সজল খালেদের মরদেহ আনা হচ্ছে সরকারি উদ্যোগে

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী মোহাম্মদ খালেদ হোসেনের (সজল খালেদ)মরদেহ দেশে ফিরে আনতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সাড়া পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সরকারি উদ্যোগে সজল খালেদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়ে আসা হবে এমনটাই জানানো হয়েছে। সজল খালেদের পরিবার থেকে বিকেলে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে। সন্ধ্যায় পরিবারের পে বিস্তারিত জানানো হবে।

জানা গেছে, এরই মাঝে সজল খালেদকে নিয়ে আসার জন্য নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ, উদ্ধারকর্মী শেরপারাও প্রস্তুত। শুক্রবারই তারা যাত্রা শুরু করবেন তাকে উদ্ধারে। নেপালের বাংলাদেশ হাইকমিশন বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। সরকারের পক্ষে সার্বক্ষণিক যোগাযোগও রাখা হচ্ছে।


এর আগে দুপুরের দিকে সজল খালেদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ‘খালেদের মৃতদেহ আনতে দরকার ৪০ লাখ টাকা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে তার স্ত্রী তাহমিনা খান শৈলী দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহ নিয়ে আসার ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগের প্রত্যাশা করেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে তাকে নিয়ে আসতে দেশের মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তাও চান।

এর আগে গত বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনি সজল খালেদকে দেশে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, পর্বতারোহী সজল খালেদ গত সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে এভারেস্ট চূড়ায় ওঠেন। এরপর সাউথ কোলের ওপরে এসে বিকেলে আকস্মিকভাবে মারা যান বলে খবর পাওয়া যায়। এর আগে ২০১১ সালে তিনি এভারেস্ট অভিযানে গিয়েছিলেন তিব্বত অংশ অর্থাৎ উত্তর দিক দিয়ে। ওই বার শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রায় ২৩ হাজার ফুট উচ্চতার ক্যাম্প ওয়ান থেকে তিনি নেমে আসেন। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু পৌঁছান খালেদ। কাঠমান্ডু থেকে এভারেস্টের উদ্দেশে রওনা হন ২৫ এপ্রিল।

খালেদ এর আগে সিকিমের ফ্রে পর্বত (২০০৬), নেপালের মাকালু (২০০৯), হিমালয়ের বাংলাদেশ-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ পিক (২০১০), অন্নপূর্ণা রেঞ্জের সিংগুচুলি পর্বত (২০১১) জয় করেন।

চলচ্চিত্রকার হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপণ্যাস অবলম্বনে তৈরি করেন সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘কাজলের দিনরাত্রি।’

গত জানুয়ারি মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। গত বইমেলায় পাহাড় নিয়ে তার একটি বইও প্রকাশিত হয়।

সংবাদ২৪