সজল খালেদের বাবা জানেন তার ছেলে বীরের বেশে দেশে ফিরে ফিরবে

sajalfatherমৃত্যুর সাতদিন পরেও
আরিফ হোসেন: পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে নেমে আসার সময় সজল খালেদের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও তার বাবা এখনো প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর খবর জানেন না। সাংবাদিকদের আনাগোনার কারনে তিনি জানেন তার ছেলে ইতিমধ্যে এভারেস্ট জয় করেছে। সজল খালেদের মৃত্যুতে তার পরিবারের সবাই যখন শোকে মূহ্যমান তখনও সজল খালেদ বীরের বেশে দেশে ফিরবে এ প্রতিক্ষায় তার বাবা আ: আজিজ (৮২) প্রহর গুনছেন। সজল খালেদের বড় ভাবি মাবিয়া বেগম জানান তার শশুড় আ: আজিজ সাকিদার গুরুতর অসুস্থ্য, ঠিকমত কথা বলতে পারেন না। তাই এখনো পর্যন্ত তাকে খালেদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। সজল খালেদের মরদেহ দেশে আসলে তাকে জানানো হবে। গত কয়েকদিন ধরে সাংবাদিকদের যোগাযোগের কারনে তিনি জানেন তার ছেলে ইতিমধ্যে এভারেষ্ট জয় করেছে। কিন্তু তার পরের সব কিছুই সজল খালেদের বাবা আ: আজিজের অজানা।

রবিবার বিকালে শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়গাও গ্রামে সজল খালেদের বাড়িতে গেলে তার আতœীয়-স্বজনরা জানান, সজল খালেদের পরিবার ঢাকায় বসবাস করলেও প্রায় এক বছর আগে তার বাবা আ: আজিজ স্থায়ী ভাবে গ্রামে বসবাস শুরু করেন। সজল খালেদ এভারেস্টে যাওয়ার আগে বাবার দোয়া নিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। এছাড়া প্রায়ই সজল খালেদ গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসতেন। তার ছোট চাচা তোফাজ্জল হোসেন সাকিদার জানান,এভারেস্টে যাওয়ার আগে সজল পা ছুয়ে সালাম করে বলেছিল চাচা দোয়া করবেন আমি যেন এভারেস্ট জয় করে ফিরে আসতে পারি। সে স্মৃতি মনে করে তিনি হু হু করে কেঁদে উঠেন।

এসময় তোফাজ্জল হোসেন আরো বলেন, সজল খালেদ ৪ ভাই ২ বোনের মধ্যে সবার ছোট। আদমজী ক্যান্টমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এস,এস,সি ও এইচ,এস,সি পাশ করে ভারতের ব্যাঙ্গোলুর থেকে কম্পিউটারে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট ফেডারেশন থেকে ব্ল্যাকবেল্ট অর্জন করে। ছোট বেলা থেকেই খালেদ ভ্রমন পিয়াসু ছিল।

বার বছর আগে সজলের ভাই ফরহাদ ও আট বছর আগে তার মা হাজী সকিনা বেগম মারা যাওয়ার পর তার বাবা বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত উপ পরিচালক আঃ আজিজ মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। এর পর থেকে তিনি ছোট ছেলে সজলকে চোখের আড়াল হতে দিতে চাইতেন না। এমন সময় সজলের মৃত্যুর খবর তার বাবা আ: আজিজকে কিভাবে জানাবেন তা নিয়ে আত্মীয়-স্বজনরা চিন্তিত।