সজলের মরদেহ উদ্ধারে শঙ্কা!

sajalnonewsদেশের সাহসী সন্তান মোহাম্মদ খালেদ হোসেন (সজল খালেদ) সত্যিই এক অভাগা। আরেক অভাগা বাংলাদেশ। কারণ কঠোর অনুশীলন শেষে দ্বিতীয় দফায় চেষ্টার পরে এভারেস্ট জয় করেও দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। আর তার মরদেহ উদ্ধার ও দেশে নিয়ে আসার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হলেও গতকাল পর্যন্ত মৃতদেহ সন্ধানে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। মৃত্যুর আসল কারণ আঁধারে থেকে যাওয়ার পাশাপাশি লাশ কোথায় আছে তা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশার। সজল তার নিজের তাঁবুতেই মারা গেছেন প্রথমদিকে নেপাল থেকে এ ধরনের সংবাদ জানানো হলেও এখন তা-ও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। পরে মরদেহ উদ্ধারকারী ১২ সদস্যের শেরপা দলের ধারণা ছিল মৃতদেহ বরফে ঢেকে থাকতে পারে। কিন্তু বরফে সম্পূর্ণ না ঢাকা অবস্থায় সজলের ব্যাগ ও মাস্ক উদ্ধারের পরে এ ধরনের সম্ভাব্যতা নিয়েও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এখন নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস থেকে বলা হচ্ছে রশির যে আংটা ও বেল্ট শরীরের সঙ্গে বাঁধা ছিল (লাইফলাইন), সেটি খুলে গিয়ে সজলের মরদেহ অন্য কোথাও গিয়ে সটকে পড়তে পারে। আর এ ধরনের ঘটনা ঘটলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে সজলের মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েই সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।


সজলের মরদেহ উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে গতকাল মঙ্গলবার নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস থেকে তেমন কিছুই জানানো হয়নি। তবে সজল খালেদের শ্যালক নাসির খান সৈকত গতকাল সন্ধ্যায় আমাদের অর্থনীতিকে জানান, গত সোমবার তার বোন শৈলীও (সজলের স্ত্রী) কাঠমান্ডুতে গেছেন। এছাড়া আগে থেকেই সজলের ২ বন্ধু রাজীব ও বাবু কাঠমান্ডুতে আছেন। গতকাল শৈলী, রাজীব বা বাবু কিংবা নেপালের দূতাবাস থেকে মরদেহ উদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে সজলের পরিবারকে তেমন কিছুই জানানো হয়নি। তবে শুধু জানানো হয়েছে শেরপা দল বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান তেমন এগিয়ে নিতে পারছে না।

এদিকে, গত শনিবার উদ্ধার অভিযান শুরু করে সোমবার পর্যন্ত সজলের মরদেহ সন্ধানে কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি ব্যাকআপসহ ১২ সদস্যের শেরপা দল। রোববার হিমালয়ের ৮ হাজার ৭৫০ মিটার উচ্চতায় ডেথ জোনে থাকা সাউথ সামিটে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক অভিযান চালিয়ে সজল খালেদের ব্যাগের সন্ধান পায় দলটি। পরদিন পাওয়া যায় সজলের ব্যবহƒত দুটি মাস্ক। কিন্তু ওইদিনই বৈরী আবহাওয়ার কারণে মরদেহ উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করে শেরপা দল।

তবে আগামী ৩১ মে এভারেস্ট অভিযানের চলতি মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সজলের মরদেহ উদ্ধারে অভিযান আরও কিছুদিন চলবে বলে জানিয়েছেন নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের কনস্যুলার শামীমা চৌধুরী। তিনি জানান, সজলের লাশ খোঁজার জন্য নেপালি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগামী ৫ জুন পর্যন্ত সময় নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলে অথবা কোনো খবর পাওয়া গেলে শেরপারা আবারো সেখানে অভিযান চালাবেন।

উদ্ধার অভিযান সাময়িক স্থগিত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সজলের মরদেহের সন্ধানে শেরপারা সোমবার সকালে দ্বিতীয় দফায় এভারেস্টের সাউথ সামিটে ওঠেন। কিন্তু তারা সেখানে তার লাশ খুঁজে পাননি। তাছাড়া সেখানে প্রচণ্ড তুষারপাত হচ্ছে। এ কারণে শেরপারা বেইজ ক্যাম্প-৪ এ ফিরে আসতে বাধ্য হন।

প্রসঙ্গত, এভারেস্ট জয় শেষে ফেরার পথে গত ২০ মে মারা যান ৩৫ বছর বয়সী তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা সজল খালেদ। প্রকৌশল ডিগ্রিধারী মুন্সীগঞ্জের ছেলে সজলের মরদেহ উদ্ধার ও তা দেশে আনতে অর্থসহ সব ধরনের সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযানে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যয়ভার বহন করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ অভিযান নিয়ে গত শুক্রবার একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

আমাদের সময়