হিমালয়ের বুকে শেষ নিদ্রা

sajalnonewsঅজানাকে জানা, অজেয়কে জয় করার বাসনা মানব প্রবৃত্তিরই একটি অংশ। যুগে যুগে তাই দুঃসাহসী অভিযাত্রিক দল ছুটে চলেছেন পৃথিবীর নানা প্রান্তে। দুর্লঙ্ঘকে জয় করার জন্য রেখেছেন জীবন বাজি। কেউ হয়ত বা বিজয়ী হয়েছেন। আবার কেউ বা ঢলে পড়েছেন মৃত্যুর কোলে। কেউ বা হারিয়ে গেছেন যার খবরটুকুও আজও কেউ পায়নি। অনেকে আবার তাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর ঠিক আগেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আবার অনেকেই সফলতার অর্জনের পরও ফিরে আসতে পারেননি। তবুও থেমে নেই অভিযাত্রিক দলের ছুটে চলা। অদম্য স্পৃহা আর দুর্জয় সাহসে ভর করে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও বীরদের দল ছুটে চলেছেন নানান অভিযানে। কখনো বা তারা নৌকা বা জাহাজ ভাসিয়েছিলেন অজানার উদ্দেশে। আবিষ্কার করেছিলেন নতুন নতুন দেশ বা মহাদেশ। কেউ যাচ্ছেন অতল সমুদ্রের গভীরে। আবার কেউবা খনির তলদেশে। কেউ ছুটে চলছেন নতুন নতুন গ্রহ আবিষ্কারের নেশায় পৃথিবীর বাইরে। আবার কেউবা উঠছেন পর্বতের চূড়ায়। অসম্ভবকে সম্ভব করে এই বীর অভিযাত্রিক দল স্বাক্ষর বহন করছেন মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের। বৈরী পরিবেশ আর জীবনের ঝুঁকিও হার মেনেছে দুঃসাহসী অভিযাত্রিক দলের অজেয়কে জয় করার মনোপ্রবৃত্তির কাছে। কাজী নজরুল ইসলাম এই দুঃসাহসী অভিযাত্রিদের জন্যই লিখেছেন :

দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যত।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।

নজরুলের কবিতা দুঃসাহসী অভিযাত্রিক দলের কথাই মনে করিয়ে দেয় বার বার। সভ্যতার ক্রমবিকাশে প্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন নির্ভীক অভিযাত্রীরা। আজ মানুষ নিজ গ্রহ ছাড়ি পাড়ি জমাচ্ছে মহাশূন্য যার অনুপ্রেরণা সেই কলম্বাস, মার্কো পোলো, নীল আমস্ট্রং, এডমুন্ড হিলারি, তেনজিং নোরগেসহ হাজার হাজার দুঃসাহসিক অভিযাত্রিক দল। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞানের যে অগ্রগতি হয়েছে তা মানুষকে দুঃসাহসিক অভিযানে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলেছে। বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এসব অভিযাত্রী দলের অভিযানের সব শেষ অবস্থাও জানা যায় ঘরে বসে। এমন এক অভিযাত্রী ছিলেন বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের অহঙ্কার, তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা সজল খালেদ। তিনি গত ২০ মে সকাল দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া এভারেস্ট জয় করেন। আনন্দের সে সংবাদ ভাগাভাগি করেছিলেন প্রিয়তমা স্ত্রীর সঙ্গেও। তবে, সফল অভিযান করে ফেরার পথে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আটকে গেলেন এভারেস্টের ‘ডেথ জোন’ নামক মৃত্যুপুরীতে। এভারেস্ট থেকে নামার সময় বাংলাদেশের পঞ্চম এভারেস্ট জয়ী সজল খালেদ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। চিরতরে চলে যান না ফেরার দেশে।


পঞ্চম বাংলাদেশী হিসেবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয়ের লক্ষ্যে গত ১০ এপ্রিল নেপালের উদ্দেশে যাত্রা করেন শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘কাজলের দিনরাত্রি’র পরিচালক সজল খালেদ। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এই তরুণ নির্মাতা একই সঙ্গে একজন প্রকৌশলীও। গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তিনি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে মাধ্যমিক ও ১৯৯৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। বিএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন কম্পিউটার সায়েন্সে জার্মানি থেকে। আর মার্স্টাস করেন ফিল্ম স্টাডিজের ওপর। ২০০৪ সাল থেকে তিনি ডকুমেন্টারি ফিল্ম নির্মাতা ও সাংবাদিক কাওসার মাহমুদের অধীনে এ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেন। তিনি কাওসার মাহমুদ একাত্তরের শব্দসেনা ডকুমেন্টারিতে এ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেন। প্রকৌশল ডিগ্রী অর্জন করলেও তার অভিযাত্রি মন ছুটে যেত বার বার পর্বত চূড়ায় আরোহণের অদম্য বাসনা নিবৃত্তি করতে।

তিনি ২০০০ সালেই মাউন্টেনিয়ারিং-এ ট্রেনিং নেন। তিনি নেপাল ও দার্জিলিংয়ের অনেক মাউন্টেনিয়ারিং প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। তিনি উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরাতন মাউন্টেনিয়ারিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হিমালয়ান মাউন্টারিং ইনস্টিটিউটের একজন এ্যালামনিও ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ মাউন্টিরিং এ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাব (বিএমটিসি) এর সদস্য ছিলেন। এভারেস্ট জয়ের আগে তিনি হিমালয়ের মেরা পিক, চুলু ওয়েস্ট ও লান্সিসারি চূড়া জয় করেছিলেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে তিনি অন্নপূর্ণা অভিযানেও যান। ২০০৬ সালে তিনি ফ্রে মাউন্ট জয় করেন। মাকালু জয় করেন ২০০৯ সালে। ২০১০ সালে হিমালয় বাংলাদেশ-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ পিক জয় করেন। সিন্ধু চুলু মাউন্ট জয় করেন ২০১১ সালে। শুধু পর্বতারোহণের মধ্যেই তাঁর অভিযাত্রিক মন সীমাবদ্ধ থাকেনি। পর্বতারোহণের রোমাঞ্চকর কাহিনী মানুষের কাছে তুলে ধরতে লেখালেখিও শুরু করেন। তিনি পর্বতারোহণ নিয়ে এডমন্ড ভিস্টর্সেলের লেখা একটি বই অনুবাদ করেছেন, যার নাম ‘পর্বতের নেশায় অদম্য প্রাণ’। বইটি এবারের একুশে বই মেলায় প্রকাশিত হয়। দুঃসাহসী অভিযাত্রী খালেদের স্ত্রী তাহমিনা খান শৈলী। খালেদ আর শৈলীর একমাত্র ছেলে সুস্মিতের বয়স আড়াই বছর। এবারের এভারেস্ট জয় ছিল তার দ্বিতীয় প্রচেষ্টার ফল। এর আগেও তিনি এভারেস্ট জয় করার চেষ্টা করেছিলেন।

এভারেস্টের ২৪ হাজার ফুট পর্যন্ত আরোহণ করলেও সেবার বৈরী পরিবেশ তাকে এভারেস্ট বিজয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি। তাই তো তিনি আবার পাড়ি জমান নেপালে। তার এই মাউন্ট এভারেস্ট জয়ে স্পন্সর ছিল দেশ টিভি আর কর্ণফুলী লিমিটেড। হিমালয়ান গাইড প্রাইভেট লিমিটেডের সহায়তা নেন তিনি। এবার তাকে এভারেস্ট বিজয় করতেই হবে। তার দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কাছে হার মানে এভারেস্ট। সকল প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে পঞ্চম বাংলাদেশী হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় তুলে ধরেন বাংলাদেশের পতাকা। বিজয়ের আনন্দে উদ্ভাসিত এই দুঃসাহসিক অভিযাত্রী বিজয় অভিযান শেষে যখন নেমে আসছিলেন এভারেস্টের চূড়া থেকে তখন ডেথ জোন নামক এভারেস্টের ভয়াল মৃত্যুকূপের থাবা থেকে তিনি রেহাই পেতে পারেননি। তার কাছে পূর্ণ অক্সিজেন ছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে উচ্চতাজনিত অসুস্থতা ও প্রচ- ঠা-ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। যার ফলে অকালেই ঝরে যায় একটি তাজা প্রাণ।

নেপালের বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি মো. মঈনুল হোসেন জানান যে, সরকার সজল খালেদের মরদেহ গ্রহণ ও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার আগ পর্যন্ত যাবতীয় খরচ বহন করবে। মরদেহ উদ্ধারের কাজে সরকারের প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন টাকা খরচ হবে। খালেদের মরদেহ নিয়ে আনার জন্য নেপাল ট্যুরিজম মিনিস্ট্রি, বাংলাদেশ এ্যাম্বেসি এবং সেভেন সামিট ট্রেকিং লিমিটেড ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। সেভেন সামিট ট্রেকিং লিমিটেড ইতোমধ্যে বারোজনের একদল শেরপাকে খালেদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য নিয়োগ দিয়েছে। এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী সেভেন সামিট উদ্ধারকার্যের ভিডিও ফুটেজ পাঠাচ্ছে। তারা এভারেস্টের চূড়া থেকে সাত শ’ ফুট নিচে সজল খালেদের ব্যাগ খুঁজে পেয়েছে। মরদেহ খোঁজার জন্য তারা স্যাটেলাইট টেকনোলজি ব্যবহার করছে। কিন্তু তারা মরদেহ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। তারা মনে করছে সজল খালেদের মৃতদেহ বরফে ঢাকা পড়ে গেছে। সজলের মরদেহ খুঁজে না পেয়ে শেরপারা ক্যাম্প ফোর থেকে ক্যাম্প টুতে ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ এ্যাম্বেসি প্রত্যাশা করেছিল যে শেরপার দল ৩১ মের মধ্যে সজল খালেদের লাশ কাঠমন্ডুতে নিয়ে আসতে পারবে। আরোহণের মৌসুম ৩১ মের মধ্যে শেষ হলেও নেপালী সরকার সজলের মরদেহ খোঁজার জন্য জুনের ৫ তারিখ পর্যন্ত সময় অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ এ্যাম্বেসি বিভিন্ন সামিট গ্রুপের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করে যাচ্ছে। নেপাল সরকারও এই ব্যাপারে যথেষ্ট সহায়তা করছে। কিন্তু কোন কূল কিনারা করা যাচ্ছে না। যদি এই মৌসুমে খোঁজা সম্ভব না হয় তবে আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চের সেশনে আবার খোঁজা হবে। সজল খালেদের মরদেহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তা তার পুরো পরিবারকে ঠেলে দিয়েছে দুঃখের অথৈ সাগরে।

দীর্ঘ অভিযানে এমনিতেই ক্লান্তি অভিযাত্রিকদের ঘিরে ধরে তার মধ্যে ডেথজোনের বৈরী পরিবেশ অভিযাত্রিকদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেয়। এই ডেথজোনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অনেক অভিযাত্রী। এই বছরই খালেদ ও সুং ছাড়াও আরো পাঁচজন অভিযাত্রী ডেথজোনে প্রাণ হারান। আট হাজার ফুটের পর থেকেই এভারেস্টের এই মৃত্যুপুরী প্রতিবছরই কেড়ে নিচ্ছে অনেক দুঃসাহসিক অভিযাত্রীর প্রাণ। পর্বতারোহণের মৌসুমের শুরুতেই অভিযানের অন্যতম সদস্য আইসফল ডক্টর নামে খ্যাত মিঙমার শেরপা পর্বতারোহণের রুট ঠিক করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যর নির্মম পরিহাস যে তিনিও মারা যান। তাছাড়া দারিতা শেরপা নামে আরেকজন এই রুটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। বাণিজ্যিক গাইড লবসাঙ শেরপা ও রুশ পর্বতারোহী অ্যালেক্স বলোটভের প্রাণও কেড়ে নেয় এভারেস্ট। এভারেস্টে জয়ের মাধ্যমে মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখছে কিন্তু এই এভারেস্টই আবার কেড়ে নিচ্ছে দুঃসাহসী অভিযাত্রীদের প্রাণ।


মাউন্ট এভারেস্ট। নামটা ছোটবেলা থেকেই শুনছি আমরা। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ। উচ্চতা আট হাজার আটশ আটচল্লিশ মিটার। এটি হিমালয় পর্বতমালার একটি অংশ। এশিয়ার নেপাল এবং চীনের সীমানার মধ্যে এর অবস্থান। আকাশের সঙ্গেই যেন এভারেস্টের মিতালি। মেঘ যাকে নিয়ে খেলা করে, সাদা তুষার যার পোশাক আর যেখান থেকে সমগ্র পৃথিবীকে দেখা যায় সেই তো এভারেস্ট। হিমালয় পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট। এভারেস্টের শুভ্রতার মাঝেই ওঁৎপেতে থাকে মৃত্যুর জম। আজ থেকে প্রায় ছয় কোটি বছর আগে জন্ম নেয় এভারেস্ট। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বুড়ো আঙ্গুল দেখায় যেন মানবকুলকে। ১৮০৮ সালে ব্রিটিশরা শুরু করল পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতসমূহের অবস্থান বের করার অভিযান। এর জন্য তারা ‘বৃহৎ ত্রিকোণমিতিক জরিপ’ শুরু করেন। কর্নেল ওয়াহ এর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হলেও তিনি পারলেন না। অবশেষে তিনি শরণাপন্ন হন বাঙালী গণিতবিদ ও জরিপকারক রাধানাথ শিকদারের। তিনি তখন এই জরিপে হাত দেন। ঊননব্বইটি নামহীন পর্বতের হিসাব করতে হবে তাকে। একদিন তিনি পিক-১৫ এর হিসাব কষে বের করলেন ২৯০০২ ফুট ! এটি কাঞ্চনজঙ্ঘার চেয়ে উঁচু। তার মানে পিক-১৫ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থান। রাতারাতি সব দিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে। নাম রাখা হলো মাউন্ট এভারেস্ট। একজন বাঙালী গণিতবিদ ও জরিপকারক রাধানাথ শিকদারের হাত ধরেই আবিষ্কার হলো বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট।
শুরু হলো পর্বত জয় করার মিশন। সকল অদম্য সাহসী পর্বতারোহীরা উঠে পড়ে লেগে গেলেন এভারেস্ট জয় করার জন্য। নানা দেশ থেকে নানা পর্বতারোহী এসে ভিড় জমাতে লাগলেন এভারেস্টের দেশ নেপালে। এভারেস্ট বিজয়ের উন্মত্ততায় অনেক অভিযাত্রীই বিপদসঙ্কুল পর্বতে উঠতে গিয়ে প্রাণ হারান। কিন্তু এতে অন্য অভিযাত্রিকদের উৎসাহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। কেউই থেমে থাকেননি। একের পর এক অভিযান তারা পরিচালনা করেন। এভারেস্ট জয়ের অদম্য বাসনা অভিযাত্রিকদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। ১৯৫৩ সালে এভারেস্ট জয়ের জন্য এডমন্ড হিলারি সুদূর নিউজিল্যান্ড থেকে চলে আসেন নেপালে। খুঁজতে থাকেন একজন সঙ্গী। পেয়েও যান। আর সেই সঙ্গীই ছিলেন নেপালের লোকের কাছে দেবতাতূল্য ‘তেনজিং নোরগে।’ এই দু’জন মিলে শুরু করেন অসম্ভবকে সম্ভব করার মিশন। তাঁরা ১৯৫৩ সালের ২৮ মে রওনা দেন এভারেস্ট জয়ের উদ্দেশে। এর মধ্যে অনেক প্রতিকূলতা, বাধা বিপত্তি না মেনে চলতে থাকেন অবিরাম। সে সুবাদেই ১৯ মে সকাল এগারোটা তিরিশ মিনিটে পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসেবে পা রাখেন এভারেস্টের চূড়ায়। তবে এডমন্ড হিলারিই সবার আগে ওঠেন হিমালয়ে। তখন নোরগে ছিলেন তাঁর চেয়ে মাত্র এক শ’ মিটার নিচে। এরপর নোরগেও এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন। এভাবেই তারা দু’জন জয় করেন অজেয় মাউন্ট এভারেস্টকে। এভারেস্ট জয় করার খবর পেয়ে তাদের সংবর্ধনা দেয়ার জন্য সূদূর লন্ডন থকে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ নেপালে এসে তাঁদের বীর হিসাবে আখ্যায়িত করেন। আর নেপালের সবাই তো তেনজিংকে তাদের দেবতা হিসেবেই মানা শুরু করে। পাঠ্যবইয়েও আছে এডমুন্ড হিলারি আর তেনজিং নোরগের এভারেস্ট জয়ের সেই রোমাঞ্চকর কাহিনী। তাদের এই জয়ের পরে আর থেমে থাকেনি জয়ের ধারা।


হিলারি আর তেনজিংয়ের পথ ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ইতোমধ্যে হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয়ে তাদের নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। গড়েছেন নানান বিস্ময়কর রেকর্ড। ১৯৭৫ সালের ১৬ মে প্রথম নারী হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছার কৃতিত্ব দেখান জাপানের জুনকো তাবেই। ১৯৮০ সালের ২০ আগস্ট ইতালির রেইনহোল্ড মেসনার প্রথম অভিযাত্রী যিনি একা এভারেস্ট জয় করেন। ১৯৯০ সালের ৭ অক্টোবর স্লোভেনিয়ার আন্দ্রেজ ও মারিয়া স্ট্রেমফেলজ প্রথম দম্পতি এভারেস্ট জয় করেন। ১৯৯৮ সালে বিশ্ববাসীকে চমকে দেন যুক্তরাষ্ট্রের টমাস হুইটাকের। একটা কৃত্রিম পা নিয়েও দুর্গম এভারেস্টকে পরাভূত করেন তিনি। ২০০১ সালের ২৫ মে প্রথম অন্ধ ব্যক্তি হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন যুক্তরাষ্ট্রের এরিক ভিয়েনমায়ার। সবচেয়ে বেশি বয়সে এভারেস্ট জয় করেন বাহাদুর শেরচান। ২০০৮ সালের ২৫ মে এভারেস্ট জয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ৭৬ বছর। বাহাদুর শেরচানের এভারেস্ট জয়ের মাত্র তিনদিন আগেই সবচেয়ে কমবয়সে এভারেস্ট জয় করেন জর্ডান রোমেরা নামক কিশোর। এই সময় তার বয়স ছিল মাত্র তেরো বছর। এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশিবার এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছেন নেপালের আপা শেরপা। তিনি এই পর্যন্ত বিশবার এভারেস্ট জয় করেছেন। প্রথম বাঙালী হিসেবে প্রথম এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন দেবাশীষ বিশ্বাস ও বসন্ত সিংহ রায়।


কিন্তু হিমালয়ের কাছাকাছি দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশীদের কাছে হিমালয় চূড়া স্পর্শ করাটা ছিল রীতিমতো স্বপ্নের মতো। তারপরও দীর্ঘদিনের অনুশীলন ও পদে পদে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মুসা ইব্রাহিম ২০১০ সালের ২৪ মে হিমালয়ের সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শ করে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন। ২০১০ সালের ১০ এপ্রিল শুরু হয় তার মূল অভিযান। মুসা ইব্রাহিম সব ধরনের প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব এবং অর্থযোগানদাতাদের সহায়তায় প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এভারেস্ট চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেশের জন্য যেমন গৌরব বয়ে আনেন তেমনি নাম লেখাতে সক্ষম হন হিমালয়কে পরাভূত করা প্রায় বার শ’ দুঃসাহসী পর্বতারোহীর তালিকায়। মুসা ইব্রাহিমের পথ ধরে দ্বিতীয় বাংলাদেশি এম এ মুহিত ২০১১ সালের ২১ শে মে হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে ওড়ান বাংলাদেশের পতাকা। এম এ মুহিত দুবার এভারেস্ট জয় করার গৌরব অর্জন করেন। এমএ মুহিতই এক মাত্র বাঙালী যিনি উত্তর ও দক্ষিণ দুই দিক থেকে এভারেস্ট জয় করেছেন। ২০১২ সালের ১৯ মে নেপালের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নটায় হিমালয়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়েছেন নিশাত মজুমদার। নিশাত মজুমদার প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে হিমালয়ের এভারেস্ট শৃঙ্গ জয়ের ইতিহাসে নিজের নাম লেখান। এর মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলাদেশী আরেক নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন ২৬ মে সকালে স্পর্শ করেন এভারেস্টের সর্বোচ্চ চূড়া। চতুর্থ বাংলাদেশী হিসেবে এই গৌরবের অংশীদার হন ২৯ বছর বয়সী ওয়াসফিয়া। বাংলাদেশের নারীদের এ অভিযানে কৃতিত্ব বিশ্বের অন্য দশটা দেশের পর্বতারোহীর চেয়ে ভিন্নতর। বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ পর্বতের চূড়ায় আরোহণ করার মতো সাফল্য সঙ্গত কারণেই অন্যদের থেকে আলাদা করে মূল্যায়নের দাবি রাখে। পাহাড় মানুষকে কাছে টানে সত্য কিন্তু পাহাড়ে উঠতে চাই প্রবল মানসিক শক্তি। এর সঙ্গে অর্থেরও প্রয়োজন। এভারেস্ট জয় ছিল বাংলাদেশীদের জন্য চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশীরা যে চ্যালেঞ্জ গ্রহণে ও তা বাস্তবায়নে সক্ষম তা পাঁচ বাংলাদেশীর হিমালয় জয়ের মধ্য দিয়ে আবারো প্রমাণিত হয়েছে। এভারেস্ট জয় আমাদের জন্য গর্বের বিষয় হলেও সজল খালেদের মৃত্যু আমাদের এভারেস্ট জয়ের ব্যাপারটিকে নতুন করে ভাবার অবকাশ দিয়েছে।


ডেথ ক্যাম্প সজল খালেদের মতো আরো অনেক অভিযাত্রীর জীবন কেড়ে নিয়েছে। ক্যাম্প থ্রি থেকে থেকে ক্যাম্প ফোরে যাওয়ার সময় অভিযাত্রীগণকে পাড়ি দিতে হয় ‘ডেথ জোন।’ স্থানটা হলো মরণ ফাঁদ। আর এই ডেথজোনে অভিযাত্রীরা আসেন ‘সাউথ কোল’ দিয়ে। আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকলে তারা এই ‘ডেথ জোন’ পাড়ি দেবার জন্য সর্বোচ্চ দুই দিন সময় নেয়। আর আবহাওয়া যদি খারাপ থাকে তাহলে তারা নেমে আসে ক্যাম্প থ্রিতে। সজল খালিদ সফলভাবে ডেথ জোন অতিক্রম করে এভারেস্টের চূড়ায় উঠলেও নামার সময় এই ডেথজোনই কেড়ে নেয় সজল খালিদের জীবন। হিমালয় দূর থেকে দেখতে যতটা না সুন্দর কাছ থেকে ততটাই নির্মম তার পথ। আট হাজার মিটার উপরে থেকে শুরু হয় আসল ডেথ জোন। কেননা আট হাজার মিটার উঁচুতে পরিবেশ এতটাই প্রতিকূল অবস্থান নেয় যে সেখানে অবস্থান করাটা অনেক কষ্টকর। শূন্য ডিগ্রীর নিচে তাপমাত্রা, তুষারপাত, বরফের ফাঁদ, পিচ্ছিল বরফ থেকে পড়ে যাওয়াসহ অনেক প্রতিকূলতা অভিযাত্রীদের জন্য হয়ে দাঁড়ায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া উচ্চতাজনিত চাপ তো আছেই। ভূপৃষ্ঠের থেকে যত উপরে ওঠা যায় চাপ তত বাড়তে থাকে। দেহে চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তের চাপও বেড়ে যায়। আমাদের দেহের স্বাভাবিক নাড়ীর স্পন্দন হলো মিনিটে ৭৬ বার। যখন অভিযাত্রীগণ বেস ক্যাম্পে থাকেন তখন তাদের গড় স্পন্দন থাকে ৮০ বারের মতো। কিন্তু ৮ হাজার মিটার ওপর থেকে এই স্পন্দন বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫-১০০ বার পর্যন্ত ! তাহলে চিন্তা করুন কতটা সমস্যা ও জীবনের ঝুঁকিতে পড়তে হয় অভিযাত্রীদের। তার ওপরে আবার শূন্য ডিগ্রীর নিচে তাপমাত্রা, তুষার পাত, বরফের ফাঁদ, পিচ্ছিল বরফ থেকে পড়ে যাওয়াসহ অনেক প্রতিকূল অবস্থা বিরাজমান থাকে। জীবন হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ। তা সত্ত্বেও জীবনের মায়া না করে অভিযাত্রিকরা চলতে থাকেন অবিরাম এভারেস্ট জয় করার অদম্য বাসনা পূরণে।

খুম্বু আইসফল পাড় হতে গেলে পদে পদে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয়। এভারেস্টের সবচেয়ে ভয়ানক স্থান এটি। এই স্থান এতটাই বিপদাসঙ্কুল যে এভারেস্টে যত প্রাণহানি ঘটেছে তার ৮০ ভাগই ঘটেছে এখানে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে প্রায় ৫০ ভাগ নিহতদের লাশ এখান থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই অংশটুকু পার হওয়া অভিযাত্রীদের জন্য পুলসেরাত পার হবার মতো। এমন ভঙ্গুর স্থান হিমালয়ের আর কোথাও নেই। বরফের পাত, গভীর খাদ, পরিবেশগত আবহাওয়া, শূন্য ডিগ্রীর নিচে তাপমাত্রা সব মিলিয়ে এ যেন এক মৃত্যুপুরী।একটু অসাবধান হলেই সেখানে নিশ্চিত মৃত্যু। কেবল এই স্থানেই ১৯৯৬ সালের ১১ মে ১৯ জন অভিযাত্রী প্রাণ হারান। এটাই এভারেস্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। আর স্বপ্নের এভারেস্ট জয় করতে হলে এই মৃত্যুপুরী পার হয়ে যাওয়া ছাড়া কোন পথ নেই। আর এই মৃত্যুপুরী পার হতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছেন অনেক অভিযাত্রী। এভারেস্ট জয় হয়ে গেছে। হয়েছে নানা রকম রেকর্ড। এভারেস্ট জয়ে আর তেমন কোন বিশেষত্ব নেই। মানবজাতি যে অজেয়কে জয় করতে পারে তা হাজারেরও বেশি অভিযাত্রী প্রমাণ করে দিয়েছেন। এই বছরেই তেনজিং নোরগে ও এডমুন্ড হিলারির এভারেস্ট জয়ের ষাটতম বার্ষিকীতে তিন শ’ অভিযাত্রী এভারেস্ট চূড়ায় উঠেছেন। সারাবিশ্বজুড়ে এভারেস্ট জয়ের ষাটতম বার্ষিকী পালিত হলেও বাংলাদেশ সজল খালেদের মৃত্যুর কারণে এই উৎসব না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এভাবে এক তাজা প্রাণের অকাল প্রয়াণ মেনে নেয়া কষ্টকর। তাই সময় এসেছে এভারেস্টের বৈরী পরিবেশে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে এভারেস্ট জয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে।

এভারেস্ট বিজয় যে এখন খুবই সাধারণ একটি বিষয় হিসেবে পরিণত হয়েছে সেই সম্পর্কে মন্তব্য করেন পাঁচবার এভারেস্টজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের জেক নরটন। তিনি আরও বলেন, ‘এভারেস্টকে আমার আর বিশেষ কোন স্থান মনে হয় না। কারণ অন্য পাঁচটা ব্যস্ত এলাকার মতোই সেখানে এখন মানুষ গিজগিজ করে।’ কয়েক বছর ধরে বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়াটি বিজয়ের ‘হিড়িক’ পড়ে যাওয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেছেন। জয়ীদের তালিকায় কেবল পুরুষই নয়, রয়েছেন নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরাও। আরোহীদের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করা ব্রিটিশ নাগরিক কেনটন কুল বলেন, ‘হিলারি ও নোরগে যখন এভারেস্টে যান, তখন তাঁরা সম্পূর্ণ অচেনা এক জগতের খোঁজে ছিলেন। এখন কিন্তু বিষয়টি আর তেমন নেই। এমনকি আরোহীদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন স্থানে স্থায়ীভাবে দড়ি ও মই লাগানো রয়েছে।’ ১৯৫৩ সালে হিলারি ও নোরগের এভারেস্ট জয়ের পর পুরো বিশ্বেই আলোড়ন উঠেছিল। রোমেরো মাত্র তেরো বছর বয়সে এভারেস্ট জয় করার পর তার নিজ দেশের পত্রপত্রিকায়ও তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। সবচেয়ে কম বয়সী ভারতীয় হিসেবে এভারেস্ট জয় করা ষোলো বছর বয়সী অর্জুন বাজপেয়িকে নিয়েও তেমন মাতামাতি হয়নি। এটাই প্রমাণ করে যে এভারেস্ট জয়ে আর তেমন বিশেষ আকর্ষণ নেই। আমাদের দেশে মুসা ইব্রাহিম, এমএ মুহিত, নিশাত মজুমদার, ওয়াসফিয়া নাজরীনের এভারেস্ট জয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। কারণ বাংলাদেশীদের মধ্যে তারাই পরপর তিন বছর এভারেস্ট জয় করেন। তাদের এভারেস্ট জয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই এভারেস্ট জয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, নিচ্ছে প্রশিক্ষণ কিন্তু সজল খালিদের মৃত্যু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আরও মানুষের এভারেস্ট বিজয়ের যৌক্তিকতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে এখন। হয়ত বলা হবে, এটি একটি দুর্ঘটনা। এভারেস্টের বৈরী পরিবেশে যে কোন সময়ই দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেহেতু এভারেস্ট জয়ে আর তেমন বিশেষ কিছু নেই তাই এভারেস্ট জয়ের জন্য মাউন্টেনারদের প্রেরণের ব্যাপারে ভাবার মতো বা সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় হয়েছে। হয়ত অনেকেই বলবেন বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিযাত্রীরাও দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুকূপে ঢলে পড়লেও তো তারা এভারেস্ট জয়ের অভিযান থামায়নি। এক্ষেত্রে বলা বাহুল্য আমাদের দেশের সঙ্গে অন্য কোনো দেশের তুলনা করা ঠিক হবে না আর্থ-সামাজিক কারণসহ নানা কারণেই। তাছাড়া এভারেস্ট জয়ের জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয় যা আমাদের মতো দেশের মানুষের জন্য বিলাসিতা। এভারেস্ট এখন আর অজেয় নয়। এভারেস্টে ওঠার জন্য আর কোন প্রাণের ঝুঁকি নেয়া ঠিক কিনা তা নিয়ে ভাবার এখনই সময়।

জনকন্ঠ