সজল খালেদের মরদেহ উদ্ধারে এভারেস্টে অভিযান শুরু

sajal25পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে অসীম শূন্যতায় পড়ে থাকা মোহাম্মদ খালেদ হোসেনের (সজল খালেদ) মরদেহ নিচে নামিয়ে আনতে অভিযান শুরু করা হয়েছে।

শনিবার সকালে ১০ সদস্যের শেরপা দল বেসক্যাম্প থেকে এ অভিযান শুরু করেন। নেপালের দূতাবাস বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরে রয়েছে।এছাড়া সজল খালেদের পরিবারের পক্ষে নিকটতম কয়েকজন এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃত্ত রয়েছেন।

নেপাল থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে আগামী ৩০/৩১ মে’র মধ্যে সজল খালেদকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর।

আর সজল খালেদের মরদেহ দেশে ফিরে আনতে যাবতীয় খরচ সরকার বহন করছে।এক্ষেত্রে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

সজলের মৃতদেহ এখন হিমালয়ের সাউথ সামিটে ২৮ হাজার ৭৫০ ফুট উচ্চতায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেরপারা সজল খালেদের মৃতদেহকে বেস ক্যাম্প-২ পর্যন্ত নিয়ে এলে সেখান থেকে তা হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডুতে আনা হবে।
sajal25
শুক্রবার নেপাল দূতাবাস থেকে জানানো হয়, শেরপাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শেরপা দলটি শনিবার লাশ নামিয়ে আনতে রওনা দেবে।”

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সরকারি উদ্যোগে সজল খালেদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়ে আসা হবে এমনটাই জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহি:প্রচার অনুবিভাগের মহাপরিচালক শামীম আহসান মোবাইল ফোনে ওইদিন সন্ধ্যায় বাংলানিউজকে বলেন, নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আমরা এ বিষয়ে লিখেছি। তারা কাজ করছে।শিগগিরই সজল খালেদের লাশ ফিরে আনতে সক্ষম হবো।’

আর এ জন্য পুরো খরচ সরকারের পক্ষে বহন করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) সদস্য সজল খালেদ গত সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে এভারেস্ট চূড়ায় ওঠেন। এরপর সাউথ কোলের ওপরে এসে বিকেলে আকস্মিকভাবে মারা যান বলে খবর পাওয়া যায়।

এর আগে ২০১১ সালে তিনি এভারেস্ট অভিযানে গিয়েছিলেন তিব্বত অংশ অর্থাৎ উত্তর দিক দিয়ে।সেবার শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রায় ২৩ হাজার ফুট উচ্চতার ক্যাম্প ওয়ান থেকে তিনি নেমে আসেন। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু পৌঁছান খালেদ। ২৫ এপ্রিল কাঠমান্ডু থেকে এভারেস্টের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

খালেদ এর আগে সিকিমের ফ্রে পর্বত (২০০৬), নেপালের মাকালু (২০০৯), হিমালয়ের বাংলাদেশ-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ পিক (২০১০), অন্নপূর্ণা রেঞ্জের সিংগুচুলি পর্বত (২০১১) জয় করেন।

চলচ্চিত্রকার হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে তিনি তৈরি করেন সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র `কাজলের দিনরাত্রি।`

গত জানুয়ারি মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। পর্বতারোহণ নিয়ে এডমন্ড ভিস্টর্সেলের লেখা একটি বইও অনুবাদ করেছেন সজল খালেদ, যার নাম ‘পর্বতের নেশায় অদম্য প্রাণ’। গত বইমেলায় এটি প্রকাশিত হয়।

সজল খালেদের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।