেছেন। রাজশাহী মুলত জামাত-শিবিরের ঘাঁটি। পড়ালেখার সেই সময় তিনি কি কোনভাবে জামাত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন কিনা তা অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে? যদি তা না হয় তবে এতে তার দুর্বলতা কেন? জামাত-শিবিরের মামলায় কেন তিনি আগ বাড়িয়ে ব্যাট করতে চান?

আনিসুর রহমান ছাত্র জীবনে সরকারি হরগঙ্গা কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তার পরিবারের লোকজন মুলত বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত। এ রকম বির্তকিত ব্যক্তি ১৮ দলীয় আ’লীগের জোট সরকারের সময় কিভাবে এপিপি পদ পেলেন তা নিয়ে সকল মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত চারদলীয় বিএনপি সরকারের সময় জামায়েতের কোঠায় মো. ময়েজউদ্দিন এজিপির দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার ১৮ দলীয় আ’লীগের সরকারের সময়ও তিনি আবার এজিপির দায়িত্ব পালন করছেন। রাস্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই পদ তাদেরকে পায়িয়ে দিতে যারা প্রকাশ্যে বা নেপথ্যে সাহায্যে করেছেন তারা কি আ’লীগ করেন নাকি বিএনপি-জামায়েত-শিবির করেন? এই প্রশ্ন মুন্সীগঞ্জবাসীর? বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভেবে দেখবেন কি?

মুন্সীগঞ্জ নিউজ