খালেদা জিয়াকে সোজা পথে আসতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

shমোজাম্মেল হোসেন সজল: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীতে নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, আমাদের উৎখাত করতে পারবেন না। আপনি (খালেদা জিয়া) গণতন্ত্রের পথে আসুন, সোজা পথে চলুন। নইলে আপনারা আর ক্ষমতায় আসতে পারবেন না। অগণতান্ত্রিক ও অসাংবাধিক পন্থায় এ দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না, সরকার গঠন হবে না। সময়মতো অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে।

মঙ্গলবার বিকালে মাওয়া চৌরাস্তা সংলগ্ন কুমারভোগ সেতু প্রকল্প এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, আগামীতে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। আমরা বিএনপির মতো লুটপাট করতে ক্ষমতায় আসিনি। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কালো টাকা সাদা করেছেন, দুর্নীতি করেছেন। ছেলের দুর্নীতির টাকা ঠেকাতে সিঙ্গাপুরে ছুটে গেছেন। কিন্তু তারপরও রক্ষা করতে পারেননি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিযে বলেছিলেন, মহাজোট সরকারকে উৎখাত ও আমাকে দেশ থেকে পালানোর সময় দেবেন না। কিন্তু সে আল্টিমেটাম দিয়ে বিরোধী নেত্রী এখন নিজেই পথহারা পথিক হয়ে গেছেন, পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।
sh
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াত যুদ্ধাপরাধী দল। তারা আমার মা-বোনদের পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছিল। এখন সে জামায়াতি ও হেফাজত দিয়ে মানুষ-পুলিশ খুন করে আমাদের উৎখাত করতে চাইছে। কিন্তু বিরোধী নেত্রীর সে আশা পূরণ হবে না। আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন, জনগণের সেবা ও কাজ করে। একটা জাতিকে উন্নত করার জন্য যা দরকার আমরা তা করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ’৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের কাজ শুরু করলাম। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দিল। তাদের আশঙ্কা ছিল কমিউনিটি হেলথ ক্যাম্প হলে মা-বোনেরা ঘরে বসে চিকিৎসা সেবা পাবে। বয়স্ক-বিধবা ভাতা আমরা শুরু করেছি। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমরা ব্যাপক উন্নতি করেছি। ১ লাখ ১৬ হাজার স্নাতক পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা সহায়তামূলক শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হয়েছে। এখন আর বাবা-মাকে পয়সা খরচ করতে হয় না। আগে বর্গাচাষিরা ঋণ পেতো না। ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর কোনো রকম জামানত ছাড়া তাদের ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফকির মো. আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল আলম লেলিন, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটন, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, কেন্দ্রীয় কমিটির যগ্ম সাধারণ মাহবুব-উল আলম হানিফ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলী, সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, আওযামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, মাহবুবউদ্দিন বীরবিক্রম, ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা এমপি ও মমতাজ বেগম।


মুন্সীগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শিগগির শুরু হচ্ছে। এবার বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করেছি। নিজস্ব অর্থায়নে আমরা মাওয়ায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করবো। ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। নদী ভাঙন রোধের জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। মেরিন টেকনোলজি স্থাপন করেছি। আলু বীজ হিমাগার নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হযেছে। বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র আমরা করেছি। গজারিয়ায় ওষুধ ও শিল্প পার্ক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু বিএনপি এসব উন্নয়নে নেই। তাদের কাজ মানুষ খুন করা, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস করা। জাতীয় নেতাদের হত্যা করে যারা ক্ষমতায় এসেছিল- তারা এখন নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সময় দেশে ভোট কারচুপি হয়েছে। আমরা এবার ক্ষমতায় আসার পর ৫ হাজার ৬৪৫টি ইলেকশন করেছি। কোনো রকম ভোট কারচুপি হয়নি। আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। কারণ, গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে তারা ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা করেছে। তারা গ্রেনেড হামলা করে আইভিসহ আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে। আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। অর্থমন্ত্রী কিবরিয়াকে তারা গ্রেনেড দিয়ে হত্যা করেছে। তারা দেশকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম। কিন্তু তারা এ দেশটাকে ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করতে চেয়েছিল। আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে পরিণত করছি।


এর আগে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনসহ মাওয়া নদীবন্দর এলাকায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিআইডব্লিউউটিএর ২৫০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ ও ‘নির্ভীক’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নৌপথ উন্নয়নে ১২ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। নদীগুলোতে দীর্ঘদিন ক্যাপিটাল ড্রেজিং না হওয়ায় পলি জমার কারণে নদীপথ নাব্যতা হারিয়েছে। নদীপথে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রতিবছর ক্যাপিটাল ড্রেজিং করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর আওতায় ইতিমধ্যে ১২টি নদীপথে ড্রেজিং কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ড. শামসুদ্দোহা খন্দকার।

জাস্ট নিউজ
============