টঙ্গীবাড়ীতে রান্না ঘরের পানি সেচছেন এক বৃদ্ধা

bidha tongibari 2ব.ম শামীম: হাসমত আরা (৭৫)। নারকেলার আয়চা দিয়ে রাস্তার পাশে বসে পানি সেচছেন। পাশেই তার ছোট রান্নার ঘর। রান্না ঘরের ভিতরে থই থই করছে পানি। এ পানির জন্য সকাল বেলা রান্না করতে পারেনি সে। তাই অনাহারেই থাকতে হয়েছে তাকে। সারাদিন বৃষ্টির পর গতকাল শুকবার বেলা প্রায় ১টায় এক ঝলক সূর্যের আলো দেখা দিয়েছে মধ্য আকাশে। আর এর মধ্যে নিজের রান্না ঘরের পানি সেচে রান্নার আয়োজনে ব্যাস্ত হয়ে পরেছে সে। তার একটি ছবি তুলতেই সে ডেকে নিয়ে গেলো তার ঘরের ভিতরে। ঘর বলতে টঙ্গীবাড়ী হাসাইল সংযোগ সড়কের কাইচমালধা নামক গ্রামের রাস্তার পশ্চিম পাড়ে একচালা কিছু টিন দ্বারা নির্মিত ছোট একটি ঘর। ঘরের মধ্যে ছোট একটা চৌকি। তার বিছনার উপর তখনো পরছিলো একটু আগে হয়ে যাওয়া বৃষ্টির পানি। পুড়ো ঘরটি বৃষ্টির পানিতে ছেয়ে আছে। সে জানালো, সারারাত পলিথিনের কাগজ মুড়ি দিয়ে ঘরের কোনে চুপটি করে বসেছিলো।

গত ৩ দিনের বৃষ্টিতে ঘরের মধ্যে থাকা খাবার সহ অন্যান্য পচঁনশীল দ্রব্য পচাঁর উপক্রম হয়েছে। এগুলো কেমন এক দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কয়েকদিনের অনাহারে অদাহারে বৃষ্টির মধ্যেই তাই সে রান্নার আয়োজনে ব্যাস্ত হয়ে পরেছে। হাসমত আরা জানান, উপজেলার হাসাইল গ্রামে বাড়ি ছিলো তাদের। প্রায় ১২ বছর পূর্বে সর্বনাশা পদ্মা নদী বাড়ি গ্রাস করার পর বিভিন্ন যায়গায় বসতি স্থাপন করে বসবাস করে আসছেন। গত ৩ বছর যাবৎ এ স্থানটিতে বসবাস করছেন। পরিবারে উপর্জন করার মতো তার কেউ নেই। তাই বৃদ্ধ ভাতা আর দশজনের দাণ দিয়েই তার জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। নদী ভাঙ্গনের পর সরকারী আনুদানের টিন দিয়ে ঘর তুলে ঠাই নিয়েছিলেন রাস্তার পাশে। বিগত কয়েক বছরে এগুলো পুড়ানো হয়ে মরিচিকা পড়ে ক্ষত হয়ে পানি পড়তে শুরু করছে। সামনে বর্ষা আসছে। আর তাই বর্ষার অঝর ধারা হতে রক্ষা পেতে এই রির্পোটারকে তার দূর্দশার চিত্র দেখিয়ে সহয্যের জন্য কান্না জুড়ে দিয়েছেন।

bidha tongibari 2