জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডে বিভক্তি, কার্যক্রমে গতি নেই

দেশ মাতৃকার টানে যারা পাক হানাদার বাহিনী ও স্বদেশীয় রাজাকার আলবদর আলশামসদের বিরুদ্ধে জীবনের মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগে এই স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের জন্ম দিয়েছেন তারাই মুক্তিযোদ্ধা বাঙালী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা। সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন হলো মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল।


মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকারিভাবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীরা আর্থিকভাবে সচ্ছল। কিন্তু বাঙালী জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধারা আর্থিকভাবে সচ্ছল নয়। কতিপয় মুক্তিযোদ্ধাদের এই অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী জোট সেই মুক্তিযোদ্ধাদের নিজেদের পক্ষে টানতে সক্ষম হচ্ছে। যাদের অধিকাংশ দায় পরে মুক্তিযোদ্ধারা রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধের তালিকা স্থান করেছেন নিজের নাম। তারাই আজ যুদ্ধপরাধী জামায়েতে ইসলাম ও বিএনপি জোটের সমর্থিত মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ।

এরা তাদের পক্ষে সমর্থন দিয়ে কাজ করছেন। বিগত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলে স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি মুক্তিযোদ্ধাদের প্যানেল জয়ী হলেও জেলা ইউনিট কমান্ড ও থানা কমান্ডের নির্বাচনী প্যানেলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির প্যানেল সমুহ নিজেদের জয়ী হওয়া নিশ্চিত করতে মুক্তিযোদ্ধা দল ও পরিষদ এর মুক্তিযোদ্ধের নিজেদের প্যানেলে একাধিক পদে মনোনয়ন দেন। মুক্তিযোদ্ধা দলের মুক্তিযোদ্ধারাও সুবিধাজনক প্যানেলে মনোনয়ন নিয়ে নিশ্চিত করেন।


এই সমস্ত প্যানেল সমুহের অধিকাংশই বিজয়ী হন আ’লীগের বিদ্রোহী প্যানেল থেকে প্রার্থীরা। মুক্তিযোদ্ধা দলের মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বিজয়েও মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। বর্তমান সময় যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ এগিয়ে চলছে। জামাত ও বিএনপি কতিপয় নেতা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং বিএনপি জামাত জোট যুদ্ধপরাধীদের বিচার কাজ নস্যাতে নানা ধরণের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করছে। তখন এই চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।

মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট ও থানা কমান্ডে বিএনপি ও জামাত পন্থী মুক্তিযোদ্ধোরা এখন আর কমান্ডের কোন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে না। তারা দলীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নে কাজ করছে। আর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সমুহ অচল করে দেয়ার জন্য নানা ধরনের ফন্দি ফিকির করে যাচ্ছে। এমনতাবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সমূহের কার্যক্রম সচল রেখে যুদ্ধপরাধীদের বিচার কাজ শেষ করার বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সমূহকে সোচ্চার হতে হবে। প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা জেলা ইউনিট ও উপজেলা কমান্ড সমূহের কার্যক্রম পরিচালনায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সরাসরি ভূমিকা রাখতে হবে।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ