বিদেশে যাওয়ার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা

বাপের বাড়ির লোকজন স্বামীর বিদেশে যাওয়ার জন্য সময়মতো টাকা দিতে না পারায় স্বামীর হাতে নিহত নববধূ লিয়া আক্তারের (১৯) মরদেহ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়েছে। হত্যার দুদিন পর বুধবার বিকালে গজারিয়া উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে গত সোমবার বিকালে গজারিয়ার চর পাতালিয়া গ্রামে লিয়াকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর স্বামী ও স্বামীর বাড়ির লোকজন বাড়িঘর ফেলে পালিয়ে যায়। এ বছরের জানুয়ারিতে গজারিয়া উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের জাকিরের হোসেনের মেয়ে লিয়া আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার চর পাতালিয়া গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে আমির হোসেনের বিয়ে হয়।

বুধবার দুপুরে হাসপাতাল মর্গে নিহতের স্বজনরা জানান, আমিরের সঙ্গে লিয়াকে পারিবারিকভাবে অনুষ্ঠান করে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় লিয়ার বাবা ছেলেকে নগদ ২ লাখ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্র দেন। বিয়ের সময় বলা হয় ছেলে চাকরি করে। কিন্তু পরে জানা যায়, ছেলে বেকার। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি দেখা দেয়। এরই মধ্যে জামাই আমির বিদেশে যাওয়ার জন্য লিয়ার বাবার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করে। এতে লিয়ার বাবা ফসলি জমি তুলে বিক্রির পর টাকা দেবে বলে জানান। কিন্তু এতে আমির অধৈর্য হয়ে পড়ে। স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালায়। সোমবার স্বামী ও স্বামীর বাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে। পরে লিয়াকে হত্যা করে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে গজারিয়া থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ হতো। লিয়াকে হত্যা করা হয়েছে নাকি সে আত্মহত্যা করেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তা জানা যাবে।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা ডা. এহসানুল হক বলেন, মযনাতদন্তের আলামত হিসেবে আত্মহত্যা ও টর্চার দুটোই রয়েছে। আগে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে সে হয়তো আত্মহত্যা করেছে।

জাস্ট নিউজ